০৫:৪৪ পি.এম
‘আমাকে তোমার সঙ্গে নিয়ে চলো’ এই সংলাপটি যেন ২০১৭ সালে প্রীতম হাসানের গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে বাস্তব জীবনে ভিন্ন অর্থ পেয়েছিল। শেহতাজ মনিরা হাশেমের সঙ্গে প্রীতম হাসানের পরিচয় ঘটে ওই গানের শুটিংয়ের সময়। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ সম্পর্কের পর, ২০২২ সালের অক্টোবরে তারা বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করেন।
বিয়ের পর প্রীতম ও শেহতাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখী দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ছবি নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। তাই হঠাৎ করে তাদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হওয়ায় অনেকের কাছে এটি বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত রোববার রাতে, নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পোস্টের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার কথা জানান প্রীতম ও শেহতাজ। উভয় পোস্টেই পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং শুভকামনার কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধও জানানো হয়।
আরও পড়ুন: বিচ্ছেদের পর নীরবতা ভেঙে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেহতাজের ছবি
তবে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলার পর জানা যায়, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে আসেনি। সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আগেই। বিশেষ করে ২০২৪ সালের তৃতীয়ার্ধ থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন স্পষ্ট হতে শুরু করে বলে জানা গেছে।
২০১৭ সালে ‘জাদুকর’-এর শুটিংয়ের পর থেকেই প্রীতম ও শেহতাজের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। একসময় তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রেমে রূপ নেয়। প্রীতম নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘জাদুকর’-এর শুটিং শেষে শেহতাজকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।
২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর, শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড় ও চা-বাগানের পরিবেশে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন। শেহতাজ বিয়ের পোশাকের নকশাও নিজেই করেছিলেন। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এরপর ২০২৩ সালে, তারা নিজেদের বাসায় ওঠেন। সংসারের পাশাপাশি নিজেদের কাজও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তাদের পেশাগত জীবনে পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ‘তুফান’ সিনেমার মাধ্যমে প্রীতমের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। সিনেমাটির গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আরও বড় পরিসরের দর্শকের কাছে পৌঁছান। স্টেজ শো, দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠান এবং ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। ‘বরবাদ’-এর ‘চাঁদমামা’ ও ‘দ্বিধা’ এবং ‘প্রিন্স’-এর ‘জ্বালা জ্বালা’ গানগুলোও তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’ নির্বাচিত হয়েছে ভিজিআইকে উৎসবে
ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, প্রীতমের ব্যস্ততার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। একই সময়ে, শেহতাজ প্রীতমের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন বলে জানান তাদের কাছের কয়েকজন।
এই পরিস্থিতিতে দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও মতবিরোধ বাড়তে থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা গেছে। এমনকি এক ঘটনায় বন্ধুদের উপস্থিতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে।
তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আগে সেটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন দুজনই। কাছের মানুষদের কেউ কেউ আশা করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
বিচ্ছেদের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি এবং অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবির সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতার পার্থক্য ছিল বলেই মনে করছেন ঘনিষ্ঠজনেরা।
আরও পড়ুন: রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
অন্যদিকে, বিয়ের আগে গান ও অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিয়ের পর শেহতাজ দুই মাধ্যম থেকেই অনেকটা নিজেকে গুটিয়ে নেন। সম্প্রতি কানাডায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। দেশে ফেরার পরই তাদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রায় এক দশকের পরিচয়, প্রেম, বিয়ে ও সংসারের পর এখন আলাদা পথে হাঁটছেন প্রীতম ও শেহতাজ। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পর দুজনই নিজেদের মতো করে নতুন জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শেহতাজ আবার অভিনয় ও গানে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, প্রীতমও নতুন গান ও সংগীতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন