০৬:২৬ পি.এম
ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করেছে। বাহিনীর একটি ভারী পরিবহন বিমান আইএল-৭৬এমডি পূর্ব লাদাখের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিওমা বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে অবতরণ করেছে।
বাহিনী দাবি করেছে, বিশ্বের অন্য কোথাও এত বেশি উচ্চতায় এই ধরনের বিমান অবতরণ করা হয়নি। বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় অবতরণ করে। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ও উঁচু এলাকায় সেনাসদস্য, ভারী সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই অর্জন ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিওমা বিমানঘাঁটিটি চীনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) কাছাকাছি অবস্থিত। সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ভারত ও চীন উভয় দেশই এই অঞ্চলে সামরিক অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করেছে।
আরও পড়ুন: মিশিগানে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ‘হাবিবি প্যাক’ চালু করলেন আব্দুল সাঈদ
ভারতীয় বিমানবাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এই ঐতিহাসিক অবতরণের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘১৩ হাজার ৬২৯ ফুট, বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতা।’
এই সফল অবতরণ নিওমা বিমানঘাঁটিকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে হিমালয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে ভারতের স্পর্শকাতর সীমান্তে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা আরো সহজ হবে।
‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিওমা কৌশলগতভাবে ডেমচক এলাকা এবং প্যাংগং সো হ্রদের দক্ষিণ তীরের কাছাকাছি অবস্থিত। এই দুটি এলাকাকে ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লেহ ও থোয়াইসে ভারতের বিদ্যমান বিমানঘাঁটিগুলো সীমান্ত থেকে বেশ দূরে অবস্থিত। তবে নিওমা বিমানঘাঁটি সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় ভারতীয় বিমানবাহিনী দ্রুত সেনা মোতায়েন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: বৈশ্বিক সংকটে ৪ কোটি মানুষের চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকি
প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিমানঘাঁটির রানওয়ে এমনভাবে নির্মিত হয়েছে, যাতে সেখানে যুদ্ধবিমান ও ভারী সামরিক পরিবহন বিমান ওঠানামা করতে পারে। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ভারত দ্রুত সামরিক সহায়তা পাঠানোর বাড়তি সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া এই বিমানঘাঁটি থেকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মোতায়েন সেনাসদস্যদের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়ার কাজও করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন