প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সামরিক অভিযান বা ইউরেনিয়াম জব্দের আশঙ্কায় নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরান। গত কয়েক সপ্তাহে, পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রায়-উপযোগী উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন ভান্ডারগুলো আরও সুরক্ষিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি বলে জানা গেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরেনিয়াম সংরক্ষণাগারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সুড়ঙ্গ পরিকল্পিতভাবে ধসিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবেশপথগুলোতে বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যাতে বাইরের কোনো বাহিনীর জন্য সেখানে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের ফলে প্রায় আধা টন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা জব্দ করা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে গেছে। যদিও মাত্র এক মাস আগেই পরিস্থিতি এমন ছিল না। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত জব্দের নির্দেশ দিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত শান্তি ও পারমাণবিক চুক্তিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ আলোচনায় থাকা চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংস করা। কিন্তু সুড়ঙ্গ ধস এবং মাইন পুঁতে রাখার কারণে এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই বিপজ্জনক পরিবেশে ইউরেনিয়াম উদ্ধার অভিযানের দায়িত্ব কে নেবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের কূটনৈতিক মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে সিএনএনের প্রশ্নের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউসও।
চলমান সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে যে আলোচনা চলছে, সেখানে ইউরেনিয়াম উদ্ধারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্তমানে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষই একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পরে ওই ইউরেনিয়াম নিরাপদভাবে ধ্বংস করে ইরানের বাইরে সরিয়ে নেয়া হবে।
পারমাণবিক খাতের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নতুন ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে তেহরান দাবি করতে পারে যে, ধসে পড়া সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা কিছু পারমাণবিক উপাদান তাদের পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন