প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বোলাররা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছেন, কিন্তু এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাদের কোচকে! যেসব ক্রিকেটাররা খেলার সুযোগই পাননি, তাদেরকেও মাঝ সফর থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে দেশটির ক্রিকেট এখন অস্থির অবস্থায় রয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—বোর্ড ঠিক কোন যুক্তিতে দল পরিচালনা ও দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? একযোগে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে ছাঁটাই করার পাশাপাশি স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তিরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে পাকিস্তান। তবে দলের ব্যাটাররা একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও বল হাতে পেসাররা আলো ছড়িয়েছেন। লর্ডসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টেস্টে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে ২৯০ রানে অলআউট করতে তিন পেসারই ৮টি উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২০৮ রানে গুটিয়ে দিতে তারা ৯ উইকেট শিকার করেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে বোলারদের এমন অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ম্যাচ শেষে পিসিবি উমর গুলের পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজকে বরখাস্ত করে।
পিসিবির এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধান কোচ মুদাসসের নজর। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি বোলাররা তাদের কাজটি ঠিকঠাক করে থাকে, তাহলে উমর গুলকে বলির পাঁঠা বানানো হলো কেন? পাকিস্তান ম্যাচ হারলে মানুষ এতদিন হাসাহাসি করত, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি তো সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের এই দলে বোথাম, ট্রুম্যান বা অ্যান্ডারসনের মতো কোনো বোলার নেই। মাঝারি মানের এক দলের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটাররা দিশেহারা। দীর্ঘদিনের এই মিডল অর্ডার ব্যর্থতার সমাধান না করে পিসিবি কোন পথে হাঁটছে, তা বুঝে ওঠা দায়।’
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, ‘সফরের মাঝপথে হঠাৎ কোচ এবং খেলোয়াড়দের ফেরত পাঠানোর পেছনে শুধুমাত্র পারফরম্যান্স দায়ী—এটি বিশ্বাস করা কঠিন।
আমরা তো আর জাভেদ মিঁয়াদাদ, ইনজামাম বা সাঈদ আনোয়ারদের মতো বদলি তারকাদের সেখানে পাঠাচ্ছি না! এই সিদ্ধান্তগুলো আসলে সেই পুরনো কোন্দল এবং চরম অস্থিরতারই প্রতিফলন, যা বহু বছর ধরে আমাদের ক্রিকেটকে ধ্বংস করছে।
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেটে এই বিশৃঙ্খলা বারবার ফিরে এসেছে। মাঠের বাইরের ঝগড়া-বিবাদ বাদ দিয়ে বোর্ডের নজর এখন পারফরম্যান্সে দেওয়া উচিত। ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে বোর্ডরুমের রাজনীতি বন্ধ করে খেলোয়াড়দের মাঠে মনোযোগী হতে হবে বলে মনে করেন ইউসুফ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন