ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভৈরব রেলস্টেশনে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু


ভৈরব রেলস্টেশনে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, তার নাম মরিয়ম বেগম (৩৬)। এটি ঘটেছে শনিবার রাত ১০.১০ মিনিটে রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্ম এলাকায়। ওই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় লোকজন তাকে রেললাইন থেকে তুলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০.৪০ মিনিটে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরিয়ম কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার মাহবুব মিয়ার স্ত্রী। তবে তার বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায়।

রেলওয়ে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টেশনে এক যাত্রীর মোবাইল চুরি নিয়ে রাতে ২ নম্বর প্লাটফর্মে যাত্রীরাসহ পুলিশের জটলা সৃষ্টি হয়েছিল। এ সময় মরিয়ম বেগম রেলস্টেশনে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার জন্য এগারসিন্ধু ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেন আসতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি মানুষের জটলা দেখছিলেন। হঠাৎ করে, ঢাকা-ব্রাক্ষণবাড়িয়ার দিকে চলন্ত তিতাস কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করার সময় ২ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা মরিয়ম বেগম চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনে পড়ে যায়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

এ সময় ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয় এবং অন্য পায়ে গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃতদেহের খবর তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। বর্তমানে লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাঃ মমিনুর রহমান জানান, মরিয়ম বেগমকে হাসপাতালে আনার পর দেখা যায় তার একটি পা বিচ্ছিন্ন এবং অন্য পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও রাত ১০.৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল হাসান জানান, খবর পেয়েছি তিনি ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ দেখতে পান তিনি মারা গেছেন। তার পরিবারকে ঘটনা সম্পর্কে খবর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্বিয়ায় ঐতিহাসিক সফরে জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


সার্বিয়ায় ঐতিহাসিক সফরে জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সার্বিয়ায় প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে গেছেন, যেটি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইউক্রেনে রাশিয়া যে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তার পরে এটিই জেলেনস্কির প্রথম সার্বিয়া সফর।

এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে জোরদার করা, এছাড়া নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা। ইউরোপে মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র সার্বিয়ার অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে এই সফরটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের অফিস মন্ত্রী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে জেলেনস্কি ও সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। বৈঠকের শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন এবং সেখানে তারা বক্তব্য দেবেন।

ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার প্রকাশিত মন্তব্য অনুযায়ী, জেলেনস্কির এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হচ্ছে সার্বিয়াকে রাশিয়ার প্রভাববলয় থেকে মুক্ত করা। এতে বেলগ্রেডের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলা হবে।

তবে, ভুচিচ আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর মতে, সার্বিয়ার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং বর্তমানে যে নীতি রয়েছে সেটিই চালিয়ে যাবে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের প্রতি নিন্দা জানালেও সার্বিয়া মস্কোর বিরুদ্ধে কোন অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। বেলগ্রেডের এই অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়াকে জটিল এবং দীর্ঘায়িত করছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ এম


সড়ক দুর্ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শামসুদ্দীন খান নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব বাজারের কালী মন্দিরের এলাকা সামনে এটি ঘটে।

নিহত শামসুদ্দীন খান নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক বারহাট্টা উপজেলা শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে বাসা থেকে সাজগোজ করে চিরাম ইউনিয়নের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন শামসুদ্দীন খান। তবে, তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পূর্ব বাজারের কালী মন্দির সংলগ্ন মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এসময় শামসুদ্দীন খান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী তরিকুল ইসলাম জানান, "আমি তখন পাশের দোকানে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দুর্ঘটনার শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি, শামসুদ্দীন খান মাটিতে পড়ে আছেন।"

এদিকে ঘটনার আগে শামসুদ্দীন খানকে কালী মন্দির এলাকার একটি বন্ধ দোকানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল এক ভিক্ষুক নারী। তিনি বলেছিলেন, "আমি ওই ব্যক্তির কাছে ভিক্ষা চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন- মা, আজকে আমার কাছে ভাংতি নেই, অন্যদিন দেব।"

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাচালককে হাসপাতালে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, অটোরিকশাটি কীভাবে মূল সড়ক ছেড়ে মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়ল এবং ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যদিও কেউ কেউ বলছে, শামসুদ্দিন খান এই অটোরিকশাটিতে ছিলেন। হঠাৎ অটোরিকশার সামনে একজন ব্যক্তি দৌড় দেওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টা থানার অফির্সাস ইনচার্জ দাম বলেন, "লাশ সুরতহাল করার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।" শামসুদ্দীন খানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাকিব-হৃদয়দের হারিয়ে এলপিএল চ্যাম্পিয়ন গল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ এম


সাকিব-হৃদয়দের হারিয়ে এলপিএল চ্যাম্পিয়ন গল

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) লিগ পর্বে সবার শীর্ষে থেকে ফাইনালে উঠেছিল জাফনা কিংস। বাংলাদেশে সফররত দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয় থাকাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই দলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু শিরোপার প্রতিযোগিতায় গল গ্যালান্টসের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে জাফনাকে।

কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেন চারিথ আসালাঙ্কা এবং এশান মালিঙ্গা। তারা মিলে ৬ উইকেট নিয়ে জাফনাকে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট করেন গল গ্যালান্টস। পরে, তারা ২৫ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে গল গ্যালান্টস প্রথমবারের মতো এলপিএল শিরোপা জয় করে।

ফাইনালে তিন উইকেট নিয়ে, টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকার শীর্ষে চলে যান এশান মালিঙ্গা। পুরো আসরে ৯.৩২ ইকোনমি রেটে তার শিকার ১৭ উইকেট। তিনি ফাইনালে চারিথ আসালাঙ্কার সঙ্গে সমন্বিত জুটি গড়ে জাফনার মিডল অর্ডারকে চাপে ফেলে দেন।

জাফনার ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র কামিল মিশারা ২৫-এর বেশি রান করতে সক্ষম হন। ১৩তম ওভারে মালিঙ্গার বলে আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৪১ রান করেন এই উইকেটকিপার-ওপেনার। বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারও ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাওহীদ হৃদয় ১০ বল খেলে করেন ১০ রান এবং সাকিব আল হাসান ১৩ বল খেলে করেন ৯ রান। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান এসেছে চামিন্দু বিক্রমেসিংহের ব্যাট থেকে, যিনি ১৬ বল খেলেন।

এদিকে, থারিন্ডু রত্নায়েকে দুই হাতে স্পিন করতে পারা বল হাতেও কার্যকর ছিলেন। ১৪ রান খরচ করে তিনি ২টি উইকেট তুলে নেন।

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গল প্রথম ওভারেই স্যাম হার্পারকে হারায়। এরপর টম রজার্সের ব্যাটে দলের রান সংগ্রহে ঘুরে দাঁড়ায়। তিনি ২৭ বলে ৩৪ রানের ইনিংস উপহার দেন। তবে নবম ওভারে সাকিব আল হাসান পরপর দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনার সৃষ্টি করেন। তার শিকার হন রজার্স এবং দিনুড়া কালুপাহানা, যিনি ১৯ বলে ৩১ রান করেছিলেন।

এরপর চামিকা করুণারত্নে ফিরে গেলেও জাফনা গলের জয়ী হওয়ার পথে আর কোনো অসুবিধা তৈরি করতে পারেনি। দাসুন শানাকা ও সহান আরাচ্চিগে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত, ২৫ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে গল গ্যালান্টস এবং প্রথমবার এলপিএল ট্রফি নিজেদের দখলে নেয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জাফনা কিংস : ১২৩/১০ (১৯.৩)

গল গ্যালান্টস : ১২৬/৫ (১৫.৫)

ফলাফল : গল গ্যালান্টস ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা : চারিথ আসালাঙ্কা

সিরিজ সেরা : কামিল মিশারা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘এমনটা যেন আর কারও সঙ্গে না হয়’, বোতল ছোড়ার ঘটনায় মুখ খুললেন হাসান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১১ এম


‘এমনটা যেন আর কারও সঙ্গে না হয়’, বোতল ছোড়ার ঘটনায় মুখ খুললেন হাসান

ছবি: সংগ্রহীত

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ কনসার্টে মঞ্চে গান গাওয়ার সময় আর্ক ব্যান্ডের গায়ক হাসানের মুখে পানির বোতল ছোড়ার ঘটনায় আয়োজকেরা দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। এই ঘটনার পর সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ পেলেও হাসান বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে তিনি অনুরোধ করেছেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিল্পীকে এমন অপ্রিয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও ‘৩৬ জুলাই’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ৫ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শিরোনামে ওই ওপেন এয়ার কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে পারসা, সেজান, কুড়েঘর, আর্বোভাইরাস, এভয়েড রাফা, আসিফ আকবর, শিরোনামহীন, আর্ক ও আর্টসেলসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী ও ব্যান্ড নিজেদের সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

কনসার্টে ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’ গানটি সঙ্গীত পরিবেশনার সময় দর্শকদের সারি থেকে একটি পানির বোতল ছুড়ে দেওয়া হয়। সে বোতলটি হাসানের মুখে এসে আঘাত করে। বোতল আঘাত করার পর তিনি কিছুটা হতবাক ও বিব্রত হয়ে গান থামিয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে আবার গান শুরু করেন এবং পারফরম্যান্স চালিয়ে যান।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিল্পী ও সংগীতসংশ্লিষ্ট অনেকেই ঘটনার নিন্দা করেছেন। ব্যান্ডশিল্পীদের সংগঠন বামবাসহ অনেকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে কনসার্টে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সুরকার ও গীতিকার প্রিন্স মাহমুদও এ ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি শিল্পীদের জন্য মঞ্চে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান।

তবে ঘটনার পর হাসান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা বাড়াতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আগে কখনো হননি। তবুও ঘটনাটিকে তিনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন।

হাসান বলেন, “এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমি আমার দর্শক-শ্রোতাদের খুব ভালোবাসি। কেউ ভুল করলে করতে পারে। কিন্তু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছি। কিছু মনে করিনি। তবে সবাই এই ঘটনায় কষ্ট পেয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যেন অন্য কোনো শিল্পীর সঙ্গে আর না ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, ওপেন এয়ার কনসার্টে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে। আয়োজকদেরও বিভিন্ন পরিস্থিতি সামলাতে হয়। কিন্তু মঞ্চে একজন শিল্পীর মুখের দিকে বোতল ছুড়ে মারার ঘটনা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

হাসানের ভাষ্যমতে, “আয়োজকেরা সমস্যায় ছিল। তাদের অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। ওরা সব সময় আমাকে ঘিরেই ছিল। একটি ভালো প্রোগ্রাম করতে গেলে বাধা আসবেই। ওপেন এয়ার কনসার্টে কিছু বিশৃঙ্খলা হতে পারে, এমন অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনা একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল। মুখের ওপর বোতল ছুড়ে মারার মতো ঘটনা আগে হয়নি। বিব্রত হলেও কিছু মনে করিনি।”

এরপরই তিনি নিজেদের অনুরোধের কথা জানিয়ে বলেন, “আমার একটাই অনুরোধ, ভবিষ্যতে যেন কারও সঙ্গে এমনটা না হয়।”

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে আর্ক ব্যান্ড ও হাসানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে কনসার্টের আয়োজক মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্স। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তাঁরা আর্ক ব্যান্ডের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং আর্কের ভক্ত, অনুরাগী ও শ্রোতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি। তারা দাবি করেছেন, স্থান ও বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি খেয়াল রেখে মঞ্চের মূল অংশ নিরাপদ রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনের সদস্যদের পাশাপাশি এলিট ফোর্স, বাউন্সার ও শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করা হয়েছিল।

আয়োজকদের কথায়, সন্ধ্যার পর একটি দল উগ্র শ্রোতা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে মূল অংশে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেছে। বিপুল জনসমাগমের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় তারা জোর করে তাদের ঠেকানোর পরিবর্তে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যেই আর্ক ব্যান্ডের সঙ্গে অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় হাসানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন আয়োজকেরা। তাঁদের মতে, অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরেও হাসান দর্শকদের নিরাশ করেননি। শিল্পীসত্তাকে সামনে রেখে তিনি শেষ পর্যন্ত গান চালিয়ে গেছেন।

একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্স। আয়োজকদের বক্তব্য, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার মতো নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত তারা আর কোনো কনসার্ট আয়োজন করবে না বলেও জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও হাসান বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে বড় করে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। একজন শিল্পী বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক আয়োজনে গান গাইতে পারেন। তাই বলে তাঁর প্রতি অসম্মান বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

হাসানের মতে, শিল্পীরা মানুষের জন্যই গান করেন এবং দর্শকদের কাছ থেকে তাঁরা ভালোবাসা ও সম্মান প্রত্যাশা করেন। তাই কনসার্টে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজক ও দর্শক সবার দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%