প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনাম ও রোগীদের আস্থায় ডা. তহুরা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অপপ্রচার নয় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বরিশাল প্রতিনিধি: গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা (Gynecologist & Obstetrician), বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে বরিশালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন ডা. তহুরা আক্তার। রোগীদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি দায়িত্বশীল, সদালাপী, মানবিক ও আন্তরিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অনেকেই তাঁর চিকিৎসাসেবা, রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন।
রোগীদের ভাষ্য, ডা. তহুরা চিকিৎসার সময় পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেন। অনেক রোগী তাঁকে সহজে যোগাযোগযোগ্য চিকিৎসক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রোগীদের কেউ কেউ। তাঁদের মতে, প্রসূতি ও সিজারিয়ান সেবার ক্ষেত্রেও তিনি তুলনামূলকভাবে সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকার তেল ব্যবসায়ী সোহেল খান জানান, তাঁর দুই সন্তানের জন্মের সময় তিনি ডা. তহুরা আক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, ওই দুই চিকিৎসা-পর্বে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি লক্ষ্য করেননি।
সোহেল খান জানান, চিকিৎসার সময় ডা. তহুরার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও আচরণ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একবার তাঁকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে সোহেল খান বলেন, “আমি আমার পরিবারের চিকিৎসার সময় যে অভিজ্ঞতা পেয়েছি, সেটিই বলতে পারি। কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করি।”
এই দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও রোগীদের আস্থার মধ্যেই সম্প্রতি বরিশালের রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসাধীন এক প্রসূতি রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নাজিয়া রহমান মাইশা নামে ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ডা. তহুরার দীর্ঘদিনের রোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি অংশ মনে করেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা-ঘটনার প্রকৃত কারণ যথাযথ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাঁদের মতে, একটি দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবা ও পেশাগত সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
কোনো চিকিৎসকই চান না তাঁর চিকিৎসাধীন কোনো রোগী মৃত্যুবরণ করুন। একটি রোগীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের আশা, ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও যখন একটি জীবন হারিয়ে যায়, সেই বেদনা শুধু স্বজনদের নয়, চিকিৎসকের হৃদয়েও গভীরভাবে দাগ কাটে। একজন চিকিৎসক জীবন বাঁচাতে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু জীবন-মৃত্যুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে নয়, মহান আল্লাহর হাতে।
একজন চিকিৎসকও একজন মানুষ। তাঁরও অনুভূতি আছে, দায়িত্ববোধ আছে এবং একজন রোগীকে সুস্থ করে তাঁর প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। বিশেষ করে প্রসূতি চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন মা ও তাঁর সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চিকিৎসকের জন্য শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, একই সঙ্গে একটি গভীর মানবিক দায়বদ্ধতাও।
ডা. তহুরার রোগী ও পরিচিতজনদের একটি অংশের অভিযোগ, একটি মহল তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও রোগীদের আস্থার কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত বা একতরফা প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি কিছু সাংবাদিককে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী, রোগীর স্বজন, চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-নথি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এতে যেমন রোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি গুরুত্ব পাবে, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কোনো চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
জীবন-মৃত্যু মহান আল্লাহর হাতে। চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আবেগ, গুজব, অনুমান বা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন তথ্য, প্রমাণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন।
ডা. তহুরার দীর্ঘদিনের রোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে তাই দাবি উঠেছে, অপপ্রচার নয়, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ করা হোক। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে একজন চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম অযথা ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টাও বন্ধ করা হোক।
সমালোচনা হোক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপপ্রচার নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন