বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:০১ পি.এম
ময়মনসিংহের নান্দাইলে মেয়াদ ফুরালেও বিদ্যালয় উন্নয়নের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। হলো ঠিকাদারদের চরম গাফিলতির কারণে, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি) অধীনে ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি অফিসের সূত্রে জানা যায়, নান্দাইলের এই প্রকল্পের অধীনে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টির সীমানা প্রাচীর এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের আলাদা কক্ষ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই কাজগুলো ২০২৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের অবহেলা এবং ধীরগতির কারণে কিছু কিছু প্রকল্পে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে নিয়ম অনুযায়ী মোট ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
নতুনভাবে যদি ফান্ড পাওয়া যায়, তাহলে বাকি কাজগুলোর জন্য নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে কাজের অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ এখনও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জাহাঙ্গীরপুর বালিয়া পুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই আটকে রয়েছে। ভবনের গাঁথুনির জন্য মাটির ওপরে কেবল ভীম তৈরি করে সেভাবেই ফেলে রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভবনটি সময়মতো না হওয়ায় একটি মাত্র ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।" ক্লাসরুমের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একই পরিস্থিতি চন্ডীপাশা মডেল সরকারি বিদ্যালয়, ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর ভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রকল্পগুলোর।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ঠিকাদারদের গাফিলতির শাস্তি কেন শিক্ষার্থীরা পাবে? তারা অবিলম্বে এই সংকট নিরসন করে দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবনগুলো সাধারণ শিক্ষার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানিয়েছেন, ঠিকাদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বৃদ্ধির পরও কাজ শেষ হয়নি। সেজন্য প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। ভবিষ্যতে ফান্ড পেলে পুনঃটেন্ডার পক্রিয়া মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গেন্ডারিয়ার থানার শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসায়ী মো. চুন্নু মিয়াকে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুইজনের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. মামুন ও বাবু ওরফে বাঘা বাবু।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি তাদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশও আদালত প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের ভোগ করতে হবে।
বিচার চলাকালে একজন আসামী সজিব মারা যাওয়ায় তাকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ আদালত দেন।
ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন সবজি ব্যবসায়ী চুন্নু মিয়া। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কাঁচামাল কেনার উদ্দেশ্যে যাত্রাবাড়ী আড়তে যান।
সেখান থেকে এক বস্তা বেগুন কিনে রিকশায় করে শ্যামবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভোর ৫ টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার কাঠেরপুল এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তার রিকশা আটকে দেন। তারা তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। চুন্নু মিয়া আসামিদের পরিচিত হিসেবে জানায়। এই কথাটি শোনার পর সজিব তাকে ছুরিকাঘাত করে।
পরে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনার পর চুন্নু মিয়ার শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর পরদিন গেন্ডারিয়া থানায় ছিনতাইয়ের পর খুনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
২০১১ সালের ১৪ জুন আসামি সজিব, মামুন ও বাঘা বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন গেন্ডারিয়া থানার উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান। একই বছরের ৭ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সাক্ষাৎ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও নেপালের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, আঞ্চলিক সংযোগ, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করা এবং পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই দিন দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৫০) হলেন উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে উক্ত্যত করত। এরপর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই তারিখ পর্যন্ত একাধিকবার ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জেঠাদের জানালে গত মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়। সালিশের বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আব্দুর রহিম সরকার আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমের পদত্যাগের পর এবার চার সহকারী প্রক্টরও তাদের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে।
এছাড়া, নতুন প্রক্টর ও একজন সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শামীমা নাসরীন জলি, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর কবির এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌসকে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এর আগে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।
এদিকে গত ২৯ জুলাই জারি করা দুটি পৃথক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তারকে আগামী দুই বছরের জন্য সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, উভয় নিয়োগই ২৯ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ