বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:২৬ পি.এম
ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেও ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় শরীয়তপুরের ইয়ামিন সরদার দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে লিবিয়ায় আট মাস ধরে নির্মম নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও একই জেলার অন্তত ১৯ তরুণের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে তাদের স্বজনরা জীবিত নাকি মৃত— এই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
লিবিয়ায় নিখোঁজদের পরিবারগুলোর সদস্যরা বলছেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য মেলেনি। ফলে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। তারা মানবপাচারকারী দালালচক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দেশে ফিরে আসা ইয়ামিন সরদার জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় দালাল জামাল বেপারীর মাধ্যমে লিবিয়ায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তার ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। তাকে মারধর করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। ইয়ামিনের কথায়, আট মাস ধরে তাকে আটকে রেখে পরিবারের ওপর টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হত। পরিবারের সদস্যরা জায়গা-জমি বিক্রি করে দুই দফায় মোট ২৭ লাখ টাকা পরিশোধের পর গত মাসে তাকে দেশে ফেরায়।
দেশে ফিরে আসার পর ইয়ামিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাও নেন। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হলেও তার শরীরজুড়ে মানবিক নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দালালচক্রের প্রভাবের কারণে কোনো সমাধান হয়নি। তারা জামাল বেপারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে জামাল বেপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কাউকে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত নন।
সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের তুলাতলা গ্রামে নিখোঁজ ১৯ তরুণের স্বজনরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই-বোন ও শিশু সন্তানদের কান্না পরিবেশকে ভারী করে তোলে। তাদের একটাই দাবি—নিখোঁজ স্বজনদের ফিরিয়ে আনা হোক।
স্বজনরা অভিযোগ করেন, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য রাশেদ খান, কামরুজ্জামান টুন্নু খা এবং তাদের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই আইন অনুযায়ী দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে নিউ নিকেষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক।
নিখোঁজ রাশিদুল ইসলামের বাবা সেলিম জমাদ্দার জানান, টুন্নু খা ও রাশেদ খান ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৮ লাখ টাকা নেন। পরে লিবিয়ায় ছেলের নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি তার ছেলেকে বাঁচানোর আশায় ২০ শতাংশ জমিও লিখে দেন। তবে এক বছর পার হলেও তিনি ছেলের কোনো খোঁজ পাননি।
নিখোঁজ দিদার আকনের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, তিনি যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন তার স্বামী লিবিয়ায় যান। তার সন্তান আজও বাবাকে দেখেনি। তিনি শুধু স্বামীকে ফিরে পেতে চান।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরযাদবপুর গ্রামের রাশেদ খান ‘লামিসা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন। তার সহযোগী ছিলেন জমজ ভাই কামরুজ্জামান টুন্নু খা। তাদের নেতৃত্বে একটি চক্র শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক সংগ্রহ করে অবৈধ পথে ইতালি পাঠানোর নামে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় পাঠাত।
২০২২ ও ২০২৩ সালে শরীয়তপুরের অন্তত ২২ তরুণকে এভাবে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১২ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। পরবর্তীতে কেউ লিবিয়ার কারাগারে, কেউ মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হন। তাদের নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও মুক্তিপণ আদায় করা হয়। গত বছরের ২১ ও ২২ মার্চের পর থেকে ওই যুবকদের অধিকাংশের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ নেই।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালচক্র শুরু থেকেই পরিবারের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নিয়ে রাখত। মামলা করার চেষ্টা করলে সেই চেক ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হতো। এ কারণে দীর্ঘদিন কেউ আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পাননি। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাশেদ খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর আদালত ও পালং মডেল থানায় অন্তত ১১টি মামলা করেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। এরপর থেকেই তাদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ মানবপাচার চক্রের কারণে শরীয়তপুরের হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কেউ পঙ্গু হয়ে দেশে ফিরেছেন, কেউ ফিরেছেন লাশ হয়ে, আবার অনেকে আজও নিখোঁজ। তাদের মতে, মানবপাচারকারী চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিখোঁজদের সন্ধান নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি তুলেছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, এই শহরে আইভী ও শামীম ওসমানের রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে রশি টানাটানির ফলে উন্নয়নবঞ্চিত হয়েছি আমরা। তবে বলা যায়, সেই পরিবেশ এখন আর বিদ্যমান নেই।
অভিযোগের বিষয়টা পরিষ্কার করে বলেন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ব্যবসাবান্ধব এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগর ভবন অডিটরিয়ামে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
নাসিক প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। তিনি গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পাশাপাশি মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট আছেন। তিনি তার নির্দেশনায় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।
এছাড়া সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক জানান, মানুষ একা কিছু করতে পারে না। সবকিছুর জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজ এখানে আমাদের সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ আমাদের সবার, তাই সবাই মিলে এ নগরীর মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রশাসকের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জামায়াতে ইসলামীর মহানগরের সাবেক আমির মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ, ইসলামী আন্দোলনের মহানগর সহ-সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, তৃণমূল থেকে ক্রীড়ার ভিত্তি গড়ে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করার প্রত্যয় রয়েছে। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অংশগ্রহণের ফুটবল আসর ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষামন্ত্রী জামাল খান সড়কে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে রোড শো উদ্বোধন করেন।
এরপর তিনি টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন স্থান চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়ার ভিত্তি শক্ত করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করে একটি সুস্থ, দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
এ সময় তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সম্প্রসারণ ও যুব সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে এর আগে বড় পরিসরে ক্রীড়া আয়োজন করা হয়েছিল। এবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে। দেশের ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদরাসা ও ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এবারের টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে খেলাটি আগস্টে শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থেকে আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, একটি ভবন শক্ত করতে হলে যেমন তার ভিত্তি মজবুত করতে হয়, তেমনই ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য অবশ্যই যেতে হবে একদম তৃণমূল পর্যন্ত।
তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের জন্য লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং তৈরিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে। নির্বাচিত সেরাদের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মকে দক্ষ, সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন, যিনি ডেভিড ইমন নামে পরিচিত, ভারতে পালিয়ে আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছে একটি ভারতের আধার কার্ডও ছিল। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে এই আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়। তদন্তে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা থেকে জানা যায় যে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজন প্রস্তুত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের জন্য গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে কুমিল্লায় আটকের চেষ্টা করা হয়। পরে খুলনার উদ্দেশে রওনা হলে পদ্মা সেতু এলাকায় তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল পেরিয়ে যশোরের দিকে যাওয়ার সময়ও অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডে আজহার খান নামে পরিচয় ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে ভারতের নাগরিক পরিচয়পত্রের আদলে একটি ছবি, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, এই কার্ডটি আসল, নকল, নাকি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তবে, পুলিশ এখনো চূড়ান্তভাবে জানাতে পারেনি, আধার কার্ডটি বৈধ কি না, কিংবা ডেভিড ইমন এটি ব্যবহার করেছেন কি না। তদন্ত শেষে সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাঝে, যখন প্রয়োজনে এসপি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের পেছনে কোন রাজনৈতিক গডফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ৫ আগস্টের পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা কম থাকার সুযোগে তারা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেছে। চট্টগ্রামে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশ সংবাদের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ডেভিড ইমন এবং সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন। ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবং রায়হান চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকান্ড ঘটেছে। এ ঘটনার ফলে প্রায় ৩ ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী ট্রেন চলাচল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটে।
রেলওয়ে সূত্রের থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ষ্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঈশ্বরদীগামী ট্রেনটি যখন রাজশাহীর চব্বিশনগর ষ্টেশনে পৌঁছায়, তখনই ইঞ্জিনে আগুন লাগে। এ সময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ষ্টেশন মাষ্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় বেশ কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়। ফলে যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ