প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ছবি: সংগ্রহীত
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ কনসার্টে মঞ্চে গান গাওয়ার সময় আর্ক ব্যান্ডের গায়ক হাসানের মুখে পানির বোতল ছোড়ার ঘটনায় আয়োজকেরা দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। এই ঘটনার পর সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ পেলেও হাসান বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে তিনি অনুরোধ করেছেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিল্পীকে এমন অপ্রিয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও ‘৩৬ জুলাই’ উদ্যাপন উপলক্ষে ৫ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শিরোনামে ওই ওপেন এয়ার কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে পারসা, সেজান, কুড়েঘর, আর্বোভাইরাস, এভয়েড রাফা, আসিফ আকবর, শিরোনামহীন, আর্ক ও আর্টসেলসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী ও ব্যান্ড নিজেদের সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
কনসার্টে ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’ গানটি সঙ্গীত পরিবেশনার সময় দর্শকদের সারি থেকে একটি পানির বোতল ছুড়ে দেওয়া হয়। সে বোতলটি হাসানের মুখে এসে আঘাত করে। বোতল আঘাত করার পর তিনি কিছুটা হতবাক ও বিব্রত হয়ে গান থামিয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে আবার গান শুরু করেন এবং পারফরম্যান্স চালিয়ে যান।
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিল্পী ও সংগীতসংশ্লিষ্ট অনেকেই ঘটনার নিন্দা করেছেন। ব্যান্ডশিল্পীদের সংগঠন বামবাসহ অনেকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে কনসার্টে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সুরকার ও গীতিকার প্রিন্স মাহমুদও এ ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি শিল্পীদের জন্য মঞ্চে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান।
তবে ঘটনার পর হাসান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা বাড়াতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আগে কখনো হননি। তবুও ঘটনাটিকে তিনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন।
হাসান বলেন, “এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমি আমার দর্শক-শ্রোতাদের খুব ভালোবাসি। কেউ ভুল করলে করতে পারে। কিন্তু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছি। কিছু মনে করিনি। তবে সবাই এই ঘটনায় কষ্ট পেয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যেন অন্য কোনো শিল্পীর সঙ্গে আর না ঘটে।”
তিনি আরও বলেন, ওপেন এয়ার কনসার্টে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে। আয়োজকদেরও বিভিন্ন পরিস্থিতি সামলাতে হয়। কিন্তু মঞ্চে একজন শিল্পীর মুখের দিকে বোতল ছুড়ে মারার ঘটনা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
হাসানের ভাষ্যমতে, “আয়োজকেরা সমস্যায় ছিল। তাদের অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। ওরা সব সময় আমাকে ঘিরেই ছিল। একটি ভালো প্রোগ্রাম করতে গেলে বাধা আসবেই। ওপেন এয়ার কনসার্টে কিছু বিশৃঙ্খলা হতে পারে, এমন অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনা একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল। মুখের ওপর বোতল ছুড়ে মারার মতো ঘটনা আগে হয়নি। বিব্রত হলেও কিছু মনে করিনি।”
এরপরই তিনি নিজেদের অনুরোধের কথা জানিয়ে বলেন, “আমার একটাই অনুরোধ, ভবিষ্যতে যেন কারও সঙ্গে এমনটা না হয়।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে আর্ক ব্যান্ড ও হাসানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে কনসার্টের আয়োজক মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্স। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তাঁরা আর্ক ব্যান্ডের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং আর্কের ভক্ত, অনুরাগী ও শ্রোতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি। তারা দাবি করেছেন, স্থান ও বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি খেয়াল রেখে মঞ্চের মূল অংশ নিরাপদ রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনের সদস্যদের পাশাপাশি এলিট ফোর্স, বাউন্সার ও শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করা হয়েছিল।
আয়োজকদের কথায়, সন্ধ্যার পর একটি দল উগ্র শ্রোতা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে মূল অংশে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেছে। বিপুল জনসমাগমের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় তারা জোর করে তাদের ঠেকানোর পরিবর্তে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যেই আর্ক ব্যান্ডের সঙ্গে অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় হাসানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন আয়োজকেরা। তাঁদের মতে, অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরেও হাসান দর্শকদের নিরাশ করেননি। শিল্পীসত্তাকে সামনে রেখে তিনি শেষ পর্যন্ত গান চালিয়ে গেছেন।
একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্স। আয়োজকদের বক্তব্য, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার মতো নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত তারা আর কোনো কনসার্ট আয়োজন করবে না বলেও জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও হাসান বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে বড় করে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। একজন শিল্পী বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক আয়োজনে গান গাইতে পারেন। তাই বলে তাঁর প্রতি অসম্মান বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
হাসানের মতে, শিল্পীরা মানুষের জন্যই গান করেন এবং দর্শকদের কাছ থেকে তাঁরা ভালোবাসা ও সম্মান প্রত্যাশা করেন। তাই কনসার্টে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজক ও দর্শক সবার দায়িত্ব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন