০১:২৪ এম
> রাজনীতি
ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা, নাহিদদের কার্যালয়ে গিয়ে বলেছেন, তার এই সফর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা নয়; বরং এটি রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা। তিনি উল্লেখ করেন, "সংসদের ভেতরে এবং বাইরে বিগত নির্বাচনে একসঙ্গে আমরা লড়াই করেছি।" তিনি বলেন, সহযোদ্ধাদের পাশে থাকা, সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া এবং একসঙ্গে চলা, এই সবই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াত আমির রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলের নেতারা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। জামায়াত আমিরকে এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলির রেপ্লিকা, পাঞ্জাবি ও বোরকার কাপড়ও উপহার দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের "যথেষ্ট রিজার্ভেশন" থাকলেও, দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে তারা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, "সংসদের ভেতরে আমরা গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি।" তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল হিসেবে তাদের প্রাপ্য অনেকাংশে তারা পাচ্ছেন না। সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের জন্য যে পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য তা দেওয়া হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের মৌলিক দাবিগুলো আদায়ে আন্দোলন করছে।"
এনসিপি থেকে কোনো দল বেরিয়ে যাওয়ার পর জোট ছাড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এনসিপির এমন কোনো এজেন্ডা নেই, জামায়াতেরও নেই।" তিনি জানান, "আমরা তো সে অর্থে ফরমাল (জোট) না। আমরা একটি নির্বাচনে ঐক্য করেছি। আর এখন জনগণের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করছি।"
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে জামায়াত আমির জানান, তারা এ বিষয়ে হোমওয়ার্ক শুরু করেছেন। তিনি বলেন, জোটের শরিক দলগুলোর সম্ভাবনাময় নেতাদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও এতে যুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন: বিএনপিকে অপরাজনীতির পরিণতি ভোগ করতে হবে: সাদিক কায়েম
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধভাবেই আছি।" তিনি দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, সারের দাম বৃদ্ধি এবং মানুষের ভোগান্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংসদ ও রাজপথে কথা বলার পরিকল্পনার কথাও জানান।
তিনি আরো বলেন, "১১ দল নয়, আমাদের এই আন্দোলন জনগণের পক্ষের আন্দোলন, এটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।" একই সঙ্গে তিনি যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি নানা কারণে নির্বাচনে তাদের সঙ্গে আসতে পারেনি, তাদেরও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমিরের সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর মাধ্যমে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা এখনো যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছি, সে জায়গায় তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাংলাদেশে অতিপ্রয়োজন।"
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে জনগণের পক্ষে তাদের কণ্ঠ শোনা যাবে এবং সংসদের বাইরেও রাজপথে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করবেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে: সিনিয়র সচিবের নিশ্চয়তা
এ সময় এনসিপি কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমানসহ দলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন