প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবের মক্কায় গোপন প্রক্রিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে চরম শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরিবার ও এলাকাবাসী উভয় দেশের সরকারের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা দূর করার উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম। সৌদিতে পৌঁছানোর পর তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সৌদি আরবে আসার ৬ মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ও সুইটিকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি সরকার তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন যে, কারাবন্দী থাকার সময় প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন নজরুল। কিন্তু গত বুধবার কোনো পূর্বঘোষণা বা স্বজনদের অবগত না করেই তার ওপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে বিরামপুরে থাকা স্বজনেরা নজরুলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, 'আমাদের না জানিয়ে এবং আমার ছেলেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই গোপনীয়তার সঙ্গে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।'
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল বাছির। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।'
নজরুলের ভাইপোর মৃত্যুর খবর শুনে বুধবার রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম।
নজরুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব সরকার বিভিন্ন নীতিতে শিথিলতা আনলেও বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন কট্টর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতাশাজনক। তারা দরিদ্র এই কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দুই দেশের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন