বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:৪৪ পি.এম
ভারতের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঙ্গনা রানাওয়াতের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে এসেছে অভিনেত্রী ও বাবা রামদেবের মধ্যে বাকযুদ্ধ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনার সমালোচনা করেন রামদেব।
সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রতিবাদ করতে যাওয়া নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের ‘নর্দমার কীট’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন কঙ্গনা। তার ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। কিন্তু পরে তিনি নতুন প্রজন্মকে দেশের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই প্রসঙ্গেই কঙ্গনার সমালোচনা করেছেন বাবা রামদেব। তিনি বলেন, যারা দেশের যুবসমাজকে নর্দমার সঙ্গে তুলনা করেন, তাদের নিয়ে তিনি কথা বলতে চান না। রামদেবের ভাষায়, এ ধরনের মন্তব্য ‘বিকৃত মনের’ পরিচায় দেয়। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর কঙ্গনার অতীত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রামদেব। তিনি জানতে চান, মন্তব্যটি যিনি করেছেন তার শৈশব ও যৌবন কেমন ছিল এবং অতীতে তার কী ধরনের কর্মকাণ্ড ছিল—সেটি কি মনে আছে?
রামদেবের এই বক্তব্যের জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান কঙ্গনা। তিনি বলেন, ‘বাবাজি, আমার যৌবন এবং বেডরুম নিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন।’ গুজবের ভিত্তিতে কারও সম্পর্কে মন্তব্য না করার আহ্বান জানান তিনি।
কঙ্গনা আরও দাবি করেন, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে কখনো সুপ্রিম কোর্টের মুখোমুখি হতে হয়নি। রামদেবের মন্তব্যকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তার বক্তব্য যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়েছে।
নিজের চরিত্র নিয়ে মন্তব্য না করার জন্য রামদেবকে সতর্ক করেন কঙ্গনা। তার দাবি, ‘আমার চরিত্র আপনার থেকে অনেক ভালো। এখানে অন্তত প্রতারণার বিষয় নেই।’
একই সঙ্গে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, যুবসমাজ দেশের শক্তি এবং প্রত্যেক তরুণই কারও না কারও সন্তান; তারা দেশের ভবিষ্যৎ। যন্তর মন্তরে যে নির্দিষ্ট ভিড় হয়েছিল, তিনি কেবল তাদের নিয়েই মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন।
কঙ্গনা আরও বলেন, তিনি যদি গোটা প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে কোনো মন্তব্য করে থাকেন—এমন নির্দিষ্ট বক্তব্য দেখানো যায়, তাহলে তিনি তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে রামদেবের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিরোধে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, তিনি কোনোভাবে যুবসমাজের বিরোধী নন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় গতকাল থেকে আইন প্রয়োগ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। রাজ্যে কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নগর ভবনে 'প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বার বার অনুরোধ করার পরও নগরবাসীর সচেতনতা বাড়ছে না। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে এখনও অনেক লার্ভা মিলছে। জনসচেতনতা ছাড়া একটি বাসযোগ্য নগর গড়া সম্ভব নয়।
ফুটপাতের ফুডকোর্টে যদি স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে জরিমানা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আব্দুস সালাম বলেন, কলেরার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ এবং কদমতলীর এক বছরের বেশি বয়সীদের কলেরার ওরাল টিকার আওতায় আনা হবে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চললে কলেরা প্রতিরোধ সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যা হবে সুখী, সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী।
তিনি আরও বলেন, যেখানে প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে, তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে পাশে থাকার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত অর্থবহ। একই সাথে তিনি দলের নেতৃত্ব, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও তার কাছ থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনার কথা আবেগভরে স্মরণ করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতি এবং দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের আলীকদমে মিয়ানমার সীমান্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৪ নাগরিককে আটক করেছে।
বিজিবি বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে আটককৃত ব্যক্তিদের আলীকদম থানায় হস্তান্তরের কাজটি সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলীকদম ৫৭-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মিয়ানমার থেকে ১৪ নাগরিক স্বেচ্ছায় আলীকদম ৫৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ক্রিলাইপাড়া চেকপোস্টে এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। বিজিবি তাদের নিজ হেফাজতে নিয়ে ক্রিলাইপাড়া চেকপোস্ট থেকে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে নিয়ে যায়।
আলীকদম ৫৭-বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা নিজেদের মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন বেসামরিক পোশাকে।
বিজিবি জানাচ্ছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ আইন, ফরেনার্স অ্যাক্ট, সরকারি নির্দেশনা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুযায়ী ওই ১৪ নাগরিকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিয়ে সরকার দয়া বা চ্যারিটি হিসেবে নয়, বরং সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে উদ্যোগী। সকল সাধারণ নাগরিকের মতো প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষাবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটি’র সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত একথা বলেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ২২টি জেলার ২২টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের সার্বিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও ঢাকার কড়াইল বস্তিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের যেকোনো শ্রেণিতে এবং মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন নির্মিতব্য সব স্টেশনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের র্যাম্প ছাড়াও টিকিট কাটা, যানবাহনে ওঠা ও টয়লেট ব্যবহারসহ ভ্রমণের পুরো প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন ও এক্সেসিবল করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ড. মুহিত বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশেষায়িত স্কুলগুলোকে আরও সুসংগঠিত করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ স্কুলগুলোকেও প্রতিবন্ধীবান্ধব করে তোলা হচ্ছে, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কোন শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্রেইল পদ্ধতি এবং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্যও কাজ চলছে।
সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, ভৌত কাঠামোর পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেও প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষের ভেতরের বিশেষ মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ