০১:৪৩ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ আবারো তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর কানাডা ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। এরপর দুই দিন পর মঙ্গলবার কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ছিল বেশ সৎ প্রতিবেশীসুলভ। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার বিভিন্ন মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত এই সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মূলত এই প্রস্তাবই দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
কানাডার রাজনীতিবিদরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে সম্পর্কটিকে আরো জটিল করে তোলেন।
তবে গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে শুল্ক সংকট সমাধানের জন্য আলোচনা চলছিল। আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র কিছু নতুন শর্ত জুড়ে দেয়, যা কানাডার গাড়ি, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো প্রধান শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে কানাডা মনে করে। অন্যদিকে, অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডসহ কানাডার প্রাদেশিক নেতারা মার্কিন মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে শুক্রবার রাতে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়।
আলোচনা থেকে সরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার বলেন, একটি খারাপ বাণিজ্য চুক্তির কারণে তিনি আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্তের প্রস্তাব করেছে যা ছিল অলাভজনক এবং অন্যায় এবং এগুলো কানাডার সুবিধাকে ক্ষুণ্ন করত। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘যখন আপনি আক্রান্ত হন, তখন আপনি যুদ্ধের মধ্যেই থাকেন। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’ কার্নি বলেন, ‘তারা যা প্রস্তাব করেছে আমরা তা গ্রহণ করতে পারি না, এবং তারা যা চেয়েছে তা আমরা দেব না।’
কার্নি আরো বলেন, ‘আলোচনার সময় আমরা জানতে পেরেছি যে, মার্কিনিরা আমাদের অটোমোবাইল, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামসহ প্রধান শিল্পগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। আমাদের না বলার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটিই। এটি একটি খারাপ চুক্তি ছিল।’
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন গত শনিবার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ‘ডলারের বদলে ডলার’ নীতির সংকল্প ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার কানাডা পাল্টা আঘাত হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই শুল্ক আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে কানাডার পণ্যে মার্কিন শুল্ক শনিবার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
আরও পড়ুন: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ
কানাডিয়ান কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, অটোয়ার এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হারের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হবে এবং এটি মূলত ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের ওপর প্রভাব ফেলবে। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেছেন, ‘এটি কানাডার ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ। তবে কানাডা এই পরিস্থিতির উপযুক্ত জবাব দেবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি মনে করি কানাডিয়ানরা আজ সকালে দেখতে পাচ্ছেন যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের পাল্টা জবাবে আমরা একতাবদ্ধ।’
চলমান বাণিজ্য যুদ্ধটিকে আরো উস্কে দিয়ে ট্রাম্প সোমবার হুমকি দিয়েছেন যে, কানাডা লাইনে না আসলে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ি ও অটো পার্টস শিল্পের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। পাল্টাপাল্টি জবাবে কানাডীয় নেতারাও প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও জরুরি খনিজ সরবরাহ বন্ধ বা কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
নিজেদের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে রক্ষা করার জাতীয়তাবাদী জেদ, মার্কিন মদের ওপর কানাডার নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ছাড় আদায়ের অনমনীয় দাবি; এই সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার এই দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন এক নজিরবিহীন যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
আরও পড়ুন: পুতিন ও জেলেনস্কির শিগগিরই বৈঠক হবে: ট্রাম্প
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন