ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরাইলি মেজর জেনারেল অল্পের জন্য বাঁচলেন


ইসরাইলি মেজর জেনারেল অল্পের জন্য বাঁচলেন

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলোর গাড়ির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। তবে শেষ মুহূর্তে গাড়ি থেকে নেমে যান জেনারেল রাফি। হামলার ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

দখলদার দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, মেজর মিলো দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তিনি ওই সময় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সফরে ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলো ও তার এক সহকারী গাড়ি থেকে নামার কিছুক্ষণ পর একটি বিস্ফোরকবাহী ফার্স্ট-পারসন-ভিউ ড্রোন তাদের গাড়িতে আঘাত হানে। যদিও গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তারা অক্ষত থেকে যান।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

এছাড়া, ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষ সংবাদটি প্রকাশের অনুমতি দেওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে আইডিএফের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে চাচ্ছে।

গত সপ্তাহে কান জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহ জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ড্রোন, অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) এবং সমন্বিত হামলার মাধ্যমে ইসরাইলের কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা। জেনারেল রাফির ওপর হামলা সেখানকার কৌশলের অংশ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা ও দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য বাড়ছে, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পরিবারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪০ এম


মা ও দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য বাড়ছে, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পরিবারের

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলায় এক মা এবং তার দুই শিশু কন্যার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ক্রমেই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলা হলেও, নিহত ইতি রানীর স্বজনরা এই অভিযোগে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

বুধবার (৩ জুন) বিকালে বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪), তার বড় মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ দুটি পৃথক কক্ষ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও কক্ষের পরিস্থিতি বিচার করে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত বিশ্লেষণ কিংবা ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই এমন মন্তব্য করায় স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নিহত ইতি রানীর জা মনি রানী উল্লেখ করেছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ আত্মহত্যার কথা বলছে, যা নিয়ে তাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। তারা মনে করেন এটি নিশ্চিতভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

স্বজনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শুধু ইতি রানী ও তাঁর সন্তানদের ডাকবাংলোয় প্রবেশের দৃশ্য দেখা গেছে, কিন্তু এর আগের বা পরের কোনো ফুটেজ রয়েছে কিনা তা প্রকাশ করা হয়নি।

নিহতের ভাই মিত্র সরকার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঁচ মিনিটের ফুটেজ দেখানো হয়েছে। কিন্তু সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ ভিডিও কোথায়? তারা জানতে চাইছেন, কারা সেখানে প্রবেশ করেছে বা বের হয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ইতি রানীর সেদিন ডাকবাংলোয় কাজ করার কথা ছিল না, সেই সাথে তার মেয়েরাও আগে কখনো সেখানে যেত না। তাই ওই দিন তাদের ডাকবাংলোয় উপস্থিত হওয়াটাই রহস্যজনক।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডাকবাংলোর ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ইতি রানী ও ছোট মেয়ে অনুরাধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩ নম্বর কক্ষ থেকে পাওয়া যায় বড় মেয়ে আরাধ্যের মরদেহ। একই পরিবারের সদস্যরা কেন আলাদা কক্ষে অবস্থান করছিল, মৃত্যুর আগে তাদের অবস্থান কী ছিল এবং কক্ষগুলোর দরজা কীভাবে বন্ধ হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার বারান্দায় কোনো গ্রিল নেই। ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করেছেন যে, গ্রিল না থাকায় অতিথিরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। তবে বারান্দার থাই গ্লাসের লকগুলো নষ্ট কি না, সেই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বৃহস্পতিবার বিকালে ইতি রানী ও তাঁর দুই কন্যার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করেন। তারা শহরের বিভিন্ন সড়কে মরদেহ নিয়ে মিছিল করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, আমার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত চান। পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি করেছেন।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। মরদেহের বিভিন্ন নমুনা উন্নত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ অথবা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ফিরতি বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যা মামলার জন্য এখনো নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক স্বামী কর্তৃক এসিডে গুরুতর দগ্ধ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫২ এম


সাবেক স্বামী কর্তৃক এসিডে গুরুতর দগ্ধ নারী

হবিগঞ্জে রুবিনা আক্তার (২৫) নামের এক নারীর মুখ এসিডে ঝলসে দিয়েছেন তার সাবেক স্বামী। গুরুতর অবস্থায় রুবিনাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাসিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের উজ্জল মিয়ার (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রুবিনার দুই বছর আগে। এক সময় তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়ে গেলে ৬ মাস আগে রুবিনা উজ্জলকে তালাক দেন। তাদের দুটি সন্তান বর্তমানে উজ্জল মিয়ার কাছে রয়েছে। কিন্তু এরপরও উজ্জল তার পিছু ছাড়েননি। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে আসা যাওয়ার পথে এবং তার কর্মস্থলে গিয়েও উত্যক্ত করতেন উজ্জল। বৃহস্পতিবার রাতে, রুবিনা অফিসে কাজ শেষে বাড়ি আসার পথে বহুলায় বাড়ির কাছে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা উজ্জল তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করেন। রুবিনার চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে এলে উজ্জল পালিয়ে যান। স্থানীয়রা রুবিনাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাসিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল হক মুনশী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উজ্জলকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের সুদের টাকার জেরে ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: সোহাগ সিকদার, বরিশাল প্রতিনিধি:

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ এম


বরিশালের সুদের টাকার জেরে ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ; ব্ল্যাঙ্ক চেক ব্যবহার ও মিথ্যা মামলার হুমকির অভিযোগ

মো: সোহাগ সিকদার, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকায় সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মো. মন্টু খান জানান, করোনা মহামারির সময় সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নান্টু ফরাজী ও তার স্ত্রী সখি বেগমের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে ওই টাকার বিপরীতে দীর্ঘ সময় ধরে মাসিক সুদ পরিশোধ করে আসলেও ঋণের অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে তার কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে মন্টু খান উল্লেখ করেন, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি সুদ ও মুনাফা বাবদ আনুমানিক এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও অভিযুক্তরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছেন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগ করা শুরু হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তরা কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর খুলে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুনরায় ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে বলে জানা গেছে।

মন্টু খানের অভিযোগ, বিরোধকে কেন্দ্র করে তার ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তার স্ত্রীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ব্যাংক চেক দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। চেকটি কখনো অভিযুক্তদের দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে একটি এনজিওর ঋণ কার্যক্রমের সময় কোনো অসাধু চক্রের মাধ্যমে এটি আত্মসাৎ হয়ে থাকতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৫ জুনের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় তাকে ও তার পরিবারকে মারধর, বসতবাড়ি দখল এবং তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার মামলা দায়েরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার এসআই জাকির শরিফ বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই জাকির শরীফের দেওয়া বক্তব্যের হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট তালাশ বিডির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে নান্টু ফরাজী ও সখি বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

মন্টু খান বলেন, “আমি কোনো বিরোধ বা সংঘাত চাই না। মূল টাকা পরিশোধে আমি প্রস্তুত। আমি শুধু চাই আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান হোক এবং আমার পরিবার নিরাপদে বসবাস করতে পারুক।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে তা জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অপরাধের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। তবে বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার (SO) নাসিম উদ্দিন তালাশ বিডিকে বলেন, “আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “সুদ ব্যবসার আড়ালে যদি কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জবরদখল বা হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।”

তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ কর্মী আল-আমিন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ এম


বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ কর্মী আল-আমিন গ্রেফতার
 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (নগর ভবন) কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মী মো. আল-আমিন হাওলাদারকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি থানাধীন আলেকান্দা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার নিউ সার্কুলার রোডের হার্ট ফাউন্ডেশন-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল বরিশাল নগর ভবনের সামনে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিল বের করা হয়েছিল। ওই মিছিলে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে আল-আমিন সরাসরি অংশ নেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার একটি চৌকস দল বৃহস্পতিবার রাতে নিউ সার্কুলার রোডের হার্ট ফাউন্ডেশন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে আল-আমিনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত মো. আল-আমিন হাওলাদার (২৫) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের হার্ট ফাউন্ডেশন এলাকার বাসিন্দা মো. হিরণ হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশ নিয়ে শান্ত বরিশালকে অশান্ত করার চেষ্টা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%