ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন, হামলা-মামলা এবং জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অর্জনকে বজায় রাখতে হলে দল-মত-ধর্ম-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এছাড়াও দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় ফরিদপুরে ‘নাগরিক আলোচনা ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ছেড়ে বন-জঙ্গলে, আদালতের বারান্দায় এবং এমনকি গাছতলায় দিন কাটাতে হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী কারাগারে ছিলেন এবং হাজার হাজার মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছে। সেই কঠিন সময় অতিক্রম করেই আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।’

আরও পড়ুন: গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে: শিশির মনির

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা আজ একই মঞ্চে গণতন্ত্রের কথা বলতে পারছি। যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতি তাদের কাছে ঋণী। সরকার তাদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু কিছু ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে আন্দোলনের ১৭ বছরের অর্জন যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, ‘সমাজ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অপরাধ নির্মূল না হলে গণতন্ত্রের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকেও এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন: আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের উদ্বোধনে পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবার শেষ বিদায়ে ছিলেন না মোজতবা খামেনি, নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


বাবার শেষ বিদায়ে ছিলেন না মোজতবা খামেনি, নেপথ্যে কী?

নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার আয়োজন ছিল, কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না তার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। জানা যাচ্ছে, তিনি দাফন অনুষ্ঠানেও আসবেন না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণে মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকতে সক্ষম হননি।

তিনি উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ খামেনিকে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের হুমকির উত্তর ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার’ মাধ্যমে দেওয়া হবে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্বারা একযোগে হামলায় নিহত হন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং সারা দেশে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এই জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এবং প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকও সেখানে অবস্থান করেছিলেন।

হিসাব অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানিয়েছে, খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরানজুড়ে ও ইরাকে ছয় দিনের জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ্য, ৪ থেকে ৫ জুলাই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হবে, যেখানে প্রথম দিন জানাজা কর্মসূচি হবে। ৬ জুলাই তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তার জামাতা, কন্যা, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) ও নাতনির মরদেহ বহন করা হবে। পরের দিন কোম শহরে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা সমাবেশ। এবং পরে ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকে। সেখানে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজার আয়োজন করা হবে। পরদিন ইরানের মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.)–এর মাজারে খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে : ডেপুটি স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে : ডেপুটি স্পিকার

বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের গৌরবময় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান।

ঠিক তেমনি, আমেরিকার আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ও আমেরিকা আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।’

শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন জানান, “১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সব মানুষ সমান’।

আজ ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে আমরা বৈশ্বিক অংশীদারি জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি জানান, ‘এই ঐতিহাসিক ক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায়, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারি ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।’

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় অবদান।

আজকের এই সংগীতায়োজন সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে, যা কেবল বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিতে রূপ দেবে।”

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধু।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা এই গভীর অংশীদারিরই প্রমাণ। আগামীতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।’

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।’

জমকালো এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদীয় ককাসের সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরসরাইয়ে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ ও গণমিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​সাকিব চৌধুরী (চট্টগ্রাম)

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ পি.এম


মিরসরাইয়ে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ ও গণমিছিল

জুলাইয়ের গণ-হত্যা, খুন, গুমসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিক্ষোভ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় জোট। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জোটের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অংশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন বিকেল ৫টায় মিরসরাই থানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় ফুটওভার ব্রিজের নিচে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার। মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত জুলাইয়ের গণ-হত্যাসহ সকল গুম ও খুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে জনগণের ভোটের অধিকার সুসংহত করতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে রহস্যময় গভীর গর্তের সৃষ্টি, কী হচ্ছে সেখানে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ পি.এম


তুরস্কে রহস্যময় গভীর গর্তের সৃষ্টি, কী হচ্ছে সেখানে?

তুরস্কের ‘শস্যভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত কোনিয়া অঞ্চলে একের পর এক রহস্যময় গভীর গর্তের (সিঙ্কহোল) দেখা মিলছে। যদি বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, কোনিয়া অববাহিকায় এ পর্যন্ত ৬৮৪টি সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ব্যাস ২২৮ মিটার এবং গভীরতা ১৭১ মিটার।

স্থানীয় কৃষক মেহমেত আকিফ ইশিকলি জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তার জমির মাঝখানে প্রথম বড় একটি গর্ত তৈরি হয় এবং পরে পাশের জমিতে একই ধরনের সিঙ্কহোল দেখা দেয়। তিনি আরো বলেন, যখন জমি ধসে পড়ছিল, তখন ভেতর থেকে পানি বুদবুদের মতো অ্যাসেন্ড করছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনিয়া একটি বন্ধ অববাহিকা হওয়ায় এখানকার নদী ও ভূগর্ভস্থ পানি সমুদ্রে পৌঁছায় না। এই পানি অঞ্চলের হ্রদ, জলাভূমি এবং কৃষি ব্যবস্থার প্রধান ভরসা। তবে, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে, মাটির নিচের চুনাপাথরের স্তর দুর্বল হয়ে ধসে পড়ছে।

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে তুরস্ক পানি-সংকটাপন্ন দেশে পরিণত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি খরা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের তুরস্ক শাখার তথ্য অনুযায়ী, কোনিয়া অঞ্চলে প্রায় এক লাখ নলকূপ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৬ হাজারই অবৈধ। ২০১৪ সালে এই অঞ্চলে পানির ব্যবহার প্রাপ্যতার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকরা বর্তমানে ফসল বাঁচাতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত করছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত পুনঃপূরণ না হওয়ায় ভবিষ্যতে পানির মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সিঙ্কহোলের সংখ্যা বাড়ছে।

কোনিয়া টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ফেতুল্লাহ আরিক বলেন, এই গর্তগুলো খুবই বিপজ্জনক। এখন পর্যন্ত এতে প্রাণহানি ঘটেনি, তবে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অনেক কৃষক আতঙ্কে গর্তগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করেন, যা আরও বড় ধসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান কৃষিনীতিতে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। সরকার এখনো এমন সব ফসলের চাষে ভর্তুকি দিচ্ছে, যেগুলোতে প্রচুর পানি প্রয়োজন, যেমন ভুট্টা ও সুগার বিট। এর পরিবর্তে কম পানি প্রয়োজন এমন স্থানীয় গম বা আঙুরের মতো ফসল চাষে উৎসাহ দিলে পানির ওপর চাপ কমবে।

এদিকে, কোনিয়া টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা সিঙ্কহোলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে বিশেষ মানচিত্র প্রস্তুত করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না আনা হয়, তাহলে আগামী বছরের মধ্যে কোনিয়া অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%