প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের নান্দাইলে মেয়াদ ফুরালেও বিদ্যালয় উন্নয়নের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। হলো ঠিকাদারদের চরম গাফিলতির কারণে, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি) অধীনে ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি অফিসের সূত্রে জানা যায়, নান্দাইলের এই প্রকল্পের অধীনে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টির সীমানা প্রাচীর এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের আলাদা কক্ষ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই কাজগুলো ২০২৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের অবহেলা এবং ধীরগতির কারণে কিছু কিছু প্রকল্পে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে নিয়ম অনুযায়ী মোট ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
নতুনভাবে যদি ফান্ড পাওয়া যায়, তাহলে বাকি কাজগুলোর জন্য নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে কাজের অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ এখনও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জাহাঙ্গীরপুর বালিয়া পুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই আটকে রয়েছে। ভবনের গাঁথুনির জন্য মাটির ওপরে কেবল ভীম তৈরি করে সেভাবেই ফেলে রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভবনটি সময়মতো না হওয়ায় একটি মাত্র ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।" ক্লাসরুমের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একই পরিস্থিতি চন্ডীপাশা মডেল সরকারি বিদ্যালয়, ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর ভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রকল্পগুলোর।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ঠিকাদারদের গাফিলতির শাস্তি কেন শিক্ষার্থীরা পাবে? তারা অবিলম্বে এই সংকট নিরসন করে দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবনগুলো সাধারণ শিক্ষার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানিয়েছেন, ঠিকাদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বৃদ্ধির পরও কাজ শেষ হয়নি। সেজন্য প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। ভবিষ্যতে ফান্ড পেলে পুনঃটেন্ডার পক্রিয়া মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন