রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪২ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামানের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাইসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিদায়ী ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “কাউখালীতে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। এ উপজেলায় কাজ করার সময় মানুষের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সবসময় মনে থাকবে। সরকারি দায়িত্বের কারণে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কাউখালীর মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও স্মৃতি সবসময় হৃদয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “উপজেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নতুন কর্মস্থলেও কাউখালীর মানুষের জন্য শুভকামনা থাকবে। আশা করি, এখানকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আজম দুলাল, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিকসন, অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমেদ, হাফেজ মাওলানা এবাদত হোসেন, প্রধান শিক্ষক সামছুর রহমান মিজান, সুব্রত রায়, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সাবেক সভাপতি তারিকুল ইসলাম পান্নু, ইউপি সদস্য আজম আলী, রুবেল রিয়াজি এবং পুরোহিত জ্যোতিময় রতন চক্রবর্তী প্রমুখ।
বক্তারা বিদায়ী ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামানের কাউখালীতে কর্মকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি উপজেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও মানুষের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাবের কথা স্মরণ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে তাঁর নতুন কর্মস্থলের সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটির যৌথ সঞ্চালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রফিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন। বিদায়ের সময় জাতীয় দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্যাবানিজ কিংবদন্তি।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদায়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জাতীয় দল নিয়ে তার অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে অবামেয়াং বলেন, ‘আমি চোট নিয়ে আফকনে খেলেছিলাম। এরপরও তারা আমাকে অপমান করেছে, আমার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে। এটাই ছিল সহ্যের শেষ সীমা।
তাহলে এখানেই আমি সবকিছুর ইতি টানতে চাই।’
সর্বশেষ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের দলে অবামেয়াংকে অন্তর্ভুক্ত করার পর গ্যাবানিজ তাকে বাদ দিয়েছিল। পরে অবশ্য তাকে দলে ফেরানো হয়। এই ঘটনার জন্য তিনি অপমানিত বোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
অবামেয়াংয়ের বিদায়ের মাধ্যমে প্রায় ১৭ বছরের দীর্ঘ পথচলা শেষ হলো। ২০২২ সালে তিনি আবারও অবসর নিয়েছিলেন ৩৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। এক বছর পর তিনি দেশে ৪০ গোল করার মালিক হিসেবে ফিরে আসেন। ২০০৯ সালে তার অভিষেকের পর থেকে তিনি দেশের হয়ে ৮৬টি ম্যাচ খেলেছেন।
জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও তার পেশাদার ক্যারিয়ার এখনই শেষ হচ্ছে না।
এ মৌসুমে মার্শেই থেকে লা লিগার দল দেপোর্তিভো লা করুনায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, আর্সেনাল, বার্সেলোনা, চেলসির মতো ক্লাবে খেলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের উপকূলে সংঘর্ষের পর একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ১০ নাবিকের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার, তুরস্কের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারের জন্য কাজ চালিয়ে যান।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু
এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার ইস্তাম্বুলের নিকটে মারমারা সাগরে দুটি তুর্কি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর ১১ মিনিটের মধ্যে ১০ নাবিক নিয়ে একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং অন্যান্য জরুরি সেবার কর্মীরা তৎপর রয়েছেন। তল্লাশি অভিযানে ১৮টি জাহাজ, পাঁচটি হেলিকপ্টার, দুটি ড্রোন, একটি বিমান এবং পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ সরঞ্জামসহ একটি নৌযান মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া অন্য জাহাজটি সিলিভরির কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং দেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে অঞ্চলটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুনভাবে সাজানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন।
বুধবার মিসর সফরের সময় শি চিনপিং এসব মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে চীন যখন এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন তার এই বক্তব্য প্রকাশিত হলো। এটি শি চিনপিংয়ের চার বছরের মধ্যে প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। চলমান সংঘাতের কারণে এ অঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতি পুনঃমূল্যায়ন করছে।
মিসর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিবছর দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসর চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও সম্পর্ককে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে মিসর। বুধবার কায়রোতে সামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শি চিনপিংকে স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এরপর শি চিনপিং মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা উচিত। তিনি অঞ্চলটির জন্য নতুন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। শি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা এখন আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিনহুয়া জানায়, শি চিনপিং ও আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দুই দেশের নেতারা সন্ত্রাসবাদ দমনে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তথ্যকেন্দ্র, ছোট বৈদ্যুতিক চিপ এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর সরবরাহব্যবস্থায় দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একে অপরের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি মিসরের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনার একটি বড় পরিকল্পনার অংশ। সফরের আগে প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মিসর ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে।
সাবেক মিসরীয় কূটনীতিক আইমান জেইনেলদিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, চীনসহ বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায় মিসর। দুই দেশের স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মিল থাকার কারণে সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক ভূমিকা আরও বাড়াতে চায় বেইজিং। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে চীনের। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক এইচ এ হেলিয়ার বলেন, চীনের কাছে মিসর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির বড় অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মিসরের উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতেও মিসরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মিসরের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
চীন ও মিসরের সম্পর্ক শুধুমাত্র অর্থনীতি ও কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসে মিসর ও চীন যৌথভাবে ‘সভ্যতার ঈগল’ নামে একটি সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। এতে দুই দেশের বাড়তে থাকা সামরিক সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মহড়ায় বিরল একটি বিমানযুদ্ধের অনুশীলনও করা হয়। এতে চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
শি চিনপিংয়ের সফরকে কেন্দ্র করে কায়রোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চীনের পতাকা টানানো হয়। দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে মিসরের স্ফিংক্স ও চীনের মহাপ্রাচীরসহ দুই দেশের বিখ্যাত স্থাপনাগুলোর ছবি দিয়েও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সাজানো হয়। মিসরের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অর্থনীতি। দেশটিতে ১১ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করে। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল থাকায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও মিসরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। চীনের জন্যও মিসর একটি বড় বাজার। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মিসর প্রায় ১০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করেছে। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট সিসির চীন সফরের সময় দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারির চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর থেকে মিসরে চীনের বিনিয়োগ দ্রুত বেড়েছে।
চীনের বিভিন্ন কোম্পানি মিসরে কনটেইনার বন্দর, সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্প এবং লোহার পাইপ, গাড়ির টায়ার ও কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির কারখানায় কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। মিসরের মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীন প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। বুধবার মিসর সরকার ওই অঞ্চলে চীনের তৈরি শিল্প এলাকা আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া চীনের জেডসি রাবার গ্রুপ ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে মিসরে একটি টায়ার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফর এবং নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে মিসরের সঙ্গে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বোলাররা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছেন, কিন্তু এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাদের কোচকে! যেসব ক্রিকেটাররা খেলার সুযোগই পাননি, তাদেরকেও মাঝ সফর থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে দেশটির ক্রিকেট এখন অস্থির অবস্থায় রয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—বোর্ড ঠিক কোন যুক্তিতে দল পরিচালনা ও দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? একযোগে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে ছাঁটাই করার পাশাপাশি স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তিরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে পাকিস্তান। তবে দলের ব্যাটাররা একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও বল হাতে পেসাররা আলো ছড়িয়েছেন। লর্ডসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টেস্টে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে ২৯০ রানে অলআউট করতে তিন পেসারই ৮টি উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২০৮ রানে গুটিয়ে দিতে তারা ৯ উইকেট শিকার করেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে বোলারদের এমন অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ম্যাচ শেষে পিসিবি উমর গুলের পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজকে বরখাস্ত করে।
পিসিবির এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধান কোচ মুদাসসের নজর। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি বোলাররা তাদের কাজটি ঠিকঠাক করে থাকে, তাহলে উমর গুলকে বলির পাঁঠা বানানো হলো কেন? পাকিস্তান ম্যাচ হারলে মানুষ এতদিন হাসাহাসি করত, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি তো সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের এই দলে বোথাম, ট্রুম্যান বা অ্যান্ডারসনের মতো কোনো বোলার নেই। মাঝারি মানের এক দলের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটাররা দিশেহারা। দীর্ঘদিনের এই মিডল অর্ডার ব্যর্থতার সমাধান না করে পিসিবি কোন পথে হাঁটছে, তা বুঝে ওঠা দায়।’
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, ‘সফরের মাঝপথে হঠাৎ কোচ এবং খেলোয়াড়দের ফেরত পাঠানোর পেছনে শুধুমাত্র পারফরম্যান্স দায়ী—এটি বিশ্বাস করা কঠিন।
আমরা তো আর জাভেদ মিঁয়াদাদ, ইনজামাম বা সাঈদ আনোয়ারদের মতো বদলি তারকাদের সেখানে পাঠাচ্ছি না! এই সিদ্ধান্তগুলো আসলে সেই পুরনো কোন্দল এবং চরম অস্থিরতারই প্রতিফলন, যা বহু বছর ধরে আমাদের ক্রিকেটকে ধ্বংস করছে।
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেটে এই বিশৃঙ্খলা বারবার ফিরে এসেছে। মাঠের বাইরের ঝগড়া-বিবাদ বাদ দিয়ে বোর্ডের নজর এখন পারফরম্যান্সে দেওয়া উচিত। ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে বোর্ডরুমের রাজনীতি বন্ধ করে খেলোয়াড়দের মাঠে মনোযোগী হতে হবে বলে মনে করেন ইউসুফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ