১০:৫০ পি.এম
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার আয়োজন ছিল, কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না তার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। জানা যাচ্ছে, তিনি দাফন অনুষ্ঠানেও আসবেন না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণে মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকতে সক্ষম হননি।
তিনি উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ খামেনিকে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের হুমকির উত্তর ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার’ মাধ্যমে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্বারা একযোগে হামলায় নিহত হন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং সারা দেশে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এই জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এবং প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকও সেখানে অবস্থান করেছিলেন।
হিসাব অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানিয়েছে, খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরানজুড়ে ও ইরাকে ছয় দিনের জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী
উল্লেখ্য, ৪ থেকে ৫ জুলাই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হবে, যেখানে প্রথম দিন জানাজা কর্মসূচি হবে। ৬ জুলাই তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তার জামাতা, কন্যা, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) ও নাতনির মরদেহ বহন করা হবে। পরের দিন কোম শহরে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা সমাবেশ। এবং পরে ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকে। সেখানে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজার আয়োজন করা হবে। পরদিন ইরানের মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.)–এর মাজারে খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন