ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পোল্যান্ড-মিশরের চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত বাংলাদেশি সিনেমা ‘সাঁকোটা দুলছে’


পোল্যান্ড-মিশরের চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত বাংলাদেশি সিনেমা ‘সাঁকোটা দুলছে’

‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমাটি বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত তিন নারীর জীবন, স্বপ্ন এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার গল্প তুলে ধরেছে। তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদের প্রথম সিনেমা এটি, যার পুরো নাম ‘সাঁকোটা দুলছে’-দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট।

গত জুন মাসে নীরবে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে সিনেমাটি পুরস্কার অর্জন করেছিল। বর্তমানে একই সময়ে দুটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান করে নিয়েছে ‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমাটি।

সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করা হয়েছে। মনোজ প্রামাণিকের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র এবং জার্মানির মগাদোর ফিল্মের সহযোগিতায় নির্মিত ‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমাটির দৃশ্য বিন্যাস, আলো-ছায়ার ব্যবহার, স্থির ও দীর্ঘ শট এবং গ্রামীণ জীবনের প্রতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলচ্চিত্রটির স্বতন্ত্র দৃশ্যভাষা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে রাত ৮টায় সম্প্রচারিত হবে নাটক ‘মন দরজা’

কুসংস্কার, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যে নিজেদের মতো করে বাঁচার পথ খুঁজে বের করে তারা। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া আক্তার, মুনসিফ মিম, অশোক বেপারী, পঙ্কজ পালিত, রবিউস সানিসহ আরও অনেকে।

এদিকে পোল্যান্ডের ‘এনার্গাক্যামেরিমেজ’ চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমাটি নির্বাচিত হয়েছে। পোল্যান্ডের উৎসবে সেরা পরিচালক ও সেরা চিত্রগ্রাহক বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন ইশতিয়াক ও সামিউল করিম সুপ্তক। উৎসবটি আগামী ৭ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

অন্যদিকে, মিশরের ৪৭তম কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইক কম্পিটিশন’ বিভাগে স্থান পেয়েছে। সেখানে শাদি আব্দেল সালাম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট ফিল্ম এবং ফ্যাদি ফারাগ অ্যাওয়ার্ড-স্পেশাল জুরি প্রাইজের জন্য বাংলাদেশের সিনেমা ‘সাঁকোটা দুলছে’ প্রতিযোগিতা করবে। এ উৎসব চলবে ১১ থেকে ২০ নভেম্বর।

আরও পড়ুন: নোলক: কাদের ও নাদের ভাইদের সম্পদ ও সম্পর্কের নাটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও যেসব বিশেষ রুটিন ভাঙেননি সামান্থা রুথ প্রভু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও যেসব বিশেষ রুটিন ভাঙেননি সামান্থা রুথ প্রভু

দিনের শুরু কেমন হচ্ছে, তা সারাদিনের মেজাজে মর্জির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কাজের চাপ, ব্যস্ততা এবং বিভিন্ন দুশ্চিন্তার মাঝে নিজের জন্য কিছু সময় বের করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু প্রতিদিনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে মানসিক স্থিরতা অর্জন করেন। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও তিনি সেই অভ্যাসগুলো বজায় রেখেছেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী তার সকালের তিনটি অভ্যাসের কথা শেয়ার করেছেন।

সামান্থা রুথ প্রভু বলেন, "সকালের রুটিনে খাদ্যতালিকায় ১০০ পদের খাবার থাকতে পারে, কিন্তু আমার জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম বাধ্যতামূলক। যেখানেই থাকি না কেন, আমি এই রুটিন ভাঙি না কখনো।"

তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন সকালে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মতো সময় নিই। আমার মন, স্নায়ুতন্ত্র— সবকিছুকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এ সময়টুকু। যদি আমায় দেখে মনে হয়, আমি ১০০টা কাজ করতে পারছি, তার নেপথ্যে সকালের ওই রুটিন। তারই কৃতিত্ব রয়েছে। তার জোরেই আমি সারাদিন ভালো থাকার চেষ্টা করি।"

চলুন জেনে নেওয়া যাক, সামান্থার সকালের রুটিন ঠিক কেমন—

এক পাতার জার্নাল লেখা

সামান্থার সকাল শুরু হয় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। তিনি এই কৃতজ্ঞতা খাতার একটি পাতায় লিপিবদ্ধ করেন। প্রতিদিন এমন কিছু বিষয় তিনি লেখেন, যেসবের জন্য কৃতজ্ঞবোধ করেন। তবে প্রথম দিকে এই অভ্যাসটি তার কাছে সহজ ছিল না। জীবনের একটি কঠিন সময়ে একজনের পরামর্শে তিনি ডায়েরি লেখা শুরু করেন। তখন মানসিকভাবে ভালো না থাকায় ইতিবাচক কিছু খুঁজে বের করে লেখা বেশ কঠিন মনে হতো। প্রথম কয়েক মাস এ অভ্যাস বজায় রাখতেও যথেষ্ট কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতির দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে।

অভিনেত্রী বলেন, শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই তিনি মানসিকভাবে সুস্থবোধ করতে শুরু করেছিলেন। এখন ব্যস্ততা যতই থাকুক, তিনি এ অভ্যাস থেকে বিরতি নিতে চান না।

রোদে সময় কাটানো

ডায়েরি লেখার পর সামান্থা কিছুক্ষণ সকালের রোদে সময় কাটান। দিনের শুরুতে প্রাকৃতিক আলো দেহের জৈবিক ঘড়ি অর্থাৎ ঘুম-জাগরণের ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে কতক্ষণ রোদে থাকা প্রয়োজন, তা ঋতু, ত্বকের ধরন এবং সূর্যালোকের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। তাই দীর্ঘক্ষণ কড়া রোদে থাকার প্রয়োজন নেই।

ধ্যান

অভিনেত্রীর সকালের রুটিনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ধ্যান করা। ডায়েরি লেখা এবং রোদে সময় কাটানোর পাশাপাশি ধ্যানের জন্যও তিনি সময় বরাদ্দ রাখেন। তিনি বলেন, এ অভ্যাসগুলো তাকে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় দেন তিনি নিজের এই রুটিনে। কোথায় রয়েছেন কিংবা কতটা ব্যস্ত, তা নির্বিশেষে অভ্যাসগুলো বজায় রাখার চেষ্টা করেন অভিনেত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাথায় বল লাগার পর উদ্বিগ্ন ছিলেন স্টিভ স্মিথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


মাথায় বল লাগার পর উদ্বিগ্ন ছিলেন স্টিভ স্মিথ

স্টিভ স্মিথের ক্যারিয়ারে কনকাশনে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বহুবার ঘটেছে। চলমান সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাথায় বল লাগার কারণে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, এমনটি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

গত সপ্তাহে ডারবানের কিংসমিডে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার আনরিখ নরকিয়ার একটি বাউন্সার স্মিথের হেলমেটে আঘাত করে। এই ঘটনার পর তাকে কনকাশন প্রটোকলের আওতায় পরীক্ষা করা হয়।

রোববার সেন্ট জর্জস পার্কে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্মিথ বলেন, “সত্যি বলতে, আঘাতের পর আমি কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলাম। এটি বেশ জোরালো আঘাত ছিল। সেদিনের বাকি সময়টায় আমি খুব একটা স্বস্তিতে ছিলাম না। আমার মনে হয়, অতীতে যেমন অনুভূতি হয়েছিল, আবার তেমন কিছু হবে কি না, সেই চিন্তা থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কী অবস্থা হয়, সেটাই ভাবছিলাম।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সৌভাগ্যবশত পরদিন আমি ভালোভাবেই ঘুম থেকে উঠি। সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই এবং খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠি।”

৩৭ বছর বয়সী স্মিথকে মাঠেই ফিজিও ও দলের চিকিৎসক পরীক্ষা করেন। নিয়ম অনুযায়ী তার হেলমেটও পরিবর্তন করা হয়। আঘাত পেলেও তিনি ইনিংস চালিয়ে যান এবং ২৭ রান করেন, যা অস্ট্রেলিয়াকে বড় লিড গড়তে সহায়তা করে।

কনকাশন প্রটোকল পাস

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হওয়ার সময় সোমবার স্মিথ মাঠে নামেননি। তখন তাকে কনকাশন প্রটোকলের আওতায় আরও পরীক্ষা করা হয়, যেখানে তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।

পরদিন মঙ্গলবার সিরিজের শেষ দিনের খেলা শুরুর সময় তিনি আবার মাঠে ফেরেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে ২১৪ রানের জয় এনে দিতে ভূমিকা রাখেন। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

টেস্ট ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ২৮ রান দূরে থাকা স্মিথ কনকাশন সাবস্টিটিউট নিয়ম চালুর পর টেস্ট ক্রিকেটে বদলি হওয়া প্রথম খেলোয়াড় ছিলেন। ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে লর্ডসে জোফরা আর্চারের একটি বাউন্সার তার মাথার পেছনে আঘাত করেছিল।

এ ছাড়া ২০২০ সালে ইংল্যান্ড সফরে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে সিরিজ চলাকালেও অনুশীলনে মাথায় আঘাত পেয়ে কনকাশনে ভুগেছিলেন তিনি। একই বছরের শেষদিকে ভারতের বিপক্ষে সিডনির ওয়ানডের সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ঘোরা ও অসুস্থতাও অনুভব করেন।

এরপর ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা সফর, ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপ এবং গত ডিসেম্বরে অ্যাডিলেড টেস্টের আগেও স্মিথ ভারসাম্য ও স্থানিক অবস্থান নিয়ন্ত্রণকারী অন্তঃকর্ণের সংবেদনশীল ব্যবস্থার (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সমস্যায় আক্রান্ত হন। অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্ট শুরুর মাত্র ২০ মিনিট আগে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেমিট্যান্স বাড়লেও ডলারের বাজারে স্বস্তি নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


রেমিট্যান্স বাড়লেও ডলারের বাজারে স্বস্তি নেই

প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ ডলার পাঠাচ্ছেন, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। তবে আমদানি বিল পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি এবং ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা ঘিরে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আসা ডলারের পরিমাণ, প্রয়োজনের সময় এবং আসার পথ, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। তাই রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তিতে রূপ দিতে হলে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, ঋণ পরিশোধ, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের জোগান নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে প্রায় ৭ হাজার ১১৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৮০ কোটি ডলার বেশি। অন্যদিকে, রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ছিল সামান্য। ফলে পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭২৮ কোটি ডলারে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের এই সমীকরণ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে আমদানি দায়, বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ এবং বাজারের প্রত্যাশার বিষয়টি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ ও বৈদেশিক মুদ্রার তারল্যের উন্নতি পরিস্থিতিকে আগের তুলনায় শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬৩৯ কোটি ডলার; আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে তা ৩১৫৮ কোটি ডলার।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং চলতি বছরের মার্চে দেশে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

তবে রিজার্ভ বাড়া এবং বাজারে প্রতিটি ব্যাংকের প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত ডলার পাওয়া, দুটি আলাদা বিষয়। রিজার্ভ দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক সম্পদের অবস্থান নির্দেশ করে। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডলারের তারল্য নির্ভর করে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি, আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং আমদানি ও ঋণ পরিশোধের সময়সূচির ওপর। তিনি বলেন, ডলারের যোগান বাড়াতে হলে রেমিট্যান্স আহরণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে হবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে দক্ষ কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইতালি সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী মাসে একটি বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দেশটি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের ইতালিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতালির ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দক্ষ জনশক্তি পাঠানো নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের (সিএসইআর) চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীমের বিশ্লেষণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের এই বৈপরীত্যের পরিমাণগত দিকটি উঠে এসেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৫২৫ কোটি ডলার। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি ব্যয়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধির পরিমাণ রেমিট্যান্সের বাড়তি আয়ের চেয়ে প্রায় ১৫৫ কোটি ডলার বেশি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে আমদানি বৃদ্ধির কারণে ঠিক ১৫৫ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কারণ, রেমিট্যান্সের সব অর্থ আমদানি পরিশোধে ব্যবহৃত হয় না। একইভাবে আমদানির সব দায়ও একই সময়ে নগদ ডলারে পরিশোধ করতে হয় না। ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির সময়, বাণিজ্যঋণ এবং অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনের ওপরও ডলারের চাহিদা নির্ভর করে। সাকিফ শামীমের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় আগের অর্থবছরের প্রায় ৮৫৭ কোটি ডলার থেকে কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ ৪০৯ কোটি ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিদেশি সহায়তা থেকে ঋণ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট অর্থপ্রবাহ ৪৪৮ কোটি ডলার থেকে কমে ৩৫৮ কোটি ডলারে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। রপ্তানি আয়, সেবা খাতের লেনদেন, বৈদেশিক ঋণ, বিনিয়োগ এবং আর্থিক হিসাবের অর্থপ্রবাহও বিবেচনায় নিতে হবে। সাকিফ শামীম বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও ব্যবহারের মধ্যে টেকসই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই সূচকগুলোকে সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। অন্যদিকে, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন ডলারের বাজার নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়বে এবং ডলারের দামেও তার প্রভাব আসতে পারে। তবে তিনি ব্যাংকগুলোতে ডলারের পর্যাপ্ততার কথা উল্লেখ করে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেও মন্তব্য করেন।

তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ডলারের দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং বাজারে তাৎক্ষণিক ডলারের ঘাটতি—দুটি এক বিষয় নয়। ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত ডলার থাকলেও আমদানি দায় পরিশোধের সময়সূচি, ব্যাংকগুলোর ডলার ধরে রাখার প্রবণতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিময় হার নিয়ে প্রত্যাশার কারণে বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে কয়েকটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমেয়তা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, বৈধ আমদানি-রপ্তানিতে অপ্রয়োজনীয় বাধা না দিয়ে সন্দেহজনক লেনদেনের মূল্য যাচাই জোরদার করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রবাসীদের জন্য আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানো সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে হবে। চতুর্থত, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নতুন বাজার তৈরি করতে হবে। পঞ্চমত, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সময়সূচি ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স ৫ বা ১০ শতাংশ কমলে, আমদানি ব্যয় বাড়লে কিংবা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পেলে রিজার্ভ ও ব্যাংকের ডলারের তারল্যে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবাহ বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের জন্য বড় অর্জন। তবে এই অর্জনের সুফল ধরে রাখতে শুধু রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক দায়, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই প্রবাসী আয়ের সাফল্য সাময়িক স্বস্তির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারবে।

সিএসইআর এর বিশ্লেষণ।। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের (সিএসইআর) চেয়ারম্যান সাকিফ শামীম তাঁর "রেমিট্যান্স বাড়ছে, তবু ডলারের বাজারে চাপ কেন"? শীর্ষক আর্টিকেলে বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এখন এক ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে প্রবাসী আয় ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের জোগান নিশ্চিত করার চাপ রয়ে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭.৩ শতাংশ বেশি। অথচ একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০.৫ শতাংশ, রপ্তানি আয় প্রায় স্থবির থেকেছে এবং পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭২৮ কোটি ডলারে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস থেকে আয় বাড়লেও অন্যদিকে ব্যয়ের চাপ আরও দ্রুত বাড়ছে।

সেন্টার ফর স্ট্র‍্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ-এর বিশ্লেষণে সাকিফ শামীম জানান, এই বৈপরীত্যের ব্যাখ্যা খুঁজতে হলে একটি মৌলিক বিষয় বোঝা প্রয়োজন- রেমিট্যান্স বাড়া এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরে আসা একই বিষয় নয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান নির্ভর করে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার অর্থপ্রবাহ, ঋণ পরিশোধ, সেবা খাতের লেনদেন এবং মূলধনের আন্তঃসীমান্ত প্রবাহের ওপর। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যাংকিং ও অনানুষ্ঠানিক বাজারের বিনিময় হারের ব্যবধান এবং ভবিষ্যৎ ডলারের জোগান নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে প্রায় ৮৫৯ কোটি ডলার। তবে মাসভিত্তিক প্রবাহে ওঠানামা রয়েছে। জুলাইয়ে এসেছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার, আগস্টে ২৯৭ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলেও মাসিক অঙ্কে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কত ছিল, তা নির্ধারণে একই সংজ্ঞা ও সময়সীমার তুলনামূলক তথ্য ব্যবহার করা জরুরি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ১১৪ কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬৮০ কোটি ডলার বেশি। একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ডলার, আগের বছরের তুলনায় প্রায় স্থবির। ফলে পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৭২৮ কোটি ডলারে।

এখন রেমিট্যান্স ও আমদানির পরিবর্তন পাশাপাশি রাখলে চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়। রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৫২৫ কোটি ডলার, অথচ আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি ব্যয়ের বার্ষিক বৃদ্ধির পরিমাণ রেমিট্যান্স বৃদ্ধির চেয়ে প্রায় ১৫৫ কোটি ডলার বেশি।

এই হিসাবের অর্থ এই নয় যে আমদানি বৃদ্ধির কারণেই ঠিক ১৫৫ কোটি ডলারের বাজারচাপ তৈরি হয়েছে। রেমিট্যান্সের পুরো অর্থ আমদানি পরিশোধে ব্যবহৃত হয় না, আবার আমদানির সব অর্থও একই সময়ে নগদ ডলার হিসেবে পরিশোধিত হয় না। ঋণপত্র খোলা, নিষ্পত্তি, বাণিজ্যঋণ এবং অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনের সময়ের পার্থক্য রয়েছে। তবে এই তুলনা দেখায়, রেমিট্যান্সের বাড়তি প্রবাহ আমদানি ব্যয়ের বাড়তি চাপ পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি।

বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের অন্য উৎসগুলোতেও চাপ রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমে প্রায় ৮০৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, আগের অর্থবছরে যা ছিল প্রায় ৮৫৭ কোটি ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ বেড়ে প্রায় ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, আগের অর্থবছরে যা ছিল প্রায় ৪০৯ কোটি ডলার। ফলে নিট বিদেশি অর্থপ্রবাহ প্রায় ৪৪৮ কোটি ডলার থেকে কমে ৩৫৮ কোটি ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ এই উৎস থেকে নিট প্রবাহ কমেছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার।

এই পরিসংখ্যানগুলো একসঙ্গে করলে যা দাঁড়ায় তা হলো, আমদানি ব্যয়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬৮০ কোটি ডলার, আর নিট বিদেশি অর্থপ্রবাহ কমেছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার। অন্যদিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৫২৫ কোটি ডলার। রপ্তানি আয় প্রায় স্থবির থাকায় নতুন কোনো বড় বৈদেশিক মুদ্রার উৎসও তৈরি হয়নি। এই তিনটি পরিবর্তনকে একত্রে দেখলে বোঝা যায়, রেমিট্যান্সের বাড়তি প্রবাহের বিপরীতে আমদানি ব্যয় ও অন্যান্য বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের দুর্বলতা উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি, নিট বিদেশি অর্থপ্রবাহের পতন এবং রেমিট্যান্সের বৃদ্ধি দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চাপের সম্পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। এর জন্য চলতি হিসাব, আর্থিক হিসাব, ঋণপত্রের প্রকৃত নিষ্পত্তি, সেবা ও আয় খাতের লেনদেন এবং রিজার্ভের পরিবর্তনসহ পূর্ণাঙ্গ পরিশোধ ভারসাম্যের হিসাব প্রয়োজন। উপরোক্ত তুলনা তাই একটি পরিমাণগত ব্যাখ্যা, বাজারচাপের পূর্ণাঙ্গ কারণভিত্তিক বিভাজন নয়।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থানও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬১৫ কোটি ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩ হাজার ১৩০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি।

কিন্তু রিজার্ভ বাড়লেই ব্যাংকগুলোর প্রতিটি আমদানি দায় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত ডলার সব সময় সহজে পাওয়া যাবে, এমন নয়। রিজার্ভ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক বৈদেশিক সম্পদের অবস্থান নির্দেশ করে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডলারের জোগান নির্ভর করে তাদের কাছে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্সের নিষ্পত্তি, আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং গ্রাহকদের বৈদেশিক দায়ের সময়সূচির ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বিনিময় হারেও দেখা যায়, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডলারের লেনদেনমূল্য ১২৩ টাকার আশপাশে ছিল। এই হারকে এককভাবে বাজারে চাপের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। তবে আমদানির চাহিদা, ব্যাংকের তারল্য এবং বৈদেশিক দায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে এটি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ রিজার্ভের উন্নতি বাংলাদেশের বৈদেশিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে, কিন্তু আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক দায়ের প্রবাহের সঙ্গে ডলারের জোগানের সামঞ্জস্য বজায় রাখা এখনো জরুরি।

ডলারের বাজারে চাপের আলোচনায় হুন্ডির প্রসঙ্গ আসে দুটি কারণে। প্রথমত, হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নাও আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভুল মূল্য ঘোষণা বা বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সম্পর্ক থাকতে পারে। ধরা যাক, একজন প্রবাসী বিদেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তরকারীর কাছে অর্থ দিলেন এবং বাংলাদেশে তাঁর পরিবার সমপরিমাণ টাকা পেল। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ না করেও দেশে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ সম্ভব হতে পারে। বিদেশে জমা হওয়া অর্থ অন্য কোনো লেনদেনে ব্যবহৃত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো আমদানিকারক পণ্যের প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে কম অর্থ পরিশোধ করে বাকি অর্থ অনানুষ্ঠানিক পথে পাঠাতে পারেন। আবার আমদানির মূল্য বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ বিদেশে পাঠানোর ঝুঁকিও রয়েছে। রপ্তানি আয় কম দেখিয়ে বিদেশে অর্থ রেখে দেওয়ার ঘটনাও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) ২৬ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত Trade-Related Illicit Financial Flows in Developing Asia (2013–2022) প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের তথ্যের অসংগতির ভিত্তিতে প্রায় ৬৮৩০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অবৈধ আর্থিক প্রবাহের হিসাব দেওয়া হয়েছে। বছরে গড়ে এই অঙ্ক প্রায় ৬৮৩ কোটি ডলার।

তবে এই অঙ্ককে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত অর্থ পাচারের পরিমাণ বলা যাবে না। জিএফআই মূলত বাংলাদেশের বাণিজ্য-পরিসংখ্যানের সঙ্গে অংশীদার দেশগুলোর পরিসংখ্যানের ব্যবধান বিশ্লেষণ করেছে। মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি, পরিবহন ব্যয়, সময়ের পার্থক্য এবং পণ্যের শ্রেণিবিন্যাসের কারণেও কিছু ব্যবধান তৈরি হতে পারে। ফলে এই হিসাব সম্ভাব্য অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ঝুঁকির মাত্রা নির্দেশ করে, প্রতিটি লেনদেনের অপরাধমূলক চরিত্র নিশ্চিত করে না।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল হুন্ডি দমনের অভিযান যথেষ্ট নয়। আমদানি-রপ্তানির ঘোষিত মূল্য, আন্তর্জাতিক বাজারদর, শুল্ক পরিশোধ এবং ব্যাংকিং লেনদেনের মধ্যে তথ্যগত সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোকে আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ঝুঁকি বুঝতে শুধু অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ যথেষ্ট নয়। রেমিট্যান্স কমে গেলে, আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়লে অথবা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়ে গেলে কী হতে পারে, তা হিসাব করে দেখা দরকার।

এখানে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা যেতে পারে। এগুলো পূর্বাভাস নয়, বরং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি সরল সংবেদনশীলতা বিশ্লেষণ। হিসাবগুলোতে অন্য সব বিষয় অপরিবর্তিত ধরে নেওয়া হয়েছে।

প্রথম পরিস্থিতি: রেমিট্যান্স ১০ শতাংশ কমে গেলে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩৫৫৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স ভিত্তি ধরে ১০ শতাংশ হ্রাস হলে বছরে প্রায় ৩৫৬ কোটি ডলার কম বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। মাসিক গড় হিসাবে ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ৩০ কোটি ডলার। আমদানি, রপ্তানি ও অন্যান্য বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ অপরিবর্তিত থাকলে এই হ্রাস চলতি হিসাব ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ডলারের জোগানে চাপ বাড়াবে।

দ্বিতীয় পরিস্থিতি: আমদানি ব্যয় আরও ৫ শতাংশ বাড়লে। ৭১১৪ কোটি ডলারের আমদানি ভিত্তি ধরে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি হলে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫৬ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ রেমিট্যান্স ১০ শতাংশ কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় ৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাব হবে প্রায় ৭১২ কোটি ডলার। এটি বৈদেশিক মুদ্রার সম্ভাব্য জোগান ও ব্যবহারের ওপর অতিরিক্ত চাপের একটি সরল হিসাব। বাস্তবে ঋণপত্রের সময়সূচি, রপ্তানি আয়, সেবা খাত, বৈদেশিক ঋণ ও অন্যান্য প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

তৃতীয় পরিস্থিতি: রেমিট্যান্স কমার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় ১০ শতাংশ বাড়লে। একই ভিত্তিতে আমদানি ব্যয়ের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ৭১১ কোটি ডলার। এর সঙ্গে রেমিট্যান্সের সম্ভাব্য ৩৫৬ কোটি ডলারের হ্রাস যোগ হলে সম্মিলিত চাপ দাঁড়াবে প্রায় ১০৬৭ কোটি ডলার। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে, অন্য উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান না বাড়লে রিজার্ভের ওপর চাপ, ব্যাংকের ডলার সংগ্রহের ব্যয় এবং বিনিময় হারের অস্থিরতা বাড়তে পারে। এই হিসাবের উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়। বরং রেমিট্যান্স ও আমদানির পরিবর্তন বৈদেশিক মুদ্রার জোগান-ব্যবহারের ভারসাম্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা পরিমাপ করা। বিশেষত রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি যদি হুন্ডি থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ ফেরার কারণেও হয়ে থাকে, তাহলে সেই পরিবর্তন একবার সম্পন্ন হওয়ার পর একই হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তাই রেমিট্যান্সের বর্তমান সাফল্যের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

প্রথমত, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমেয়তা নিশ্চিত করতে হবে। বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর রাখতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে হবে। ব্যাংকিং ও অনানুষ্ঠানিক বাজারের বিনিময় হারের ব্যবধান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফরোয়ার্ড ও সোয়াপ বাজারের উন্নয়ন ঘটাতে হবে, যাতে আমদানিকারকেরা ভবিষ্যৎ ডলারের দাম নিয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করতে পারেন এবং অনিশ্চয়তার কারণে আগেভাগে অতিরিক্ত ঋণপত্র খোলার প্রবণতা কমে।

দ্বিতীয়ত, আমদানি-রপ্তানির ঘোষিত মূল্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারদর ও বাণিজ্যসঙ্গী দেশগুলোর তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির হিসাব মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে বৈধ আমদানিতে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। কারণ ব্যাংকিং চ্যানেল সংকুচিত হলে বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা অনানুষ্ঠানিক পথে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তৃতীয়ত, প্রবাসীদের জন্য আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। অর্থ স্থানান্তরের খরচ কমানো, দ্রুত নিষ্পত্তি, ডিজিটাল ও মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবহার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহজে অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা জরুরি। প্রচলিত প্রণোদনার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

চতুর্থত, বিদেশে কর্মসংস্থানের বাজার ও দক্ষতার বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর উচ্চ নির্ভরতা আন্তর্জাতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ায়। নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানো, ভাষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগব্যয় কমানোর মাধ্যমে কর্মীদের আয় ও সঞ্চয়ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পঞ্চমত, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক অর্থায়নের ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য, নতুন বাজারে প্রবেশ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সময়সূচি আগেভাগে পরিকল্পনা করতে হবে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি দক্ষতা ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে।

ষষ্ঠত, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন চালু করা প্রয়োজন। রেমিট্যান্স ৫ বা ১০ শতাংশ কমলে, আমদানি ব্যয় ৫ বা ১০ শতাংশ বাড়লে কিংবা ঋণ পরিশোধের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এলে চলতি হিসাব, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও রিজার্ভের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়মিত বিশ্লেষণ করতে হবে। এসব বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা গেলে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বাস্তবসম্মত ধারণা পাবেন।

বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবাহ নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। তবে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, ঋণ পরিশোধ, আর্থিক হিসাব এবং অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের ঝুঁকি একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান পরিসংখ্যান দেখায়, আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি রেমিট্যান্সের বাড়তি প্রবাহকে ছাড়িয়ে গেছে এবং নিট বিদেশি অর্থপ্রবাহও কমেছে। ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সে শ্লথগতি বা আমদানি ব্যয়ের নতুন উল্লম্ফন ঘটলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

তাই নীতিনির্ধারণের লক্ষ্য হওয়া উচিত কেবল রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও ব্যবহারের মধ্যে টেকসই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈধ লেনদেনকে সহজ, অনিয়মকে কঠিন এবং বৈদেশিক অর্থপ্রবাহকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে। রেমিট্যান্সের সাফল্য তখনই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে, যখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাব্যবস্থা শুধু বর্তমান প্রবাহের ওপর নির্ভর করবে না, বরং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও অর্জন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাইগ্রেসদের টি-টোয়েন্টি দলের নতুন নেতৃত্বে নাহিদা-সোবহানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


টাইগ্রেসদের টি-টোয়েন্টি দলের নতুন নেতৃত্বে নাহিদা-সোবহানা

বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি নিগার সুলতানা জ্যোতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সাথে দলের নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে ব্যাটার সোবহানা মোস্তারিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বরাত দিয়ে ক্রিকবাজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিগার সুলতানা। তিনি জানান, নিজের খেলায় আরো মনোযোগ দিতে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন।

বিসিবি নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচক প্যানেলের সাথে বৈঠক শেষে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব নাহিদার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সাথে সোবহানা মোস্তারি তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বিসিবি মনে করছে, নাহিদাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। ২০২২ সালে নিগার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই নাহিদা দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

রফিকুল আরো বলেন, ‘নাহিদা দীর্ঘ সময় ধরে সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। এখন আমরা মনে করছি, টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়ার সঠিক সময় এসেছে।’

টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে নিগার থাকছেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তার নেতৃত্বে খেলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নারী দলের পরবর্তী সূচি আইসিসি উইমেন্স এমার্জিং নেশনস ট্রফি। এই প্রতিযোগিতা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী ১২ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দলটির অভিযান শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%