আবিদ ইসলাম আশিক বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
১২:১৪ এম
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশালের বাকেরগঞ্জে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজন। এরই মধ্যে নান্দনিক সাজসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের কারণে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারুজীবী গ্রামের কৈলাশ পূজামণ্ডপ। সাজসজ্জার দিক থেকে দেবালয়ের পরেই আলোচনায় রয়েছে এই পূজামণ্ডপ।
মণ্ডপজুড়ে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা, রঙিন আলোকসজ্জা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। পূজাকে ঘিরে আয়োজকদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যেও এই মণ্ডপকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিপ্লব মিত্র জানান, বারুজীবী গ্রামের কৈলাশ মন্দিরে এবারই প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। নতুন এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসাহ। পূজামণ্ডপের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারক চন্দ্র দাস জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্যাপন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এ আয়োজন সফল করতে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ সহযোগিতা করছেন।
কৈলাশ পূজামণ্ডপের এই আয়োজন স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতে, এটি ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়। তিনি রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
জুবায়ের তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত শনিবার মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেন।
জুবায়ের বলেন, দেশের বিদ্যমান অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেন না। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা এবং তার দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত, আইনবিরোধী ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এ ঘটনার প্রতিকার কামনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, ইশরাক হোসেন নিজের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। তিনি তার এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসীদের আরো উৎসাহিত করবে এবং জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না। সরকারের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মার্জিত ও জনবান্ধব পন্থায় মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, "আমি মোট ৪ বার ভোট করেছিলাম। এবার ব্যতিক্রম হলো যে, আমি ডিসি, এসপি, ওসি ও ইউএনও অফিসে কোনো টাকা দিতে হয়নি। তারা কোনো টাকা গ্রহণ করেননি। আমার ৬২ কেন্দ্রের মধ্যে ৪০ কেন্দ্রের টাকা ফেরত পেয়েছি, আর বাকী কেন্দ্রের টাকা আমার লোকেরা খেয়ে ফেলেছে। কেউ টাকা না নিলে আমি শান্তি পাইনা। কারণ তখন আমার মনে সন্দেহ হয় যে, ডিসি, এসপি, ওসি ও ইউএনও সাহেবরা মনে হয় আমার বিরুদ্ধে। বিরুদ্ধে না থাকলে তারা টাকা নিচ্ছে না কেন? ৯০ ভাগ মানুষ যেখানে ঘুষ খায়, সেখানে কীভাবে বুঝবো যে, বিনা টাকায় তারা আমার কাজ করবে। ১০ ভাগ মানুষ ঘুষ খায়না।"
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার উদ্যোগে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৬ এর চ্যাম্পিউন ও রানার্স-আপ গৌরব অর্জন করায় রামগতি উপজেলার ছেলে ও মেয়ে টিমদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, "আগে নিজেকে নিজে ভালোবাসতে হবে। আপনারা একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন। আমি তো সবসময় সত্য কথাগুলো বলে ফেলি। এজন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ নাও করতে পারেন। আমি পরিবর্তনের কথা বলি। আজকে দেশের সব সেক্টর নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ সমস্যায় পড়লে প্রথমে যায় পুলিশের কাছে। সেখানে আসার পর পুলিশের দৌরাত্ম, নেতাদের দৌরাত্ম ও থানার দালালদের দৌরাত্মে মানুষ কাছে আসতে পারেনা। এগুলো দেখার জন্য তো ২৪ সালের জুলাইয়ে এতো রক্ত দেওয়া হয়নি। আপনারা তারেক রহমানের মত একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন। তার নেতৃত্বে আমাদের রাষ্ট্রের সংস্কার করতে হবে, রাষ্ট্রের মেরামত করতে হবে। নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান ও সেক্টরকে মেরামত করতে হবে।"
রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "পুলিশ-প্রশাসন, সাংবাদিক, খেলোয়াড় ও বিরোধীমতের বন্ধুরা, আপনারা একটু একটু করে ৫ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সাপোর্ট করেন। আপনারা যদি প্রধানমন্ত্রীকে সাপোর্ট না করেন, পরে তো বলবেন, বিএনপি সরকার দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। সাপোর্ট করলে দেখতে পারবেন-আমরা দেশটাকে মেরামত করে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।"
আশরাফ উদ্দিন নিজান আরো বলেন, "এখন থেকে গণতান্ত্রিক ধারায় সরকার পরিবর্তন হবে। ইলেকশন বিহীন বিনা ভোটে আর কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবেনা, থাকতেও পারবেনা। জনগণ না চাইলে আমরাও থাকবো না। আমাদের পরে অন্যরা আসবে। সেটা গণতান্ত্রিক ধারায় আসতে হবে। ফেয়ার ইলেকশনের মাধ্যমে আসতে হবে। ৭১ এর শহীদ ও ২৪ এর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পুরণ করতে হবে। জোর করে আর কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা।"
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন, এএসপি সার্কেল মোহাম্মদ শামসুল আলম, রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, রামগতির সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ জুয়েল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের মক্কায় গোপন প্রক্রিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে চরম শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরিবার ও এলাকাবাসী উভয় দেশের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা দূর করার উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম। সৌদিতে পৌঁছানোর পর তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সৌদি আরবে আসার ৬ মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ও সুইটিকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি সরকার তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন যে, কারাবন্দী থাকার সময় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন নজরুল। কিন্তু গত বুধবার কোনো পূর্বঘোষণা বা স্বজনদের অবগত না করেই তার ওপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে বিরামপুরে থাকা স্বজনেরা নজরুলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, 'আমাদের না জানিয়ে এবং আমার ছেলেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।'
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।'
নজরুলের ভাইপোর মৃত্যুর খবর শুনে বুধবার রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম।
নজরুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব সরকার বিভিন্ন নীতিতে শিথিলতা আনলেও বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন কট্টর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতাশাজনক। তারা দরিদ্র এই কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দুই দেশের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ