রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২১ পি.এম
বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। ভদ্রা নদীর পানিতে শেষ বিকেলের রোদ চিকচিক করছে। নদীর ওপর নির্মিত দীর্ঘ সেতুটি সেই আলোতে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে সেতুর ওপর আলো কমার কোনো লক্ষণ নেই। একের পর এক মানুষ আসছেন। কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ ইজিবাইকে, কেউ হেঁটে। সঙ্গে শিশু, পরিবার, স্বজন। কেউ নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন, কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন। শিশুরা এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। কেউ এসেছেন সেতু দিয়ে পার হতে, আবার কেউ শুধু সেতুটি দেখতে।
খুলনার দাকোপ উপজেলার কালিনগর বাজারসংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত গার্ডার সেতুটি এখন স্থানীয় মানুষের কাছে যোগাযোগের অবকাঠামোর চেয়ে নতুন এক আকর্ষণের নাম হয়ে উঠেছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনো হয়নি। কিন্তু সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আর এই কারণেই নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে।
বহু বছরের অপেক্ষার পর নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটিকে অনেকে নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। একজন বয়স্ক ব্যক্তি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, ‘আগে এই নদী পার হতে খেয়ায় বসে অপেক্ষা করতে হতো। এখন নিজের চোখে সেতুটা দেখে মনে হচ্ছে, সময় সত্যিই বদলেছে।’
ভদ্রার দুই পাড়ের মানুষের কাছে এই পরিবর্তনটি সহজ কোনো গল্প নয়। দাকোপ এমন একটি উপজেলা, যার ভৌগোলিক বাস্তবতা প্রতিদিনের জীবনকে নদী ও পানির সঙ্গে বেঁধে রেখেছে। বঙ্গোপসাগর উপকূলের এই উপজেলা তিনটি দ্বীপ বা পোল্ডারে বিভক্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার হিসেবে পরিচিত এসব এলাকার মানুষের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে দীর্ঘদিন ধরে ভরসা ছিল খেয়া ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার।
নদী তখন শুধু নদী ছিল না, ছিল একটি অপেক্ষা। খেয়া কখন ছাড়বে, নদীর পানি কেমন, বাতাস কেমন, স্রোত কতটা- এসব হিসাব করেই চলতে হতো মানুষকে। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে নদীর ঘাটে এসে অপেক্ষা করতে হতো। কৃষকদের ফসল নিয়ে বাজারে যেতে নদী পার হতে হতো। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের স্কুলযাত্রাও খেয়ার ওপর নির্ভর করত। এখন সেই অপেক্ষার জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে সড়ক।
ভদ্রা নদীর পশ্চিম পাড়ে ৩২ নম্বর পোল্ডারে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন রয়েছে। পূর্ব পাড়ে ৩৩ নম্বর পোল্ডারে দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন অবস্থিত। সাত ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নদী ছিল বড় বাধা। সেতুটি চালু হওয়ার ফলে সেই বাধা অনেকটাই সরে গেছে। তাই স্থানীয় মানুষের কাছে সেতুটি যেন একসঙ্গে যোগাযোগ, স্বস্তি ও আনন্দের গল্প।
কালিনগর বাজারের ব্যবসায়ী দেবাশিষ রায় দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর দাবির সঙ্গে ছিলেন। তার মতে, এত দিন খেয়া পার হয়ে মুরগি ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে সময় ও অর্থ- দুটিই বেশি লাগত।
দেবাশিষ রায় বলেন, অনেকবার দাবি জানিয়েছি, অনেক অপেক্ষা করেছি। শেষ পর্যন্ত সেতু হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে ছোট ব্যবসায়ীদেরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুধু ব্যবসায়ী নয়, কৃষকের চোখেও সেতুটির আলাদা অর্থ রয়েছে। জমিতে উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে। পরিবহন ব্যয় কমতে পারে। কৃষকের হাতে পণ্যের ভালো দাম পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বাড়বে। আর সেই সঙ্গে উৎপাদনের আগ্রহ বাড়তে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে করছেন, এর প্রভাব সাত ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দাকোপ উপজেলা সদর ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সঙ্গে মোংলার যোগাযোগও আরো সুগম হবে। অর্থাৎ ভদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুটি কেবল দুই পাড়কে নয়, বৃহত্তর একটি জনপদের অর্থনৈতিক যোগাযোগকেও কাছে টেনে আনছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটির আরেকটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে চিকিৎসাসেবায়। স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক হরিপদ হালদার বলেন, গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে আগে খেয়া পার করে উপজেলা বা জেলা সদরে নিতে হতো। নদীর ঘাটে অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হতো। এখন সড়কপথে দ্রুত রোগী নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের কাছেও এই সেতুর গল্প অন্যরকম।
কালিনগর জিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তমা রায়, প্রণিতা সরদার, লাবনী গাইন, প্রশান্ত রায় ও অনিক রায়ের বাড়ি নদীর পূর্ব পাড়ের শিংজোড়া ও রামনগর এলাকায়। প্রতিদিন খেয়া পার হয়ে তাদের স্কুলে যেতে হতো। খেয়া পেতে দেরি হলে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল হয়।
পরে দ্বিতীয় দফায় ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের কার্যাদেশও বাতিল করা হয়। এরপর তৃতীয় দফায় কাজ পায় এমবিইএল-এইসিকেই (জেভি)। দীর্ঘ জটিলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মূল সেতুর বর্ধিত অংশ ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৬১ দশমিক ৬৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। সংযোগ সড়ক বা ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ১৪০ দশমিক ১৬ মিটার। সব মিলিয়ে নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।
এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি চালু হওয়ায় দাকোপের পাশাপাশি কয়রা ও পাইকগাছার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমবিইএল-এইসি-কেই (জেভি)-এর ঠিকাদার জহিরুল ইসলাম জামাল খান জানান, মূল গার্ডার সেতুর বর্ধিত অংশ ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে রোড সেফটি প্রোগ্রামের প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রোড-১৩, ব্লক-এ অবস্থিত ফোকাস স্কুল প্রাঙ্গণে ‘জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম’ আয়োজন করে অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেবক’। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা প্রয়োজন।" তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সেবকের ২২টি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে আরো সচেতন করে তুলবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই ভবিষ্যতে গাড়ির মালিক, যাত্রী, পথচারী কিংবা চালক হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারা গড়ে তুলবে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল বারী বলেন, সেবক নিজস্ব অর্থায়নে যে কার্যক্রম শুরু করেছে, তা দ্রুত দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা সংগঠনটির জন্য কঠিন। তিনি মন্তব্য করেন, "সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের কর্মসূচি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ সড়ক ও যানবাহনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে দুর্ঘটনা কমাতে তা ভূমিকা রাখবে।
ফোকাস স্কুলের সিইও নূরজাহান মুক্তা বলেন, সেবকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বড়দেরও সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে জানার সুযোগ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।"
ফোকাস স্কুলের হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম ও ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়া প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল বলেন, সেবক সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে রোড সেফটি নিয়ে কাজ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনের সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৯ হাজার মোটরগাড়ি চালককে বিনামূল্যে ডিফেনসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "সেবকের পরিকল্পনা ও মডিউল অনুযায়ী ডিফেনসিভ ড্রাইভিং এবং জুনিয়র রোড সেফটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।"
অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা, পথচারী হিসেবে দায়িত্ব, যানবাহনে নিরাপদ চলাচল এবং সড়ক ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এছাড়া ফোকাস স্কুল ঢাকার হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম ও ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেবক সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা ও টিআইবির সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল। সঞ্চালনা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন সেবকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিনিয়র প্রশিক্ষক খান মো. বাবুল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের চেয়ে সাপকে বেশি বিশ্বাস করবেন।
তিনি রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। আপনারা সাপকে বিশ্বাস করবেন। একটা সাপ ও একটা জামায়াত যদি আসে, তাহলে আগে জামায়াত সম্পর্কে সাবধান হবেন, তারপরে সাপটিকে মারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতায় তারেক রহমানকে বিএনপিতে রাখতে চাইলে নিজেদের সততা বজায় রাখেন। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ কিন্তু খুব সচেতন। আমাদের কিছু ভুল হয়নি, তা কিন্তু না।’
শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিলেন। ২০১৪ সালে একা একা নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৮ সালে দিনের ভোট নিশিরাতে করেছিলেন। ২০২৪ সালে করেছিলেন আমি-ডামির নির্বাচন। বিএনপিকে সহসা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে—এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনা বলতাছে, আসতাছে আসতাছে; কিন্তু সে আসবে না।’
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ফজলুর রহমান আরো বলেন, ‘যারা আমার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, আমার মা-বোনের ইজ্জত ধ্বংস করেছিল, যারা মুনীর চৌধুরী, আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হানের মতো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি বিশ্বাস করেন, সেই জামায়াতে ইসলামী আপনাদের খালাতো ভাই লাগে, তাহলে আপনারা ভুল করবেন। আমি বলে গেলাম, আমাকে ভুল বুঝতে পারেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এরা যখন পার্লামেন্টে যায়, তখন তারা নবজাতক শিশু। আর পার্লামেন্ট থেকে বের হয়ে বলে এক দফা দিলাম। বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। তাই এ বিষয়ে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ অন্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনাম ও রোগীদের আস্থায় ডা. তহুরা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অপপ্রচার নয় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বরিশাল প্রতিনিধি: গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা (Gynecologist & Obstetrician), বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে বরিশালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন ডা. তহুরা আক্তার। রোগীদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি দায়িত্বশীল, সদালাপী, মানবিক ও আন্তরিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অনেকেই তাঁর চিকিৎসাসেবা, রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন।
রোগীদের ভাষ্য, ডা. তহুরা চিকিৎসার সময় পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেন। অনেক রোগী তাঁকে সহজে যোগাযোগযোগ্য চিকিৎসক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রোগীদের কেউ কেউ। তাঁদের মতে, প্রসূতি ও সিজারিয়ান সেবার ক্ষেত্রেও তিনি তুলনামূলকভাবে সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকার তেল ব্যবসায়ী সোহেল খান জানান, তাঁর দুই সন্তানের জন্মের সময় তিনি ডা. তহুরা আক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ওই দুই চিকিৎসা-পর্বে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি লক্ষ্য করেননি।
সোহেল খান জানান, চিকিৎসার সময় ডা. তহুরার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও আচরণ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একবার তাঁকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে সোহেল খান বলেন, “আমি আমার পরিবারের চিকিৎসার সময় যে অভিজ্ঞতা পেয়েছি, সেটিই বলতে পারি। কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করি।”
এই দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও রোগীদের আস্থার মধ্যেই সম্প্রতি বরিশালের রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসাধীন এক প্রসূতি রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নাজিয়া রহমান মাইশা নামে ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ডা. তহুরার দীর্ঘদিনের রোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি অংশ মনে করেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা-ঘটনার প্রকৃত কারণ যথাযথ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাঁদের মতে, একটি দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবা ও পেশাগত সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
কোনো চিকিৎসকই চান না তাঁর চিকিৎসাধীন কোনো রোগী মৃত্যুবরণ করুন। একটি রোগীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের আশা, ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও যখন একটি জীবন হারিয়ে যায়, সেই বেদনা শুধু স্বজনদের নয়, চিকিৎসকের হৃদয়েও গভীরভাবে দাগ কাটে। একজন চিকিৎসক জীবন বাঁচাতে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু জীবন-মৃত্যুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে নয়, মহান আল্লাহর হাতে।
একজন চিকিৎসকও একজন মানুষ। তাঁরও অনুভূতি আছে, দায়িত্ববোধ আছে এবং একজন রোগীকে সুস্থ করে তাঁর প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। বিশেষ করে প্রসূতি চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন মা ও তাঁর সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চিকিৎসকের জন্য শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, একই সঙ্গে একটি গভীর মানবিক দায়বদ্ধতাও।
ডা. তহুরার রোগী ও পরিচিতজনদের একটি অংশের অভিযোগ, একটি মহল তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও রোগীদের আস্থার কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত বা একতরফা প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি কিছু সাংবাদিককে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী, রোগীর স্বজন, চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-নথি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এতে যেমন রোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি গুরুত্ব পাবে, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কোনো চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
জীবন-মৃত্যু মহান আল্লাহর হাতে। চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আবেগ, গুজব, অনুমান বা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন তথ্য, প্রমাণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন।
ডা. তহুরার দীর্ঘদিনের রোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে তাই দাবি উঠেছে, অপপ্রচার নয়, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ করা হোক। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে একজন চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম অযথা ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টাও বন্ধ করা হোক।
সমালোচনা হোক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপপ্রচার নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটিশ পুলিশ যুক্তরাজ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার সন্দেহ রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিস্ফোরক আইনে অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে।
সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, রবিবার ভোরে স্থানীয় সময় গ্লুচেস্টারশায়ার ওয়েলফোর্ড এলাকায় তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের খবর পাওয়ার পর সশস্ত্র পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক করে। পরে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ ঘটনাটির তদন্তে যুক্ত হয়। গাড়িগুলো ঘিরে ৪০০ মিটার নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল সেগুলো পরীক্ষা করছে।
ঘটনার পর আশপাশের প্রায় ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাকে নিরাপত্তার কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পাঁচজনই হেফাজতে আছেন।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স বলেছেন, "তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।"
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘাঁটিটি হলো রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি। ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদনে যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
জুলাই মাসে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যবহৃত কোনো ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ