প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন, যিনি ডেভিড ইমন নামে পরিচিত, ভারতে পালিয়ে আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছে একটি ভারতের আধার কার্ডও ছিল। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে এই আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়। তদন্তে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা থেকে জানা যায় যে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজন প্রস্তুত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের জন্য গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে কুমিল্লায় আটকের চেষ্টা করা হয়। পরে খুলনার উদ্দেশে রওনা হলে পদ্মা সেতু এলাকায় তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল পেরিয়ে যশোরের দিকে যাওয়ার সময়ও অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডে আজহার খান নামে পরিচয় ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে ভারতের নাগরিক পরিচয়পত্রের আদলে একটি ছবি, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে, এই কার্ডটি আসল, নকল, নাকি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তবে, পুলিশ এখনো চূড়ান্তভাবে জানাতে পারেনি, আধার কার্ডটি বৈধ কি না, কিংবা ডেভিড ইমন এটি ব্যবহার করেছেন কি না। তদন্ত শেষে সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাঝে, যখন প্রয়োজনে এসপি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের পেছনে কোন রাজনৈতিক গডফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ৫ আগস্টের পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা কম থাকার সুযোগে তারা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেছে। চট্টগ্রামে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশ সংবাদের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ডেভিড ইমন এবং সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন। ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবং রায়হান চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন