প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ; ব্ল্যাঙ্ক চেক ব্যবহার ও মিথ্যা মামলার হুমকির অভিযোগ
মো: সোহাগ সিকদার, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকায় সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মো. মন্টু খান জানান, করোনা মহামারির সময় সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নান্টু ফরাজী ও তার স্ত্রী সখি বেগমের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে ওই টাকার বিপরীতে দীর্ঘ সময় ধরে মাসিক সুদ পরিশোধ করে আসলেও ঋণের অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে তার কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে মন্টু খান উল্লেখ করেন, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি সুদ ও মুনাফা বাবদ আনুমানিক এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও অভিযুক্তরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছেন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগ করা শুরু হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তরা কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর খুলে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুনরায় ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে বলে জানা গেছে।
মন্টু খানের অভিযোগ, বিরোধকে কেন্দ্র করে তার ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তার স্ত্রীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ব্যাংক চেক দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। চেকটি কখনো অভিযুক্তদের দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে একটি এনজিওর ঋণ কার্যক্রমের সময় কোনো অসাধু চক্রের মাধ্যমে এটি আত্মসাৎ হয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৫ জুনের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় তাকে ও তার পরিবারকে মারধর, বসতবাড়ি দখল এবং তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার মামলা দায়েরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার এসআই জাকির শরিফ বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই জাকির শরীফের দেওয়া বক্তব্যের হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট তালাশ বিডির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নান্টু ফরাজী ও সখি বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
মন্টু খান বলেন, “আমি কোনো বিরোধ বা সংঘাত চাই না। মূল টাকা পরিশোধে আমি প্রস্তুত। আমি শুধু চাই আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান হোক এবং আমার পরিবার নিরাপদে বসবাস করতে পারুক।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে তা জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অপরাধের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। তবে বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার (SO) নাসিম উদ্দিন তালাশ বিডিকে বলেন, “আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “সুদ ব্যবসার আড়ালে যদি কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জবরদখল বা হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।”
তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন