প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাশির সময় বুকে ব্যথা অনুভবের অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সকলেরই দেখা দেয়। বুকের ব্যথার অনুভূতি স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে ভয় সৃষ্টি করে। এই অস্বস্তি হালকা থেকে তীব্র হতে পারে এবং বুকের যে কোন এক বা উভয় পাশেই অনুভূত হতে পারে।
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কাশির সময় বুকে ব্যথার কারণ, এর সহজ প্রতিকার এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, এই বিষয়গুলো জানা থাকলে আপনি আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই নির্দেশিকায় বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
কাশির সময় বুকে ব্যথা আসলে কেমন হয়ে থাকে?
কাশির কারণে বুকে ব্যথার ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। কারো ক্ষেত্রে এটি হঠাৎ করে এবং তীব্রভাবে অনুভূত হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে এটি একটানা মৃদু ব্যথার মতো মনে হতে পারে। এটি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় থাকতে পারে, আবার পুরো বুকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যদি কার্যত কাশি ক্রমাগত থাকে, তবে বুকে চাপ বা ভারি অনুভূতি হতে পারে। বিশেষ করে, আপনার যদি শুষ্ক কাশি (যেখানে কফের বদলে শুধুই বাতাস বেরিয়ে আসে) অথবা দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকে, তবে বুক ও পিঠে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে।
কাশির কারণে বুকে ব্যথার সাধারণভাবে কিছু লক্ষণ দেখা যায়—
• পেশিতে ব্যথা এবং সাধারণ শরীরব্যথা।
• ক্লান্তি এবং শারীরিক দুর্বলতা।
• কাশির সাথে কফ বা শ্লেষ্মা বের হওয়া।
• শ্বাস নিতে বা গিলতে অসুবিধা অনুভব করা।
• বুকে টানটান ভাব বা আড়ষ্টতা।
কাশির সময় বুকে ব্যথার সাধারণ কারণ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাশির সময় বুকে ব্যথা সাধারণ কারণসমূহ দ্বারা হয়ে থাকে। যেমন—
পেশিতে টান: তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণে বুক, পিঠ এবং পেটের পেশী ক্লান্ত হয়ে গেলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
তীব্র ব্রঙ্কাইটিস: এটি বুকের ঠান্ডা হিসাবেও পরিচিত। ব্রঙ্কিয়াল টিউবে প্রদাহের ফলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।
নিউমোনিয়া: ফুসফুসের সংক্রমণ এর কারণে কাশির সময় বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এর সঙ্গে সাধারণত জ্বর, কাঁপুনি এবং পেশীতে ব্যথা সহ আসে।
প্লুরিসি: ফুসফুসকে আবৃত করে রাখা প্লুরাল টিস্যুতে প্রদাহ হলে কাশির সময় বুকে ব্যথা শুরু হয়।
জিইআরডি (GERD): পাকস্থলীর অ্যাসিড যদি ক্ষুদ্রান্ত্রে উঠে আসে, তবে এটি বুকে জ্বালাপোড়া অথবা ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে, যা কাশির সঙ্গে তীব্র হয়ে থাকে।
যেসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন
কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে কাশিতে বুকে ব্যথা ঘটতে পারে, যেখানে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
হার্ট ফেইলিওর: যদি ক্রমাগত কাশির সঙ্গে গোলাপি রঙের কফ বের হয়, তবে এটি ফুসফুসে তরল জমার ইঙ্গিত দেয়।
পালমোনারি এম্বোলিজম: ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলে এতে বুকে ব্যথা ও কাশির সঙ্গে রক্তযুক্ত কফ বের হতে পারে।
পেরিকার্ডাইটিস: হৃৎপিণ্ডের প্রতিরক্ষামূলক আবরণে প্রদাহ হয়। এর সঙ্গে জ্বর ও কাঁপুনি থাকতে পারে।
নিউমোথোরাক্স: ফুসফুস চুপসে গেলে বুকে বা কাঁধে তীব্র আঘাতের মতো ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাস বা কাশির সঙ্গে বাড়তে থাকে।
কাশির সময় বুকে ব্যথার চিকিৎসা ও প্রতিকার
কাশির কারণে বুকে ব্যথার চিকিৎসায় সাধারণ ঘরোয়া উপায় বা চিকিৎসকের পরামর্শ, দুটোর মাঝে যে কোন একটি প্রয়োজন হতে পারে।
কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার
মধু এবং গরম পানি: এই মিশ্রণটি শ্বাসনালির অস্বস্তি দূর করতে এবং কাশি কমাতে সহায়তা করে।
গরম পানির ভাপ: যে জমে থাকা কফ তরল করে এবং শ্বাসকষ্ট উপশমে এটি কার্যকরী।
পর্যাপ্ত তরল পান: শরীরকে আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি, মধু মেশানো গরম চা এবং লেবুপানি পান করুন।
হিউমিডিফায়ার ব্যবহার: ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শুষ্ক কাশি ও নাকের অস্বস্তি হ্রাসে সহায়তা করে।
আদা চা: এটি গলার প্রদাহকে কমিয়ে স্বস্তি প্রদান করে।
লবণ-পানির গার্গল: গলার জ্বালা ও কাশির প্রকোপ কমানোর জন্য এটি কার্যকর।
তুলসী পাতা: তুলসী পাতার প্রদাহ-বিরোধী ও জীবাণুনাশক গুণ ব্রঙ্কাইটিস এবং কাশি উপশমে সহায়তা করে।
রসুনের সাপ্লিমেন্ট: শ্বাসযন্ত্রের উপরের অংশের সংক্রমণের ক্ষেত্রে রসুনের বিশেষ কার্যকারিতা রয়েছে।
চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসা
যদি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটতে থাকে, তবে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা দিতে পারেন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে হাসপাতালে ভর্তি করে শিরায় স্যালাইন, পরিপূরক অক্সিজেন, নেবুলাইজার বা কর্টিকোস্টেরয়েডের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
কাশির সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা হয়, তবে সবসময় ঘাবড়ানোর প্রয়োজন নেই, কিন্তু নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
• বুকে যদি ব্যথা বাম হাত, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে।
• কাশির সঙ্গে রক্ত বা রক্তযুক্ত কফ বের হয়।
• মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি ঘটে।
• হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি অনুভূত হয়।
• বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম বা বমি হয়।
• শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪° ফারেনহাইট (৩৮° সেলসিয়াস) এর বেশি হলে।
কাশির সময় বুকে ব্যথা হলে চিন্তিত হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে আশার কথা হলো যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ সর্দি-কাশি অথবা হালকা সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, গরম পানীয় বা মধু খাওয়ার মতো তাত্ত্বিক ঘরোয়া টোটকাতেই এটি সেরে যায়। নিজের শরীরের প্রতি সজাগ থাকুন। কিন্তু যদি শ্বাস নেওয়ার কষ্ট হয়, কাশির সাথে রক্ত যায় বা যদি ব্যথা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন