০৪:৫৭ পি.এম
১৯৮২ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল স্পেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছিল চুয়াল্লিশ বছর আগে।
কুয়েত বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছিল। তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চেকস্লোভাকিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এর পর তারা ম্যাচ খেলে ফ্রান্সের বিপক্ষে।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
ফ্রান্সের সাথে ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের যুবরাজ এবং দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ ফাহাদ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ।
খেলা দেখতে এসে এই যুবরাজ একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটান। ম্যাচে কুয়েতের বিপক্ষে ফ্রান্স গোল করলে তিনি সরাসরি মাঠে ঢুকে এসে গোলটি বাতিল করিয়ে দেন।
ম্যাচের শুরুতে কুয়েত এবং ফ্রান্স লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণে জমে উঠেছিল খেলা। তবে এই ধারাবাহিকতা বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি কুয়েত।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ফ্রান্স ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবদুল্লাহ আল বুলৌশির গোলে কুয়েত ব্যবধান কমায়। মনে হচ্ছিল, কুয়েতের দল ফিরে আসছে।
আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না
এরপর খেলার ৭৯ মিনিটে ঘটে একটি অদ্ভুত ঘটনা। আক্রমণে থাকা ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা আচমকা দাঁড়িয়ে যায়। একটি ‘ভৌতিক’ বাঁশির শব্দ বেজে উঠেছিল। কুয়েতের ফুটবলাররা ভেবেছিলেন, এটি খেলা থামানোর সংকেত।
এ কারণে তারা দাঁড়িয়ে পড়েন এবং সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার আলাইন গিরেস। রেফারিও ঘোষণা করেন গোল।
এর ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কুয়েতের ফুটবলাররা রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন। তাদের যুক্তি ছিল, বাঁশির শব্দ শুনে তারা খেলা থামানোর নির্দেশ ভেবেছিলেন।
তবে রেফারি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এই পরিস্থিতি দেখে গ্যালারি থেকে যুবরাজ ফাহাদ মাঠে চলে আসেন। মাঠে নেমেই রেফারির কাছে কৈফিয়ত চান।
আরও পড়ুন: ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করে ভারত তাদের বন্ধুত্ব প্রমাণ করবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
এই সময় শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। যুবরাজ রেফারিকে বলেছিলেন, গোল বাতিল না করলে ম্যাচ বাতিলের হুমকি দেন। এতে চাপের মুখে গোলটি বাতিল করেন সোভিয়েত ইউনিয়নের রেফারি মিরোস্লাভ স্টুপার।
যদিও সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে জিতে যায় ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের মানুয়েল আমোরোস বলেছিলেন, ‘আমরা দেখলাম কুয়েতের যুবরাজ মাঠে নামছেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন তিনিই ফিফার প্রেসিডেন্ট!’
এই ঘটনার জন্য সোভিয়েত রেফারিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে ফিফা। তাঁকে জরিমানা দেওয়া হয়। শেষে কুয়েত ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে। কুয়েত এরপর থেকে আজও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরতে পারেনি।
আরও পড়ুন: ডুলির লক্ষ্য, সব ম্যাচে জয় নিশ্চিত করা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন