০৬:৩২ পি.এম
বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের চড়া দাম এবং চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে নতুন করে চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হতে পারে অন্তত ৪ কোটি মানুষ। এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, কৃষ্ণসাগরে খাদ্যশস্য পরিবহনে বাধা এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের মতো বিভিন্ন সংকটের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের বাজারে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে জিনিসপত্রের দাম এক লাফে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। জীবনযাত্রার এই চরম ব্যয়বৃদ্ধি নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষদের সরাসরি দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দেওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিশিগানে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ‘হাবিবি প্যাক’ চালু করলেন আব্দুল সাঈদ
এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বেড়েছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের সরবরাহ ৫.২ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরে রুট ব্যাহত হওয়ায় চাল ও গমের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।
১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র ‘এল নিনো’র বিরূপ প্রভাব এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত সার ও ধাতব পণ্যের দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদর আরও লাগামহীন হয়ে উঠছে।
এই চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকি থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে এবং উদ্ভূত সংকট মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি দেশকে প্রায় পৌনে এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সুদের হার ও আর্থিক নীতি আরও কঠোর করতে বাধ্য হতে পারে। তবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা দূর না হলে দারিদ্র্যের এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন: অ্যামচেমের সেমিনারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এআই ও ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন