১০:৫৯ এম
আপাতত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সামাল দিতে পেরেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। তবে, এই আন্দোলন সরকারের পক্ষ থেকে নয়, এটি প্রচলিত ধারার সকল রাজনৈতিক দলের সামনেই পালাবদলের একটি বড় ঈঙ্গিত দিয়ে গেছে।
দুর্নীতি এবং অনিয়ম করে, জনগণের সামনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করেই কিছু করার দিন শেষ হতে চলেছে। ২০২৯ সালের নির্বাচনের সময়, জেন জি প্রজন্মই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় ভোটার গোষ্ঠী। সংখ্যা ও প্রভাব, উভয় দিক থেকেই তারাই নির্ধারক হয়ে উঠবে। মাত্র ৩৭ দিনের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তারা গোটা দেশকে তাদের সক্ষমতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী জেনারেশন জেড-এর সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে। এর মধ্যে থাকবে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী। এটি তাদের ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত করবে। এমনকি, ২০২৯ সালের মধ্যে জেন জি’রা তাদের আগের প্রজন্ম মিলেনিয়ালদেরও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৯ সালে মিলেনিয়াল প্রজন্মের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩৫ কোটি ৭০ লাখে।
আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা
এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু জনসংখ্যার হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের শিক্ষার্থী, প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটার এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবী ও তরুণ পরিবারের সর্বাধিক অংশ আসবে এই জেন জি থেকে। তাই কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর জেন জি’র পেছনে অপেক্ষা করছে আরো বিশাল আকারের জেন আলফা। যদিও ২০২৯ সালে আলফা প্রজন্মের সদস্যরা ভোটাধিকারের বয়সের নিচে থাকবে, তবুও তাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও জেন জি’রা ভারতের বৃহত্তম ভোটার গোষ্ঠীতে পরিণত হবে, তবে সামগ্রিক ভোটার তালিকায় তরুণ ভোটারদের অনুপাত ক্রমাগত কমছে। কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে ভারতে প্রবীণ জনগণের সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৮৮ সালে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা ভারতের মোট ভোটারের ৩৮.৩ শতাংশ ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের মধ্যে সেই অনুপাত ৩০.১ শতাংশে নেমে আসবে। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটি ২৭.৮ শতাংশে নেমে যেতে পারে।
তবে শুধুমাত্র সংখ্যার মাধ্যমে জেন জি’দের বিচার করা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি ভুল হতে পারে। জেন জি’রা আলাদা। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়ালদের অ্যানালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন জি’দের জন্মই হয়েছে ডিজিটাল পরিবেশে। আধুনিক প্রযুক্তি শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বকে জেন জি‘দের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং মুহূর্তেই নিজেদের আপডেট করতে পারে। তাই, আগের মতো জেন জি’দের ভুল বুঝিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়। এরা প্রচলিত রাজনীতিতে আগ্রহী না হলেও রাজনীতি সচেতন। জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে জেন জি’রা অত্যন্ত সোচ্চার ও সচেতন। তারা যেকোনো প্রতিষ্ঠান, সরকার বা শিক্ষাব্যবস্থার কাছে স্পষ্টতা, সততা এবং জাবাবদিহিতা চায়। নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য তারা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে এবং একত্রিত হতে পারে। কতটা পারে, সেটা কিন্তু শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল প্রমাণ করেছে।
এ কারণে, কেবল সংখ্যা হিশেবে ভোটারের প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। জেন জি তাদের বিশাল সংখ্যার সঙ্গে নজিরবিহীন ডিজিটাল যোগাযোগ, উচ্চ শিক্ষা এবং সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতাকে যুক্ত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রবীণ ভোটারদের মন জয় করা যত সহজ, জেন জি’দের মন বোঝা ততটাই কঠিন। যান্ত্রিকভাবে টানা ৩৭ দিনের সফল আন্দোলনের ঢেউ পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সাফল্য জেন জি’দের আরও আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন করেছে। ২০২৯ সালের নির্বাচন তাই প্রচলিত রাজনৈতিক দলের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। সেইসব রাজনৈতিক নেতারা যারা দ্রুত জেন জি’দের সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করতে পারবে এবং তাদের ভাষা বুঝতে পারবে, তারাই সফল হবে। জেন জি’দের অবহেলা করার ভুল যেন কেউ না করে। তা হলে তাদের ফল ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন