১২:২৭ পি.এম
ব্যাংকক, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : মিয়ানমারের সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। এটি তার প্রথম থাইল্যান্ড সফর এবং এটি বেসামরিক নেতা হওয়ার পর। বিশেষ করে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রটিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই সাবেক জেনারেল ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থান পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক নেতা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। এই ঘটনার ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে সব পক্ষ মিলিয়ে এক লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসানো হয়। এটি মূলত সেনাশাসনের ভাবমূর্তি বদলে দেয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে ছিল। তবে গণতান্ত্রিক পর্যবেক্ষক এবং পশ্চিমা দেশগুলো ওই নির্বাচনের দিকে ‘প্রহসন’ বলেই ইঙ্গিত করেছেন।
আরও পড়ুন: অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা
পরে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডও দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ জাতির জোট আসিয়ান (এএসইএএন)-এর মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে চলেছে। আসিয়ান উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনগুলোতে অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের নেতৃত্বকে বাদ দেওয়া হয়। তবে গত মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে অংশ নেন।
মিন অং হ্লাইং সামরিক পোশাক ছেড়ে বেসামরিক পোশাক গ্রহণের পর থেকে কূটনৈতিক সফরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে ভারত, প্রধান মিত্র চীন এবং আসিয়ান সদস্য লাওস সফর করেছেন।
ব্যাংকক সফরের আগে, গৃহবন্দি অং সান সু চিকে সোমবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। এটি অভ্যুত্থানের পর তার প্রথম বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ।
স্বাধীন মিয়ানমার বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন এএফপিকে জানিয়েছেন, আসিয়ানে পুনঃঅংশগ্রহণের প্রচেষ্টা মিন অং হ্লাইং-এর কাছে ‘শুধু মর্যাদার বিষয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মিয়ানমারের নেতারা আসিয়ানের প্রস্তাবিত ‘পাঁচ দফা ঐকমত্য’ মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যেখানে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়।
আরও পড়ুন: মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ ছেলে
ম্যাথিসন মন্তব্য করেছেন, তিনি এর মাধ্যমে একদিকে আসিয়ানের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চান, অন্যদিকে পাঁচ দফা ঐকমত্যকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছেন। এটি এক তরফা জয়ের মানসিকতার একটি উদাহরণ হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংককেরও সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য কিছু কারণ রয়েছে। কারণ মিয়ানমারের সেনা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ থাইল্যান্ড সীমান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে লাখো শরণার্থী অবস্থান করছে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় সাইবার প্রতারণা চক্র এবং মাদক পাচারকারীদের উপস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে থাইল্যান্ডকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন