প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৩:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৩ই জুন, ২০২৬ইং; ০২:৫১ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় অবশেষে শুরু হলো জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ। উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী সোনাকুর ফেরিঘাট, হরিনধারা ও গন্তব্য এলাকায় নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন,
কাউখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ এই সন্ধ্যা নদীর ভাঙন। সোনাকুর ফেরিঘাট ও হরিণধারা এলাকা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার ছিল। এই জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষা পাবে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শেষ করা হয়, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকার সবসময় পাশে আছে।
অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মোঃ রাশেদ খান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিকসন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রকল্পের কারিগরি ও সার্বিক বিষয়ে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মোঃ রাশেদ খান
জানান সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরের সোনাকুর ফেরিঘাট, গন্তব্য ও হরিণধারা—এই তিনটি স্পটে মোট ২৬০ মিটার এলাকাজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। জরুরি এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। বর্ষার তীব্র স্রোতের আগেই কাজটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের, যাতে নতুন করে আর কোনো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন না হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকির বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,
নদী ভাঙ্গন এই অঞ্চলের একটি বড় সমস্যা। জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা ফেরিঘাট, খেয়াঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক রক্ষা পাবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজের নিয়মিত তদারকি করা হবে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়।
এদিকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় নদীভাঙন কবলিত এলাকার শত শত মানুষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
সোনাকুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম ও শ্যামল বড়াল আনন্দ প্রকাশ
করে বলেন নদীতে আমাগো কত জমি-জমা গ্যাছে তার হিসাব নাই। ফেরিঘাটডা ভাইঙা গেলে কাউখালীর যোগাযোগই বন্ধ হইয়া যাইতো। জিও ব্যাগ ফালানো শুরু হওয়ায় আমরা একটু শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু। সরকারের এই উদ্যোগরে আমরা স্বাগত জানাই। স্থানীয়রা জানান,
রাইতের বেলা নদীর ডাক হুনলে ভয়ে বুক কাঁপতো, এই বুঝি ঘরবাড়ি নদীতে চইলা গেল। এহন নদী বান্ধার কাজ শুরু হইছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা চাই কাজটা যেন টেকসই হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড আশা প্রকাশ করেছে, এই ২৬০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ সম্পন্ন হলে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদ সম্পূর্ণ সুরক্ষা পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন