প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের মূল শক্তি। তাই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে থাকব।
তিনি আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের প্রকল্পের কাজ শুরু করার পর একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই কথাগুলো বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে। তিনি বলেন, 'বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। বিএনপির সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।'
তিনি বলেন, আমি খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবারের বাজেটের পর এখন পর্যন্ত কোন পণ্যের দাম বেড়ে যায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থাকা যে ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার সেই ট্যাক্স ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তুলে নিয়েছে। যাতে করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।'
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?'
তারেক রহমান আরো বলেন, 'তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটি হচ্ছে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি সৃষ্টি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।'
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, 'এখানে কেন এসেছি, বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদের শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প-বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। তাই যারা দেশে উৎপাদিত দ্রব্য, অথচ একই পণ্য বিদেশ থেকে আসে, তাদের ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প কারখানাগুলিকে সাপোর্ট পেতে হয়। এটি বিরোধী দলের পছন্দ নয়।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারাই। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, পরিবারের মালিক নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।'
তিনি বলেন, 'দেশ আমাদের সকলের। এই দেশ আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যেই আমরা বলি, এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো, আমাদের সন্তানরাও শান্তিতে থাকতে পারবে।'
তিনি আরো বলেন, 'এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি, তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ-কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? আমরা কেউ চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং স্থানীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী মুষলবৃষ্টির মধ্যেও ফ্লাইট থেকে নেমে সড়কপথে পিএমখালীতে আসেন এবং বৃষ্টি অগ্ৰাহ্য করে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন