ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাহিদদের কার্যালয়ে ডা. শফিক, দিলেন ঐক্যের আহ্বান


নাহিদদের কার্যালয়ে ডা. শফিক, দিলেন ঐক্যের আহ্বান

> রাজনীতি

ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা, নাহিদদের কার্যালয়ে গিয়ে বলেছেন, তার এই সফর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা নয়; বরং এটি রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা। তিনি উল্লেখ করেন, "সংসদের ভেতরে এবং বাইরে বিগত নির্বাচনে একসঙ্গে আমরা লড়াই করেছি।" তিনি বলেন, সহযোদ্ধাদের পাশে থাকা, সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া এবং একসঙ্গে চলা, এই সবই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াত আমির রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলের নেতারা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। জামায়াত আমিরকে এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলির রেপ্লিকা, পাঞ্জাবি ও বোরকার কাপড়ও উপহার দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের "যথেষ্ট রিজার্ভেশন" থাকলেও, দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে তারা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, "সংসদের ভেতরে আমরা গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি।" তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল হিসেবে তাদের প্রাপ্য অনেকাংশে তারা পাচ্ছেন না। সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের জন্য যে পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য তা দেওয়া হয়নি।

বিরোধীদলীয় নেতা অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের মৌলিক দাবিগুলো আদায়ে আন্দোলন করছে।"

এনসিপি থেকে কোনো দল বেরিয়ে যাওয়ার পর জোট ছাড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এনসিপির এমন কোনো এজেন্ডা নেই, জামায়াতেরও নেই।" তিনি জানান, "আমরা তো সে অর্থে ফরমাল (জোট) না। আমরা একটি নির্বাচনে ঐক্য করেছি। আর এখন জনগণের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করছি।"

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে জামায়াত আমির জানান, তারা এ বিষয়ে হোমওয়ার্ক শুরু করেছেন। তিনি বলেন, জোটের শরিক দলগুলোর সম্ভাবনাময় নেতাদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও এতে যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: বিএনপিকে অপরাজনীতির পরিণতি ভোগ করতে হবে: সাদিক কায়েম

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধভাবেই আছি।" তিনি দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, সারের দাম বৃদ্ধি এবং মানুষের ভোগান্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংসদ ও রাজপথে কথা বলার পরিকল্পনার কথাও জানান।

তিনি আরো বলেন, "১১ দল নয়, আমাদের এই আন্দোলন জনগণের পক্ষের আন্দোলন, এটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।" একই সঙ্গে তিনি যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি নানা কারণে নির্বাচনে তাদের সঙ্গে আসতে পারেনি, তাদেরও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জামায়াত আমিরের সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর মাধ্যমে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা এখনো যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছি, সে জায়গায় তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাংলাদেশে অতিপ্রয়োজন।"

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে জনগণের পক্ষে তাদের কণ্ঠ শোনা যাবে এবং সংসদের বাইরেও রাজপথে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করবেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে: সিনিয়র সচিবের নিশ্চয়তা

এ সময় এনসিপি কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমানসহ দলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী শোকজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২৯ এম


র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী শোকজ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৪ জন মার্কেটিং বিভাগের এবং ১০ জন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব ও প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ১৪তম ও ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুটি আলাদা র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মার্কেটিং ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।

 

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের এক সভায় দুই বিভাগের ২৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

মার্কেটিং বিভাগের শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন এস এম সাইফুজ্জামান, ঐশী মহন্ত, সুরাইয়া আক্তার, কিশোর কুমার দত্ত, জান্নাতুল বুশরা জুনি, মেহেদী হাসান অমি, নূরনবী, আলিফ হোসেন নয়ন, আজিজুল ইসলাম চয়ন, খালেদ হোসেন, রিফাত হাওলাদার, সৌরভ মালি ও হাসিব শেখ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা হলেন মো. রাকিবুল ইসলাম, মাহি আনোয়ার, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, মো. নাঈম ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. ওয়েদুজ্জামান রিফাত, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেন ইলমা ও মো. কাজী নাবির।

প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ও ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পৃথক দুটি ঘটনায় র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়।

 

ওই দুই ঘটনায় মার্কেটিং ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় ২৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আড়াই বছর পর চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটি বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ এম


আড়াই বছর পর চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটি বহাল

প্রায় আড়াই বছর পর বিলুপ্ত করা চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি পুনর্বহাল করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে নগর কমিটির পাশাপাশি মহানগরের অধীন সব থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের কমিটিও পুনর্বহাল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশে ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কমিটি না থাকার পরও আমরা দলীয় ও জাতীয় দিবসগুলো পালন করেছি। এতদিন কমিটি না থাকার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা ছিল, কমিটি পুনর্বহাল করায় প্রমাণিত হয়েছে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত। পুনর্বহালের কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দলের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন আশা করি।

এর আগে ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণ দেখিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও আওতাধীন থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোও বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব কমিটি পুনরায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেল। ২০১৮ সালের ১ জুন মোশাররফ হোসেন দিপ্তীকে সভাপতি ও মোহাম্মদ শাহেদকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই বছরের ৪ অক্টোবর কমিটির আকার বাড়িয়ে ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা, ঘটনাটি ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ এম


পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা, ঘটনাটি ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলল ভারত

পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোনের আঘাত, ‘অনিচ্ছাকৃত’ জানাল ভারত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০১:০৩

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় কিরাণা হিলসে একটি ভারতীয় ড্রোন পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আঘাত হেনেছিল। তবে, ভারতীয় সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান জানিয়েছেন যে, হামলাটি ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

 

জেনারেল চৌহান বলেন, ইসরায়েলি প্রযুক্তির হারোপ ড্রোনটি সারগোদা ও তার আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানের রাডার শনাক্তের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো লক্ষ্য না পাওয়ার ফলে কিরাণা হিলসের কাছে ড্রোনটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায় এবং সেটি ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে।

এক বছর পর এই ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলেছে ভারতের সেনাবাহিনী।

 

নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ সেন্টারে দেওয়া এক বক্তব্যে জেনারেল চৌহান উল্লেখ করেন, ‘ভারতী (এ কে ভারতী) সঠিকভাবে বলেছেন, আমরা কিরাণা হিলসকে লক্ষ্যবস্তু করিনি।’

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জেনারেল চৌহান বলেন, ‘হামলার পূর্বে আমরা সারগোদা ও তার ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কিরাণা হিলসে প্রচুর লোইটারিং মিউনিশন (আত্মঘাতী ড্রোন) পাঠিয়েছিলাম। এগুলো সারগোদা ও তার আশপাশের রাডার খুঁজছিল।

 

এগুলোর একটি নির্দিষ্ট ফ্লাইং টাইম থাকে। সাধারণত, এগুলো দুই ঘণ্টা মতো আকাশে উড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে টার্গেট না পেলে এটি শেষ পর্যন্ত কোথাও না কোথাও গিয়ে আঘাত হানবে। সম্ভবত এটি তেমনই কোনো একটি পাহাড়ে গিয়ে আছড়ে পড়েছিল।’

সাবেক এ কর্মকর্তা আরও জানান, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্কার্দুতেও বিমান হামলার অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী।

 

কিন্তু, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে সেই মিশন বাতিল করা হয়।

জেনারেল চৌহান বলেন, ‘বিমানবাহিনী প্রধান আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি সারগোদায় হামলা চালাবেন কি না। আমি বলেছিলাম, এগিয়ে যান এবং আরও দুটি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করুন। তিনি যে স্থানগুলো বেছে নিয়েছিলেন, তার একটি ছিল স্কার্দু। আমরা অনুমতি দিয়েছিলাম, কিন্তু কিছু সময় পর স্কার্দুর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনা বদলে ভোলারিতে হামলা চালাতে হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০ পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাল কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ এম


যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০ পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাল কানাডা

 

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ আবারো তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর কানাডা ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। এরপর দুই দিন পর মঙ্গলবার কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ছিল বেশ সৎ প্রতিবেশীসুলভ। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার বিভিন্ন মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত এই সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে।

 

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মূলত এই প্রস্তাবই দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট সৃষ্টি করে।

কানাডার রাজনীতিবিদরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে সম্পর্কটিকে আরো জটিল করে তোলেন।

 

তবে গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে শুল্ক সংকট সমাধানের জন্য আলোচনা চলছিল। আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র কিছু নতুন শর্ত জুড়ে দেয়, যা কানাডার গাড়ি, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো প্রধান শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে কানাডা মনে করে। অন্যদিকে, অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডসহ কানাডার প্রাদেশিক নেতারা মার্কিন মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে শুক্রবার রাতে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়।

আলোচনা থেকে সরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার বলেন, একটি খারাপ বাণিজ্য চুক্তির কারণে তিনি আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

 

তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্তের প্রস্তাব করেছে যা ছিল অলাভজনক এবং অন্যায় এবং এগুলো কানাডার সুবিধাকে ক্ষুণ্ন করত। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘যখন আপনি আক্রান্ত হন, তখন আপনি যুদ্ধের মধ্যেই থাকেন। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’ কার্নি বলেন, ‘তারা যা প্রস্তাব করেছে আমরা তা গ্রহণ করতে পারি না, এবং তারা যা চেয়েছে তা আমরা দেব না।’

কার্নি আরো বলেন, ‘আলোচনার সময় আমরা জানতে পেরেছি যে, মার্কিনিরা আমাদের অটোমোবাইল, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামসহ প্রধান শিল্পগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। আমাদের না বলার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটিই। এটি একটি খারাপ চুক্তি ছিল।’

আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন গত শনিবার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ‘ডলারের বদলে ডলার’ নীতির সংকল্প ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার কানাডা পাল্টা আঘাত হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই শুল্ক আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে কানাডার পণ্যে মার্কিন শুল্ক শনিবার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

কানাডিয়ান কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, অটোয়ার এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হারের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হবে এবং এটি মূলত ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের ওপর প্রভাব ফেলবে। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেছেন, ‘এটি কানাডার ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ। তবে কানাডা এই পরিস্থিতির উপযুক্ত জবাব দেবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি মনে করি কানাডিয়ানরা আজ সকালে দেখতে পাচ্ছেন যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের পাল্টা জবাবে আমরা একতাবদ্ধ।’

চলমান বাণিজ্য যুদ্ধটিকে আরো উস্কে দিয়ে ট্রাম্প সোমবার হুমকি দিয়েছেন যে, কানাডা লাইনে না আসলে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ি ও অটো পার্টস শিল্পের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। পাল্টাপাল্টি জবাবে কানাডীয় নেতারাও প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও জরুরি খনিজ সরবরাহ বন্ধ বা কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

নিজেদের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে রক্ষা করার জাতীয়তাবাদী জেদ, মার্কিন মদের ওপর কানাডার নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ছাড় আদায়ের অনমনীয় দাবি; এই সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার এই দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন এক নজিরবিহীন যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%