০৪:৩৩ এম
ফুড পয়জনিং কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা বোঝা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এর কী প্রভাব ফেলে, সেটাও জানতে হবে।
এটি খাবারে বিষক্রিয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী হচ্ছে খাবার সংরক্ষণে অসতর্কতা। রান্না করা খাবার যদি দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের তাপমাত্রায় রাখা হয়, অপরিষ্কার বাসনপত্র ব্যবহার করা হয়, রান্নার আগে হাত না ধোয়া হয় অথবা কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা হয়, তাহলে এসব কারণে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহতায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। একটি স্থানীয় ফাস্টফুড আউটলেট থেকে সাওয়ারমা ও পিৎজা খাওয়ার পর অন্তত ৮৮ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই পেটব্যথা, বমি বা বমি ভাব এবং ডায়ারিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট খাবারের দোকানটি সিল করে দিয়েছে প্রশাসন এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, ফুড পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়া কখনো কখনো সাধারণ খারাপের মতো মনে হলেও তা অন্তত তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী অথবা তাদের তৈরি টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে খুব দ্রুত তার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কয়েক দিন পরেও এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
ফুড পয়জনিং কী ধরনের জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, ফুড পয়জনিং দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। কারণ বমি ও ডায়ারিয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। এতে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
কেন ফুড পয়জনিং হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসকরা কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে খাবার খাওয়ার আগে দোকানের পরিচ্ছন্নতা লক্ষ্য করা জরুরি। সম্ভব হলে সদ্য প্রস্তুত ও গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘক্ষণ বাইরে বা খোলা রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।
ফল ও শাকসবজি অবশ্যই ভালো করে ধোয়ে খান এবং সবসময় নিরাপদ পানীয় পানি পান করুন। খাবার তৈরি বা পরিবেশনের আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাসটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুড পয়জনিং প্রতিরোধে দামি কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন