ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে: শিশির মনির


গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে: শিশির মনির

মাদ্রাসার শিক্ষকদের (সবাই নয়) সম্পর্কে সমাজে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে ধীরে ধীরে। কিছু ব্যক্তির কারণে এই ধরনের নেতিবাচক ধারণাগুলি ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত আত্মসমালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ল ল্যাব’-এর হেড অব চেম্বারস অ্যাডভোকেট শিশির মনির তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন।

বিডিআর মামলা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘বিডিআর মামলা। ১৫২ জনের ফাঁসি এবং ১৫১ জনের যাবজ্জীবন। রাষ্ট্র কি এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না? মনে করলে অন্যগুলির সাথে দ্রুত শুনানির আবেদন করেনি কেন?’

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘আসছে স্থানীয় সরকার [ইউনিয়ন ও অন্যান্য] নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ করে দিন। এনআইডি করার পদ্ধতি সহজ করে দিন। একটু দ্রুত করুন প্লিজ।’

পাচার হওয়া অর্থের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘শ্বেতপত্র অনুযায়ী প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার জব্দ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু সম্পদ জব্দও করেছে। বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


ইরানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বৈঠকে বসছে ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ বৈঠকটি ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইও আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি উল্লেখ করেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলা করা তেহরানের কৌশলগত নীতির অংশ।

বাঘেরি আরও বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা মডেল, যা নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সফলতা অর্জন করেছে।

আইআরআইবি বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেনি। তবে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকটি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন আলোচনায় রয়েছে, তখন চার দেশের এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের এই জোটের সব সদস্যের সঙ্গে ইরানের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এটি প্রথম যোগাযোগ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিডনির নতুন বিমানবন্দর থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


সিডনির নতুন বিমানবন্দর থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে নির্মিত নতুন বিমানবন্দর থেকে সোমবার প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন করেছে, যা কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট যাত্রা শুরু করল, যা সিডনির প্রধান বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, সিডনির বিদ্যমান প্রধান বিমানবন্দরটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কার্যকর রয়েছে।

এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

সোমবার সকালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজ নতুন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর সেটি আবার উড্ডয়ন করে। এর মাধ্যমে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সপ্তাহে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম শুরু হলো।

এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেট বয়ার মন্তব্য করেন, ‘একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের অংশ হতে পারা প্রতিদিনের ঘটনা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিম সিডনিতে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। এই বিমানবন্দর অস্ট্রেলিয়ার দর্শনার্থীদের জন্য দেশটির বৈচিত্র্যময় আকর্ষণগুলো ঘুরে দেখার জন্য আরও একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।’

নতুন এই বিমানবন্দরটি একটি রানওয়ে নিয়ে নির্মিত হয়েছে এবং এটি পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম বড় বিমান চলাচলকেন্দ্র। রোববার এখান থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। এর আগে জুলাই মাসে পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

সিডনির প্রধান বিমানবন্দর কিংসফোর্ড স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর। গত বছর এখানে তিনটি রানওয়ে ব্যবহার করে চার কোটি ২০ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন।

বিমানবন্দরটি শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে বোটানি বে এলাকায় অবস্থিত। এখান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণকারী উড়োজাহাজের শব্দ শহরের বহু আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। রাতের বেলায় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচলে সেখানে সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

তবে পশ্চিম সিডনির নতুন এই বিমানবন্দরে এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। এটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা যাবে।

বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী সাইমন হিকি বলেছেন, ‘২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখার সুবিধার মাধ্যমে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচলকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে আরও বেশি নমনীয়তা দেবে। একই সঙ্গে ভ্রমণকারীরাও বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ পাবেন।’

অস্ট্রেলিয়ার উড়োজাহাজ সংস্থা কোয়ান্টাসের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেটস্টার বর্তমানে নতুন বিমানবন্দরের প্রধান অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি গোল্ড কোস্ট, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থা এখানে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। এর মধ্যে ভিয়েতনামের ভিয়েতজেট এয়ার ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে, ফিজি এয়ারওয়েজ একই বছরের মার্চ থেকে এবং কাতার এয়ারওয়েজ ডিসেম্বর থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে।

আশপাশের পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয় বাদে বিমানবন্দরটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার, যা প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, নতুন বিমানবন্দরটি দেশটির জন্য একটি ‘চমৎকার নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরটি পশ্চিম সিডনিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে সিডনির বিখ্যাত বন্দর এলাকা ও কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক অঞ্চলের তুলনায় কম গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

আলবানিজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সিডনির মনোযোগ ছিল বন্দর ও কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক অঞ্চলকে ঘিরে। নতুন এই বিমানবন্দর সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনবে। এখন মানুষের বসবাসের এলাকা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের কেন্দ্র— পশ্চিম সিডনির দিকে মনোযোগ বাড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কীভাবে তার উত্থান: শ্রমিক থেকে চারবারের প্রেসিডেন্ট লুলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


কীভাবে তার উত্থান: শ্রমিক থেকে চারবারের প্রেসিডেন্ট লুলা

দারিদ্র্য থেকে রাজনীতির শীর্ষে পৌঁছানো, শ্রমিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হওয়া। কারাগারে যাওয়ার পরও তিনি ক্ষমতায় ফিরে এসেছেন। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনায় রয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা রাজনৈতিক জীবনে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন। একসময় দারিদ্র্যের কারণে শৈশবেই কাজ শুরু করতে হয়েছিল তাকে। পরে তিনি কারখানার শ্রমিক, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, রাজপথের আন্দোলনকারী থেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তিনবার নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ২০০২ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যেতে হয় তাকে। তবে আইনি লড়াই শেষে রাজনীতিতে ফিরে ২০২২ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গল্প আরও দীর্ঘ হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও লুলা এখন আলোচিত। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি বারবার শিরোনাম হয়েছেন। তার সমর্থকদের কাছে লুলা সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিকের অধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, তার কিছু বক্তব্য কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি কখনো কখনো অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই

লুলার জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৭ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পারনামবুকো রাজ্যের গারানিউন্স শহরে। তিনি দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। পরিবারের আর্থিক সংকট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। উন্নত জীবনের আশায় তার মা সন্তানদের নিয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাও পাওলোতে পাড়ি জমান। তখন লুলার বয়স ছিল সাত বছর। পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নতুন জায়গায় বসতি গড়লেও অভাব তাদের পিছু ছাড়েনি।

শৈশবেই সংসারের খরচ জোগাতে কাজ করতে হয়েছে লুলাকে। কখনো রাস্তায় চিনাবাদাম, কমলা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেছেন, কখনো জুতায় পালিশ করেছেন। পরে কারখানায় কাজ নেন। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বেশি দূর এগোয়নি তার। তবে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে ধাতব শিল্পে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেন। একপর্যায়ে তিনি লেদ মেশিন পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং সাও পাওলোর শিল্পাঞ্চলে ধাতব কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

কারখানার কঠিন পরিবেশ, কম মজুরি এবং শ্রমিকদের নানা সমস্যার অভিজ্ঞতা তাকে শ্রমিক আন্দোলনের দিকে টেনে নেয়। ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামও তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে। শ্রমিকদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন। ফলে শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক বৈষম্য কমানোর দাবি তার রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসে।

শ্রমিক নেতা থেকে রাজনীতির মঞ্চে

লুলার রাজনৈতিক উত্থানের গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৯৭০-এর দশক। ব্রাজিল তখন সামরিক শাসনের অধীনে। এ সময় সাও পাওলোর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৭৫ সালে সাও বার্নার্দো দো কাম্পু ও দিয়াদেমার ধাতবশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পদ তাকে শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

সামরিক শাসনের শেষদিকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও উন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে বড় বড় ধর্মঘট সংগঠিত করেন লুলা। ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে তার নেতৃত্বে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক শ্রমিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৯৭৯ সালে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিকের অংশগ্রহণে বড় ধরনের ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেন তিনি। আন্দোলন দমনে কর্তৃপক্ষ ইউনিয়নের ওপর হস্তক্ষেপ করে এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় লুলাকে গ্রেফতারও করা হয়।

তবে দমন-পীড়ন তার জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি। বরং শ্রমিকদের অধিকার এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি বাড়ে। এ সময় ব্রাজিলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও জোরালো হচ্ছিল। লুলা বুঝতে পারেন, শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে শুধু কারখানা বা ইউনিয়নের আন্দোলন যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।

১৯৮০ সালে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, বুদ্ধিজীবী, সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি ও বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্কার্স পার্টি বা পার্টিদো দোস ত্রাবালহাদোরেস (পিটি)। দলটি শ্রমিকের অধিকার, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়। দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে লুলা দ্রুত জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন।

১৯৮৬ সালে সাও পাওলো থেকে ফেডারেল ডেপুটি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৯ সালে সামরিক শাসন-পরবর্তী প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোটে ফার্নান্দো কোলর দে মেলোর কাছে হেরে যান। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের নির্বাচনেও পরাজিত হন। তবে প্রতিটি নির্বাচনে তার পরিচিতি ও সমর্থনের ভিত্তি বিস্তৃত হতে থাকে।

২০০২ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট

পরপর তিনবার পরাজয়ের পর ২০০২ সালের নির্বাচনে কৌশল বদলান লুলা। শ্রমিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রশ্নে নিজের অবস্থান ধরে রাখলেও অর্থনীতি ও বিনিয়োগের বিষয়ে তুলনামূলক মধ্যপন্থি বার্তা দেন। এতে ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের একাংশের উদ্বেগ কমে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।

শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে আসা একজন নেতার রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া ব্রাজিলের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কমানো। দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাজিলের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও তার সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

লুলার প্রথম দুই মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মসূচির সম্প্রসারণের ফলে লাখো মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। সরকার দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ও ব্রাজিলের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে টিকে থাকার বিষয়টি তার সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

২০০৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন লুলা। ২০১০ সালে তার সমর্থিত প্রার্থী দিলমা রুসেফ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দুই মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছাড়লেও লুলার রাজনৈতিক প্রভাব অটুট ছিল। তবে তার দল ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পরবর্তী সময়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে।

দুর্নীতির মামলা, কারাবাস ও প্রত্যাবর্তন

লুলার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে দুর্নীতির তদন্তের সময়। ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্ত এবং ‘অপারেশন কার ওয়াশ’ নামে পরিচিত অভিযানের সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালে একটি মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরের বছর কারাগারে যাওয়ায় ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। তার সমর্থকদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। বিপরীতে বিরোধীরা অভিযোগ করেন, দুর্নীতির দায় এড়াতে তিনি রাজনৈতিক সমর্থন কাজে লাগাচ্ছেন।

২০১৯ সালে মুক্তি পান লুলা। ২০২১ সালে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা বাতিল করে। আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, যে আদালত তার বিচার করেছিল, সেই আদালতের এ মামলার বিচার করার এখতিয়ার ছিল না। সংশ্লিষ্ট বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। এর ফলে লুলার রাজনৈতিক অধিকার ফিরে আসে এবং তিনি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান।

২০২২ সালের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৎকালীন ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। তীব্র মেরুকরণ ও উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় বলসোনারোকে হারিয়ে জয়ী হন লুলা। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। তার এ জয়কে সমর্থকেরা গণতন্ত্র ও সামাজিক নীতির প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখেন। তবে বলসোনারোর সমর্থকদের বড় অংশের মধ্যে লুলাবিরোধী মনোভাবও বজায় থাকে।

কেন যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর সমালোচক লুলা?

লুলার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বড় শক্তিগুলোর প্রভাবের বাইরে থেকে ব্রাজিলের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা। তিনি বহুপক্ষীয় কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সংলাপ এবং জাতিসংঘের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির জোরে কোনো দেশ অন্য দেশের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। এ অবস্থান তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত করেছে।

বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে লুলা প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে স্পেনের সংবাদপত্র এল পায়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রসঙ্গে লুলা বলেন, কোনো দেশের নেতারই সকালে উঠে অন্য একটি দেশকে হুমকি দেওয়ার অধিকার নেই। সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা আছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নিজের নিয়মে চালাতে পারে, এমন ধারণাকেও তিনি ভুল বলে মন্তব্য করেন।

লুলার এ অবস্থানের পেছনে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক নীতিরও ভূমিকা রয়েছে। দেশটি লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক সহযোগিতা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গ্লোবাল সাউথের প্রভাব বাড়ানোর পক্ষে কথা বলে আসছে। লুলা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে কেবল সামরিক শক্তি নয়, আলোচনা ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ কারণেই ভেনেজুয়েলা, ইরান এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন তিনি।

গাজা ইস্যুতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরব

ইসরাইলের গাজা অভিযান নিয়ে লুলার বক্তব্য তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও আলোচনায় এনেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলি বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানালেও গাজায় ইসরাইলের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি অতিরিক্ত ও নির্বিচার বলে সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য, হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অজুহাতে নারী ও শিশুদের হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলেছেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসর সফরের সময় লুলা ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য ঘিরে ইসরাইলের সঙ্গে ব্রাজিলের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ইসরাইলি সরকার তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। লুলার সমর্থকেরা বলেন, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধ করা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন রক্ষার প্রশ্নে তিনি নীতিগত অবস্থান নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের মতে, তার ব্যবহৃত কিছু তুলনা ও ভাষা অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

লুলার অবস্থানকে শুধু ইসরাইলবিরোধিতা হিসেবে ব্যাখ্যা করলে তার কূটনৈতিক বক্তব্যের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। তিনি একদিকে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন, অন্যদিকে ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন। তার ঘোষিত অবস্থান হলো, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রয়োজন। তবে গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার তীব্র ভাষা এবং ইসরাইলি সরকারের নীতির সরাসরি সমালোচনার কারণেই তাকে ইসরাইলের অন্যতম কঠোর সমালোচক হিসেবে দেখা হয়।

২০২৬ সালে আবারও আলোচনায় লুলা

২০২৬ সালের নির্বাচনে ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে জয় পেয়ে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুলা। তার এই জয়কে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। মেক্সিকো, কানাডা, কিউবা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্সসহ কয়েকজন প্রগতিশীল মার্কিন রাজনীতিক লুলার জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নতুন মেয়াদে লুলার সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের ভেতরে জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আমাজন বনাঞ্চল রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার সরকারের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

লুলার রাজনৈতিক শক্তির বড় অংশ আসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সংযোগ থেকে। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা, শ্রমিক হিসেবে কাজ করা এবং ইউনিয়ন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাকে শ্রমজীবী মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে। সামাজিক সহায়তা ও দারিদ্র্য হ্রাসের কর্মসূচিও তার সমর্থনের ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং তার পররাষ্ট্রনীতির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পলো বাওয়া উৎসব আছে, কিন্তু নেই আগের মতো মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


পলো বাওয়া উৎসব আছে, কিন্তু নেই আগের মতো মাছ

একদিকে মাছ ধরার আনন্দ, অন্যদিকে দেশি মাছের সংকট-এ নিয়েই অনেক খাল-বিলে পলো বাওয়া উৎসবে মাছ ধরতে ঢল নামছে মানুষের। তবে আগের মতো নেই দেশি মাছের ভাণ্ডার। এ নিয়ে মাছ শিকারে আসা মানুষের কণ্ঠে উঠে আসছে হতাশা আর উদ্বেগ।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নানা বয়সী মানুষ পলোসহ নানা উপকরণ নিয়ে পানিতে নেমেছেন মাছ ধরতে। কেউ পলোর ভেতর হাত দিয়ে মাছ খুঁজছেন, কেউ আবার অন্য কোনোভাবে শিকারের চেষ্টা করছেন। ছড়াজুড়ে মাছ শিকারের দৃশ্যে সৃষ্টি হয় গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা আনন্দঘন পরিবেশ।

মাছ শিকারে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছড়া, নালা, দোলা ও অন্যান্য জলাশয়ে দল বেঁধে পলো দিয়ে মাছ ধরার প্রচলন ছিল। তখন এসব জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশি মাছ কমে গেছে। তাই মাছ শিকারের সেই আনন্দ এখন অনেকটা ম্লান।

মাছ শিকারিদের অভিযোগ, এক শ্রেণির মানুষ নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরছে। এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ এমনকি মাছের পোনাও আটকা পড়ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। এতে দিন দিন কমছে দেশি মাছ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ উদ্যোগ ও নজরদারির মাধ্যমে শিমুলবাড়ী ছড়াসহ উপজেলার ছড়া, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্য ফিরবে। আবারো প্রাণ ফিরে পাবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব।

উৎসবে ইসমাইল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম মাছ শিকারে আসেন ভাঙামোড় এলাকা থেকে। তাদের ভাষ্য, মাছের সংকটের অন্যতম কারণ চায়না দুয়ারি জালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সূক্ষ্ম ফাঁসের এ জাল পাতা হয় পানির প্রবাহপথে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও পোনা আটকা পড়ে। এভাবে নির্বিচারে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে।

রাবাইটারী এলাকা থেকে আসা ইকবাল হোসেন ও মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আগে আমরা দল বেঁধে পলো দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দোলা, ছড়া ও নালায় মাছ ধরতে যেতাম। মাছ ধরার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ ও প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু এখন আর আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে দেশি মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ছে।

দুই মাছ শিকারি আরো বলেন, দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র রক্ষা, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের ভাস্য, ‘ফুলবাড়ী উপজেলায় বড় ছড়াগুলোর মধ্যে শিমুলবাড়ী ছড়া অন্যতম। একসময় এ ছড়ায় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আগের মতো দেশি মাছ আর মিলছে না। তবু মাছ ধরার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে। তবে দল বেঁধে পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়লেও অনেকের মুখেই শোনা যায়, ‘ছড়ায় এখন মাছের বড়ই অভাব’।

প্রধান শিক্ষক বলেন, শিমুলবাড়ী ছড়ায় মাছ ধরতে আসা মানুষের ভিড় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনের আনন্দকে তুলে ধরে। তবে দেশি মাছ কমে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

জলাশয়গুলোতে মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে হলে মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন এই শিক্ষক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%