প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে নির্মিত নতুন বিমানবন্দর থেকে সোমবার প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন করেছে, যা কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট যাত্রা শুরু করল, যা সিডনির প্রধান বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, সিডনির বিদ্যমান প্রধান বিমানবন্দরটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কার্যকর রয়েছে।
এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
সোমবার সকালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজ নতুন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর সেটি আবার উড্ডয়ন করে। এর মাধ্যমে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সপ্তাহে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম শুরু হলো।
এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেট বয়ার মন্তব্য করেন, ‘একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের অংশ হতে পারা প্রতিদিনের ঘটনা নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিম সিডনিতে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। এই বিমানবন্দর অস্ট্রেলিয়ার দর্শনার্থীদের জন্য দেশটির বৈচিত্র্যময় আকর্ষণগুলো ঘুরে দেখার জন্য আরও একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।’
নতুন এই বিমানবন্দরটি একটি রানওয়ে নিয়ে নির্মিত হয়েছে এবং এটি পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম বড় বিমান চলাচলকেন্দ্র। রোববার এখান থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। এর আগে জুলাই মাসে পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
সিডনির প্রধান বিমানবন্দর কিংসফোর্ড স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর। গত বছর এখানে তিনটি রানওয়ে ব্যবহার করে চার কোটি ২০ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
বিমানবন্দরটি শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে বোটানি বে এলাকায় অবস্থিত। এখান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণকারী উড়োজাহাজের শব্দ শহরের বহু আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। রাতের বেলায় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচলে সেখানে সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
তবে পশ্চিম সিডনির নতুন এই বিমানবন্দরে এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। এটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা যাবে।
বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী সাইমন হিকি বলেছেন, ‘২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখার সুবিধার মাধ্যমে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচলকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে আরও বেশি নমনীয়তা দেবে। একই সঙ্গে ভ্রমণকারীরাও বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ পাবেন।’
অস্ট্রেলিয়ার উড়োজাহাজ সংস্থা কোয়ান্টাসের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেটস্টার বর্তমানে নতুন বিমানবন্দরের প্রধান অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি গোল্ড কোস্ট, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থা এখানে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। এর মধ্যে ভিয়েতনামের ভিয়েতজেট এয়ার ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে, ফিজি এয়ারওয়েজ একই বছরের মার্চ থেকে এবং কাতার এয়ারওয়েজ ডিসেম্বর থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে।
আশপাশের পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয় বাদে বিমানবন্দরটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার, যা প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, নতুন বিমানবন্দরটি দেশটির জন্য একটি ‘চমৎকার নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরটি পশ্চিম সিডনিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে সিডনির বিখ্যাত বন্দর এলাকা ও কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক অঞ্চলের তুলনায় কম গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
আলবানিজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সিডনির মনোযোগ ছিল বন্দর ও কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক অঞ্চলকে ঘিরে। নতুন এই বিমানবন্দর সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনবে। এখন মানুষের বসবাসের এলাকা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের কেন্দ্র— পশ্চিম সিডনির দিকে মনোযোগ বাড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন