বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:২২ পি.এম
বাংলাদেশের প্রথম অভিবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ও উৎসব ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’-এ জাতীয় বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে আবির ফেরদৌস মুখরের ‘হাউ ডু ইউ ডু’। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভাগে সেরা হয়েছে তুরস্কের পরিচালক আদার বারান ডেগারের ‘দ্য কোল্ড’।
জাতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সৈয়দ সাহিল ও রাকায়েত রাব্বী নির্মিত ‘মাটি’। তৃতীয় স্থান পেয়েছে ইফফাত রওনাক প্রমির ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’। আন্তর্জাতিক বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে ইরানের পরিচালক মোসায়েব হানাইয়ের ‘ওভারলোড’ এবং তৃতীয় হয়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচালক রিকার্দো মুনোজ সিনিয়রের ‘অ্যান আইল্যান্ড’।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমান। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থার যে পরিস্থিতি, তাতে অনেক সময় দিকবিদিকশূন্য হয়ে এবং আশপাশের হাতছানির কারণে আমাদের তরুণেরা বিদেশে পাড়ি জমায়। তারা যাওয়ার আগে ও পরে প্রতারিত হয়। তবে, কোনো খরচ ছাড়াই যেসব রেমিট্যান্স সরকারের হাতে আসে, তা অনেক মূল্যবান। কারণ আমরা অনেকটাই আমদানিনির্ভর। সেজন্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। আর সেই বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান আমাদের দেশের সেই মানুষগুলো, যারা বিদেশে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে না পারলে আমাদের বড় সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। যারা যেতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য সহজ পথ বাতলে দেওয়া, খরচ কমিয়ে আনা এসব নিশ্চিত করতে হবে। তবে দিনশেষে এটা মনে রাখতে হবে, অভিবাসন শুধু পরিসংখ্যান নয়, মানুষের গল্প। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে তথ্য মন্ত্রণালয় পাশে থাকতে চায়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ বিদেশে যায়, কিন্তু সেই যাওয়ার পথটা খুব সুখকর নয়। আশার গল্প যেমন আছে, তেমনি দুঃখ-বঞ্চনার গল্পও আছে। আপনারা যে গল্পগুলো তুলে এনেছেন, তা সবই সত্য ঘটনা। এখন সেগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে আনতে হবে।”
বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জিওসেপ্পে দি জিওভান্নি বলেন, “আমি প্রায়ই শুনি যে ইতালি যেতে ১০ হাজার ১৫ হাজার ডলার লাগে। কিন্তু আসলে কত লাগে জানেন? ইতালির ভিসার জন্য সর্বনিম্ন ৬১ আর সর্বাধিক ১০০ ডলার নেয়। তাহলে এই ১০ হাজার ১৫ হাজার ডলার কে নেয়? দুই পাড়ের মাঝখানের কিছু লোক। বাংলাদেশ ও ইতালির অপরাধী চক্র যারা মানুষের অভিবাসনের মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে শোষণ করে। আমরা এই চক্রগুলো ভেঙে দেয়ার জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু সেজন্য বাংলাদেশের সরকারের সহায়তা আমাদের দরকার। আবার এটাও বলতে চাই, লিবিয়া হয়ে নৌকায় করে যারা আমাদের সৈকতে ভিড়বে, আমরা তাদের ফিরিয়ে দেবো। আমাদের আইন এখন এতটাই কঠিন।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন বলেন, “শিল্প ও গল্প বলার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন নিয়ে আরও গভীর সামাজিক আলোচনা তৈরি করা সম্ভব। এ ধরনের উৎসব নতুন নির্মাতাদের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।”
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও জুরি বোর্ডের সদস্য রাহনুমা সালাম খান বলেন, “অভিবাসন ও মানবপাচারের মতো জটিল মানবিক সংকটকে চলচ্চিত্র অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
গত ১ এপ্রিল গুগল ফর্ম ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্ল্যাটফর্ম ফিল্মফ্রিওয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র আহ্বান করা হয়। বিশ্বের ২৪টি দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। তিন মাসব্যাপী এ আয়োজনে নির্মাতাদের জন্য ছয়টি মেন্টরশিপ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ৫৭টি চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়। পরে জাতীয় বিভাগে ১৩টি এবং আন্তর্জাতিক বিভাগে ১০টিসহ মোট ২৩টি চলচ্চিত্র চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়।
বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ব্রাজিল, কানাডা, কোস্টারিকা, সাইপ্রাস, মিসর, ফ্রান্স, ভারত, ইরান, ইসরায়েল, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, তুরস্ক, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা ও ভিয়েতনাম, এই দেশগুলো থেকে চলচ্চিত্র পাঠিয়েছেন নির্মাতারা।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিমেল আশরাফ, ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খান এবং সিনেমাটোগ্রাফার ও চলচ্চিত্র পরিচালক সাহিল রনি জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিত্রনাট্য, নির্মাণশৈলী, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
জাতীয় বিভাগে সেরা পুরস্কার বিজয়ী আবির ফেরদৌস মুখর বলেন, “চলচ্চিত্র অনেক শক্তিশালী একটি মাধ্যম। আমার মনে হয়, যারা অভিবাসনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ যাওয়ার সময় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে শিকার হতে পারেন, তারা যখন এসব চলচ্চিত্র দেখবেন, তখন তাদের মধ্যে এই উপলব্ধিটা আসবে যে এভাবে আমার যাওয়া উচিত কি না। নিরাপদে যেতে হলে আমার করণীয় কী?”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশ (সিসিবি)-এর একটি প্রতিনিধিদল।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক অংশীদারি সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনারারি কনসালদের ভূমিকার ওপর জোর দেয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশের (সিসিবি) সভাপতি ও মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরীন ফাতেমা আওয়ালের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদারে অনারারি কনসালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি এ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বৈঠকে অনারারি কনসালদের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরো গতিশীল করার জন্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সহায়তা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারি সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কনস্যুলার কর্পসের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এ ছাড়া, সরকারের সঙ্গে আরো কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্পস ইন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকে।
প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন সিসিবির সহসভাপতি ও সাইপ্রাসের অনারারি কনসাল শাহাব সাত্তার, সহসভাপতি ও পর্তুগালের অনারারি কনসাল শাখাওয়াত হোসেন, মহাসচিব ও ক্রোয়েশিয়ার অনারারি কনসাল কাজী শাহ মুজাক্কের আহমাদুল হক ইশমাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের (লাও পিডিআর) অনারারি কনসাল জেনারেল আরিক মোরশেদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এসওয়াতিনির অনারারি কনসাল মোর্শেদুল আলম চাকলাদার।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল আন্তরিক অভ্যর্থনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আতিথেয়তার জন্য পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি আজ বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পর্যটনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে নেপালি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংলিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
পারস্পরিক স্বার্থে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার গুরুত্ব স্বীকার করে তারা বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, আঞ্চলিক সংযোগ, পর্যটন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা গভীরতর করা ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
উভয় পক্ষ বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার সংকল্পও ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেও ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় শরীয়তপুরের ইয়ামিন সরদার দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে লিবিয়ায় আট মাস ধরে নির্মম নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও একই জেলার অন্তত ১৯ তরুণের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে তাদের স্বজনরা জীবিত নাকি মৃত— এই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
লিবিয়ায় নিখোঁজদের পরিবারগুলোর সদস্যরা বলছেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য মেলেনি। ফলে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। তারা মানবপাচারকারী দালালচক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দেশে ফিরে আসা ইয়ামিন সরদার জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় দালাল জামাল বেপারীর মাধ্যমে লিবিয়ায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তার ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। তাকে মারধর করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। ইয়ামিনের কথায়, আট মাস ধরে তাকে আটকে রেখে পরিবারের ওপর টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হত। পরিবারের সদস্যরা জায়গা-জমি বিক্রি করে দুই দফায় মোট ২৭ লাখ টাকা পরিশোধের পর গত মাসে তাকে দেশে ফেরায়।
দেশে ফিরে আসার পর ইয়ামিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাও নেন। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হলেও তার শরীরজুড়ে মানবিক নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দালালচক্রের প্রভাবের কারণে কোনো সমাধান হয়নি। তারা জামাল বেপারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে জামাল বেপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কাউকে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত নন।
সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের তুলাতলা গ্রামে নিখোঁজ ১৯ তরুণের স্বজনরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই-বোন ও শিশু সন্তানদের কান্না পরিবেশকে ভারী করে তোলে। তাদের একটাই দাবি—নিখোঁজ স্বজনদের ফিরিয়ে আনা হোক।
স্বজনরা অভিযোগ করেন, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য রাশেদ খান, কামরুজ্জামান টুন্নু খা এবং তাদের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই আইন অনুযায়ী দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে নিউ নিকেষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক।
নিখোঁজ রাশিদুল ইসলামের বাবা সেলিম জমাদ্দার জানান, টুন্নু খা ও রাশেদ খান ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৮ লাখ টাকা নেন। পরে লিবিয়ায় ছেলের নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি তার ছেলেকে বাঁচানোর আশায় ২০ শতাংশ জমিও লিখে দেন। তবে এক বছর পার হলেও তিনি ছেলের কোনো খোঁজ পাননি।
নিখোঁজ দিদার আকনের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, তিনি যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন তার স্বামী লিবিয়ায় যান। তার সন্তান আজও বাবাকে দেখেনি। তিনি শুধু স্বামীকে ফিরে পেতে চান।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরযাদবপুর গ্রামের রাশেদ খান ‘লামিসা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন। তার সহযোগী ছিলেন জমজ ভাই কামরুজ্জামান টুন্নু খা। তাদের নেতৃত্বে একটি চক্র শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক সংগ্রহ করে অবৈধ পথে ইতালি পাঠানোর নামে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় পাঠাত।
২০২২ ও ২০২৩ সালে শরীয়তপুরের অন্তত ২২ তরুণকে এভাবে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১২ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। পরবর্তীতে কেউ লিবিয়ার কারাগারে, কেউ মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হন। তাদের নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও মুক্তিপণ আদায় করা হয়। গত বছরের ২১ ও ২২ মার্চের পর থেকে ওই যুবকদের অধিকাংশের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ নেই।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালচক্র শুরু থেকেই পরিবারের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নিয়ে রাখত। মামলা করার চেষ্টা করলে সেই চেক ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হতো। এ কারণে দীর্ঘদিন কেউ আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পাননি। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাশেদ খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর আদালত ও পালং মডেল থানায় অন্তত ১১টি মামলা করেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। এরপর থেকেই তাদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ মানবপাচার চক্রের কারণে শরীয়তপুরের হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কেউ পঙ্গু হয়ে দেশে ফিরেছেন, কেউ ফিরেছেন লাশ হয়ে, আবার অনেকে আজও নিখোঁজ। তাদের মতে, মানবপাচারকারী চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিখোঁজদের সন্ধান নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি তুলেছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, এই শহরে আইভী ও শামীম ওসমানের রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে রশি টানাটানির ফলে উন্নয়নবঞ্চিত হয়েছি আমরা। তবে বলা যায়, সেই পরিবেশ এখন আর বিদ্যমান নেই।
অভিযোগের বিষয়টা পরিষ্কার করে বলেন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ব্যবসাবান্ধব এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগর ভবন অডিটরিয়ামে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
নাসিক প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। তিনি গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পাশাপাশি মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট আছেন। তিনি তার নির্দেশনায় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।
এছাড়া সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক জানান, মানুষ একা কিছু করতে পারে না। সবকিছুর জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজ এখানে আমাদের সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ আমাদের সবার, তাই সবাই মিলে এ নগরীর মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রশাসকের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জামায়াতে ইসলামীর মহানগরের সাবেক আমির মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ, ইসলামী আন্দোলনের মহানগর সহ-সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ