রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০২:৫১ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় অবশেষে শুরু হলো জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ। উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী সোনাকুর ফেরিঘাট, হরিনধারা ও গন্তব্য এলাকায় নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার সময় সদরের চরমানিকদাহ গ্রামের মৃণাল বিশ্বাসের বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শাহিন শেখ (১৮) পার্শ্ববর্তী ঘোষেরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে বলে জানা গেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, তিন দিন আগে সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিল শাহিন শেখ। বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে আজ সকালে এলাকার মানুষ পুকুরের পানিতে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এরপর পুলিশের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এবার স্থানীয় একটি ব্যস্ত মোড়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এলাকাটির ব্রাজিল সমর্থকরা ওই মোড়টির নাম রেখেছেন ‘ব্রাজিল মোড়’। ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতেই তারা এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এদিকে, স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও নানাভাবে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে টক্কর দিচ্ছেন।
বুধবার (১০ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার চাপ্তা গ্রামের টুকু বাজারের জান্নাত মোড়ে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের ১৩টি ছোট পতাকা এবং ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের অপর একটি পতাকা টাঙ্গিয়েছেন ব্রাজিল ভক্তরা।
জানা গেছে, গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্রাজিলের সমর্থক হওয়ায় ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মোড়টির নামকরণ করা হয় ‘ব্রাজিল মোড়’।
ইতোমধ্যে ব্রাজিল মোড়ের এই নামটি গ্রামবাসীর মধ্যে সাড়া ফেলেছে। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সমর্থন দিতে এমন অভিনব আয়োজন করা হয়েছে। তাদের আশা এবার ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২৪ বছরের খরা কাটানোর পাশাপাশি হেক্সা মিশন শেষ করবে।
ব্রাজিল সমর্থক রিফাত খাকি বলেন, “আমরা ব্রাজিলকে মনে-প্রাণে ভালোবাসি। আমাদের এই ভালোবাসার একটা প্রতীক দরকার ছিল। এখন থেকে এই মোড়টি আমাদের মিলনমেলা। তাই এই মোড়ে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের ১৩টি ছোট পতাকা ও ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের অপর একটি পতাকা টাঙিয়ে নাম দিয়েছি ‘ব্রাজিল মোড়’।"
অপর ব্রাজিল সমর্থক বর্ণ রহমান বলেন, “আমাদের গ্রামের প্রায় ৭০ ভাগ লোক ব্রাজিলের সমর্থক। তাই আমাদের একটি স্থান দরকার হওয়ায় এ মোড়টির নাম ‘ব্রাজিল মোড়’ দিয়েছি। আশা করি এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হবে।”
এদিকে, এই ঘটনার পর আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও বসে নেই। তারা এলাকাজুড়ে টাঙ্গিয়েছে এক হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের আর্জেন্টিনার পতাকা। আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙ্গিয়েছেন তারা। তবে তাদের কাছে এটি দলের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. নাজমুল শেখ বলেন, “ব্রাজিল ভক্তরা মোড়ের নাম ‘ব্রাজিল মোড়’ দিলেও আমরা পিছিয়ে নেই। এলাকাজুড়ে এক হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙানোর পাশাপাশি আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। আশা করি এবার আর্জেন্টিনা টানা ২য় শিরোপা ঘরে তুলবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে যখন নেমে আসলেন, তখন তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচিস্থলে যান। তার পাশে গাড়ির আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বসেছিলেন।
গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদও ছিলেন।
কর্মসূচির উদ্বোধন সম্পন্ন করার পর প্রধানমন্ত্রী গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যান।
এই সময়, পুরো রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার সাধারণ জনতা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তারা ফুল ছিটিয়ে, হাত নেড়ে এবং স্লোগান দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান।
আজ শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী একদিনের সফরে পর্যটননগরী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের মূল শক্তি। তাই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে থাকব।
তিনি আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের প্রকল্পের কাজ শুরু করার পর একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই কথাগুলো বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে। তিনি বলেন, 'বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। বিএনপির সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।'
তিনি বলেন, আমি খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবারের বাজেটের পর এখন পর্যন্ত কোন পণ্যের দাম বেড়ে যায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থাকা যে ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার সেই ট্যাক্স ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তুলে নিয়েছে। যাতে করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।'
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?'
তারেক রহমান আরো বলেন, 'তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটি হচ্ছে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি সৃষ্টি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।'
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, 'এখানে কেন এসেছি, বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদের শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প-বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। তাই যারা দেশে উৎপাদিত দ্রব্য, অথচ একই পণ্য বিদেশ থেকে আসে, তাদের ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প কারখানাগুলিকে সাপোর্ট পেতে হয়। এটি বিরোধী দলের পছন্দ নয়।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারাই। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, পরিবারের মালিক নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।'
তিনি বলেন, 'দেশ আমাদের সকলের। এই দেশ আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যেই আমরা বলি, এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো, আমাদের সন্তানরাও শান্তিতে থাকতে পারবে।'
তিনি আরো বলেন, 'এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি, তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ-কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? আমরা কেউ চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং স্থানীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী মুষলবৃষ্টির মধ্যেও ফ্লাইট থেকে নেমে সড়কপথে পিএমখালীতে আসেন এবং বৃষ্টি অগ্ৰাহ্য করে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ