০৪:৩৭ এম
চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে না। সব সক্রিয় কোষের বেঁচে থাকার জন্য গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়। ক্যানসার কোষ সাধারণ কোষের মতো গ্লুকোজ ব্যবহার করে থাকে, তবে এটি মানে নয় যে, চিনি খেলেই ক্যানসার হবে। তবে অতিরিক্ত চিনি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত পানীয় শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধি করে, যা স্তন, কোলন, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের একটি বড় ঝুঁকি। এ ছাড়া রক্তে উচ্চ সুগার লেভেল ক্যানসার কোষের বিস্তার ও বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু চিনি বন্ধ করলেই ক্যানসার ভালো হয় না। অনেকে মনে করেন, ডায়েট থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার মাধ্যমে ক্যানসার কোষগুলোকে অনাহারে মেরে ফেলা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এই ধারণাকে খণ্ডন করেছেন। কারণ গ্লুকোজের অভাব হলে ক্যানসার কোষগুলো প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে বিকল্প শক্তি সংগ্রহ করে নিজেদের বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, ক্যানসার ও অন্যান্য ক্রনিক রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা উচিত অতিরিক্ত মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় থেকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নারীর দৈনিক ২৫ গ্রাম এবং পুরুষের দৈনিক ৩৬ গ্রামের বেশি 'অ্যাডেড সুগার' গ্রহণ করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকতে অনেকে চিনি খাওয়া বাদ দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ‘নো সুগার’ ট্রেন্ড জনপ্রিয়। চিকিৎসকরাও এ বিষয়ে সচেতন করছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলেন, চিকি থেকে ক্যানসার হতে পারে। কেক, পেস্ট্রি, চকলেট থেকে শুরু করে গুড়-মিষ্টি সব কিছুকেই অনেকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এ বিষয়ে ভারতীয় অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে এর বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। সম্প্রতি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে সরাসরি ক্যানসার হয়। তিনি যোগ করেন, আমি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হয়েও বলতে পারি না যে, চকলেট বা কেক খেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার হবেই।
ডা. বিশ্বানি আরো বলেন, শরীরের প্রতিটি সক্রিয় কোষ, মস্তিষ্ক, কিডনি বা অন্ত্র শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে থাকে। তাই চিনি একেবারে বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে আক্রান্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় চিনি বা কার্বোহাইড্রেট একেবারে বন্ধ করলে শরীর শক্তির জন্য পেশি টিস্যু ভাঙতে শুরু করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ক্যানসার কোষ দ্রুত বাড়ে বলেই তারা বেশি শক্তি ব্যবহার করে। তবে এর মানে এই নয় যে, চিনি বন্ধ করলে ক্যানসার কোষ মারা যাবে বা উপবাস ক্যানসারের চিকিৎসা হতে পারে।
তিনি বলেন, সমস্যা চিনি নয়, সমস্যা হলো— এটি অতিরিক্ত খাওয়া। বেশি চিনি, স্থূলতা বা মেটাবলিক রোগ ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে শুধু এই কারণে ফল, শস্য বা ঘরের খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অল্প মিষ্টি বা স্বাভাবিক খাবার খাওয়া সমস্যা নয়, বরং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই একমাত্র আসল ঝুঁকি। ক্যানসারের ঝুঁকি কোনো একটি খাবার থেকে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন