ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরপুরে জরাজীর্ণ ঘরেই ধান নিয়ে গবেষণা, ২১ বছরে ২৫ জাত উদ্ভাবন সেন্টু হাজংয়ের


শেরপুরে জরাজীর্ণ ঘরেই ধান নিয়ে গবেষণা, ২১ বছরে ২৫ জাত উদ্ভাবন সেন্টু হাজংয়ের

আধুনিক গবেষণাগার কিংবা উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই সীমান্তবর্তী শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষক সেন্টু চন্দ্র হাজং ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

মাত্র ১২ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলক চাষের মাধ্যমে ২১ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তিনি মোট ২৫টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। তার উদ্ভাবিত এসব ধানের প্রতি দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। পাশাপাশি দেশি ধানের বিলুপ্তপ্রায় জাত সংরক্ষণেও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

মেঘালয়ের কোল ঘেঁষা নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামের কৃষক পরিবারে জন্ম সেন্টু হাজংয়ের। এসএসসি পাসের পর আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও কৃষি নিয়ে নতুন কিছু করার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। ২০০৫ সালে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) কারিতাস থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ধানের দুটি ভিন্ন জাতের মধ্যে সংকরায়ণ বা ব্রিডিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে নতুন জাত তৈরির কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন: মমেক হাসপাতালে অনিয়মের প্রতিবাদে ময়মনসিংহ মঞ্চের বিক্ষোভ

প্রত্যন্ত গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসেই চলে তার গবেষণার পরিকল্পনা। নিজস্ব গবেষণাগার, আধুনিক যন্ত্রপাতি বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। গবেষণার সুবিধার্থে নিজের ১২ কাঠা জমিতে ৪৪০টি পরীক্ষামূলক প্লট তৈরি করেছেন এই কৃষক।

সেন্টু হাজংয়ের উদ্ভাবিত ধানগুলোর মধ্যে ‘সেন্টু শাইল’, তিন ধরনের ‘সেন্টু পাইজাম’, তিন ধরনের ‘চিনি শাইল’ ও ‘তুলশিমালা’ উল্লেখযোগ্য। তার উদ্ভাবিত জাতগুলো সেন্টু-১ থেকে সেন্টু-২৫ পর্যন্ত নামকরণ করা হয়েছে। প্রথম সফল জাত ‘সেন্টু শাইল’ উদ্ভাবন করতে তাকে টানা সাত বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়। বর্তমানে আরও দুই শতাধিক জাত উদ্ভাবনের কাজ তার প্রক্রিয়াজাত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাই–জগন্নাথপুর সীমান্তে কামারখালী নদীর ব্রিজের পূর্বপাড় বেহাল, জনদুর্ভোগ চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিরাই প্রতিনিধি

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


দিরাই–জগন্নাথপুর সীমান্তে কামারখালী নদীর ব্রিজের পূর্বপাড় বেহাল, জনদুর্ভোগ চরমে

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা ও জগন্নাথপুর উপজেলার মধ্যবর্তী কামারখালী নদীর ব্রিজের পূর্বপাড়ের সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সড়কটি এতটাই গর্ত ও ভাঙাচোরায় ভরে গেছে যে, সিএনজি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ব্রিজের পশ্চিমপাড় দিরাই উপজেলা এবং পূর্বপাড় জগন্নাথপুর উপজেলার আওতাধীন। দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পূর্বপাড়ের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী ও পথচারীরা।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে সিএনজি ও অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে কামারখালী নদীর ব্রিজের পূর্বপাড়ের সড়কটি দ্রুত সংস্কার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে পিআইবি'র মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


ফেনীতে পিআইবি

ফেনীতে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) এর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী "মাল্টিমিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং" বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ ২৬ অক্টোবর, রবিবার সকালে জেলা শহরের একটি মিলনায়তনে এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ফেনীর জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি *সিদ্দিক আল মামুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী পৌরসভার প্রশাসক, নুরুদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিম বলেন, "বর্তমান সময়ে গুজব ও অপতথ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাংবাদিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করতে হবে। পিআইবির এই প্রশিক্ষণ তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ফেনী জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার তরুণ সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করছেন।

কর্মশালাটি ২৬ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী চলবে। এতে মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি, এআই টুলসের ব্যবহার, ভুল তথ্য যাচাইকরণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৭ পি.এম


কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ

পিরোজপুরের কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা পরিষদ চত্বরের ফাঁকা জায়গায় নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি কাউখালী উপশাখার সিনিয়র অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং ব্যাংকের সার্বিক আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাসুম মিয়া, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আবু কাওছার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহ ইমরান ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মিলন কুমার রায়, উপসহকারী কৃষি অফিসার মাইনুল হুদা ও সৈয়দ ফাহিম। এছাড়া পূবালী ব্যাংক পিএলসি কাউখালী উপশাখার অফিসার সাদ্দাম হোসেন ও সাইফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়াতে উপজেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় নারিকেল, আম, জাম, কাঁঠাল, আমলকী ও হরিতকিসহ প্রায় ৫ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
আজকের এই উদ্যোগটি সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে হলে বেশি করে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে পূবালী ব্যাংকের এই অংশগ্রহণ আমাদের কাউখালী উপজেলাকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে সবসময় সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।
কর্মসূচির সার্বিক বিষয়ে পূবালী ব্যাংক পিএলসি কাউখালী উপশাখার সিনিয়র অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন,
পূবালী ব্যাংক সবসময়ই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকেই আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। কাউখালীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এই বৃক্ষরোপণ অভিযান সফল হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থিসিসে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন, গবেষণায় সাফল্যের পথে চবির শাকিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


থিসিসে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন, গবেষণায় সাফল্যের পথে চবির শাকিল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ শাকিল থিসিসভিত্তিক মাস্টার্স পরীক্ষায় ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করে ডিস্টিংশন লাভ করেছেন। স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় তিনি ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৯০ সিজিপিএ নিয়ে ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। শাকিল সৌরশক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নতুন কার্যকরী পদার্থ নিয়ে গবেষণায়ও অবদান রাখছেন। ইতোমধ্যে তাঁর তিনটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে স্নাতক পর্যায়ের প্রথম ও তৃতীয় বর্ষে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন বৃত্তি লাভ করেন শাকিল। উভয় বর্ষেই প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। অনার্সে ভালো ফলাফলের জন্য ২০২৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (ডিএসএইচই) থেকে মেধাবৃত্তি পান।

শাকিলের গবেষণার আগ্রহ তৈরি হয় স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে পড়াশোনার সময়। সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তরের প্রযুক্তি এবং আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর সৌরকোষ তৈরির সম্ভাবনা তাঁকে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে, পেরোভস্কাইটভিত্তিক সৌরকোষের বিকল্প উপাদান নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকে তিনি হ্যালাইড ডাবল পেরোভস্কাইট নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

এ গবেষণায় তিনি কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রির সাহায্যে বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক গঠন, ইলেকট্রনিক বৈশিষ্ট্য ও সৌরকোষে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করেন। প্রথম-নীতিভিত্তিক গণনা ও সৌরকোষের ডিভাইস সিমুলেশন ব্যবহার করে পরিচালিত এ গবেষণায় K₂LiGaBr₆ নামের একটি পদার্থের ব্যান্ড গ্যাপ ১.১৯ ইলেকট্রনভোল্ট পাওয়া যায়। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সৌরকোষ কাঠামোর সিমুলেশনে প্রায় ২৭ শতাংশ দক্ষতার সম্ভাবনা দেখা যায়। গবেষণাটি ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক Q1-শ্রেণিভুক্ত সাময়িকী Materials Advances-এ প্রকাশিত হয়।

এর আগে স্নাতক পর্যায়ে সৌরকোষে ব্যবহারের সম্ভাবনাময় জৈব রঞ্জক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করেন শাকিল। ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (DFT) ও টাইম-ডিপেন্ডেন্ট ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (TD-DFT) ব্যবহার করে বিভিন্ন রঞ্জকের আলো শোষণ ও অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেন তিনি। এ গবেষণার ফলাফল ২০২৪ সালে Chemical Physics Impact সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

কম্পিউটেশনাল গবেষণার পাশাপাশি পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণাতেও কাজ করেছেন শাকিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন কেমিক্যাল সায়েন্সেসে (LARCS) তাঁর মাস্টার্সের থিসিস গবেষণা সম্পন্ন করেন। পিপেরোনাল ও বেনজোহাইড্রাজাইড থেকে তৈরি শিফ বেস লিগ্যান্ডের সঙ্গে টাইটানিয়াম ও ভ্যানাডিয়ামের কমপ্লেক্স সংশ্লেষণ এবং সেগুলোর রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ছিল তাঁর গবেষণার মূল বিষয়। এ কাজে যৌগ সংশ্লেষণ, বিভিন্ন স্পেকট্রোস্কোপিক পরীক্ষা, কম্পিউটেশনাল বিশ্লেষণ ও মলিকিউলার ডকিংয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেন তিনি। তাঁর থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

শাকিলের গবেষণার পরিধি শুধু সৌরকোষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫ সালে ChemistrySelect সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় আইবুপ্রোফেনের বিভিন্ন ডেরিভেটিভের সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে কার্যকারিতা কম্পিউটেশনাল পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করেন তিনি। প্রাকৃতিক অ্যালকালয়েডভিত্তিক সম্ভাব্য KRAS G12D ইনহিবিটর নিয়ে তাঁর আরেকটি গবেষণাপত্র পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে শাকিল মনে করেন, কম্পিউটার সিমুলেশনে কোনো পদার্থের আশাব্যঞ্জক বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলেই তা বাস্তবে তৈরি করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি পরীক্ষাগারে গবেষণার ফলাফল যাচাই করাকেও গুরুত্ব দিতে চান তিনি। ভবিষ্যতে এ দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে নতুন কার্যকরী পদার্থ উদ্ভাবন এবং টেকসই জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্য তাঁর।

পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি ২০২১ সাল থেকে টিউশনি করে নিজের ব্যয় নির্বাহ করছেন শাকিল। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত পড়ান তিনি। একই সঙ্গে গবেষণাগারে চারজন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে যৌগ সংশ্লেষণ, বিশুদ্ধকরণ, রাসায়নিক পদার্থের নিরাপদ ব্যবহার ও বিভিন্ন পরীক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে সহায়তা দিয়েছেন।

সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন শাকিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের কেমিক্যাল সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজনে ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম অন ম্যাটেরিয়ালস, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রচার কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভবিষ্যতে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও ক্যাটালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী পদার্থ নিয়ে কাজ করতে চান শাকিল। বিশেষ করে কম্পিউটেশনাল বিশ্লেষণে পাওয়া পূর্বাভাস পরীক্ষাগারে যাচাই করে আরও দক্ষ ও কার্যকর পদার্থ উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই প্রযুক্তির বিকাশে অবদান রাখাই তাঁর লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%