ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হাইকমিশনের সতর্কতা


দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হাইকমিশনের সতর্কতা

দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান অভিবাসী বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে দিয়েছে প্রেটোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।

শনিবার (১৩ জুন) হাইকমিশনের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের দেশত্যাগে বাধ্য করতে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করছে দেশটির কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে।

হাইকমিশন জানায়, গত ১০ জুন জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে আটক হওয়া ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের অবৈধ ভ্রমণ এবং গ্রেফতারের ঘটনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া গত দুই দিনে আরও প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ করে আটক হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

বার্তায় হাইকমিশন স্পষ্ট জানাচ্ছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনও অনিয়ম বা অবিবেচনাপ্রসূত আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই বিদেশ ভ্রমণ, বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

হাইকমিশন আরও জানায়, অবৈধ অভিবাসনের কারণে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে বিভিন্ন দেশে ভিসা পাওয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়ছে। অসুবিধা থেকে মুক্তি পেতে সবার প্রতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিক ও তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নিরাপদ থাকা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে সকলকে হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি ট্রাম্প, নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি ট্রাম্প, নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্মত হয়েছেন ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতে, যদিও তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেননি। শুক্রবার ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই, দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর দেজফুলে একটি স্মরণ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন।

রেজাই বলেন যে, ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে চাননি।

শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় পৌঁছে গেছে এবং আলোচনা শুরুর পর থেকে এটি এখন বাস্তবায়নের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাই বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির অবস্থান বিশ্বব্যাপী জোরালো করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ এখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করতে ভয় পাচ্ছেন।

তিনি যুক্তি দেন যে, মার্কিন নীতিতে ক্রমবর্ধমানভাবে ইসরাইলি প্রভাব বাড়ছে। তিনি দাবি করেন যে, দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলে লবিংয়ের কারণে আমেরিকা কার্যত ‘জায়নবাদী শাসনের’ একটি ‘উপনিবেশে’ পরিণত হয়েছে।

রেজাইয়ের এই মন্তব্যটি এসেছে ইরানের পররাস্থ্যমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির শুক্রবারের বক্তব্যের পর। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে বলে আশা করছে এবং এই চুক্তির ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি

দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রেটোরিয়ায় বাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) হাইকমিশনের ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয় যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা এই বিষয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করছেন দেশটির কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে।

হাইকমিশন জানায়, সম্প্রতি ১০ জুন জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে আটক হওয়া ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের অবৈধ ভ্রমণ ও গ্রেফতারের ঘটনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই গত দুই দিনে আরও প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ করে আটক হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে কোন প্রকার অবিবেচনাপ্রসূত আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। বিদেশ ভ্রমণ, বসবাস ও জীবিকার জন্য অবশ্যই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

হাইকমিশন আরও জানায়, অবৈধ অভিবাসনের কারণে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভিসা পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিক ও তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নিরাপদ থাকা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের জন্য হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এই বার্তায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ: দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যা বললেন সৌম্য সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ: দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যা বললেন সৌম্য সরকার

ক্রিকেট ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো যে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল। সেইসাথে টাইগারদের সামনে অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার একটি সুযোগ রয়েছে। সৌম্য সরকার বলেছেন, যদি এই সুযোগ কাজে লাগানো যায়, তবে এটি একটি বড় অর্জন হবে।

রবিবার (১৩ জুন) ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সৌম্য বলেন, 'হোয়াইটওয়াশ বলা চলে অনেক বড় অর্জন হবে। আমরা যেহেতু সিরিজটি জিতেছি, এটি পুনরায় একটি বড় অর্জন। এটিকে বড়ভাবে উদযাপন করা উচিৎ ছিল। তবে ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে সেটা হবে আরও বড় একটি অর্জন। আমাদের সকলের লক্ষ্যও এটি। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।'

অনেক দিন পর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, হঠাৎ ম্যাচে খেলা চাপের বিষয়টি কি না। জবাবে সৌম্য বলেন, 'এটি শুধু আমার জন্য নয়, যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য যখন হুট করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যায়, তখন চাপ থাকে। আমাদের ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে ভাল কিছু উপহার দিতে হবে।'

দলে জায়গা না হলে কি ক্রিকেটারদের ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে সৌম্য বলেন, 'এখন অনেক ভালো সময়। এখন সবকিছুর ব্যাপারে অনেক ক্লিয়ার থাকে। জানানো কিংবা বোঝানোর চেষ্টা করা হয় কেন বিষয়টি হচ্ছে। দলের লক্ষ্য রয়েছে, সেটির মধ্যে দিয়েই সবাই যাচ্ছে।'

বাংলাদেশ সফরে আসা অস্ট্রেলিয়া দলের অনেক তারকা ক্রিকেটার নেই। স্টার্ক-কামিন্সদের অভাব অজিরা মাঠে হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে। মিরপুরে টাইগারদের বিরুদ্ধে টানা দুই ম্যাচে বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি।

টানা দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ হিসেবে অজিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের ঘরে তুলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টাইগাররা অজিদের ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে।

ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ও পাকিস্তানসহ সেরা দশে থাকা প্রায় সব দেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপেক্ষা ছিল। ২০০৫ সালে প্রথমবার ত্রিদেশীয় সিরিজে অজিদের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। এরপর ২০১৭ সালে টেস্টে জয় এবং ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের জন্য লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা অপেক্ষা করছিল। তবে সেই অপেক্ষা শেষ হলো। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে মিরাজ বাহিনী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় : এফবিসিসিআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় : এফবিসিসিআই

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই মন্তব্য করেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। তবে বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দূরদর্শিতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

শনিবার, তারা প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর নিজেদের পর্যবেক্ষণে এসব কথা জানায়। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের মতে, অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সরকারের ঘোষিত ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন (থ্রিআর)’ কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

সংগঠনটি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তবে যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সম্ভব হবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

এফবিসিসিআইয়ের মতে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজস্ব আদায়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হবে।

বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ। এ ক্ষেত্রে স্বল্পসুদে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি সতর্ক ঋণ ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিয়েছে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই আরও উল্লেখ করেছে, আগামী অর্থবছরে সরকারকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ এবং ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণের সুদ। এ বিষয়টিকে তারা একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বাজেট বাস্তবায়নের পথে উঁচু মূল্যস্ফীতি, নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এফবিসিসিআই।

অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যকর করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করা, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা, লজিস্টিক ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামো তৈরি করতে প্রায়োগিক উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

এফবিসিসিআই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় 'ফ্যামিলি কার্ড' ও 'কৃষক কার্ড' চালুর উদ্যোগ, ৬৫ বছর ও তার উপরে নাগরিকদের জন্য ট্রেনে বিনামূল্যে ভ্রমণ, মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ভাতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

এছাড়া এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

এফবিসিসিআই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারের উদ্যোগ, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ করহার বজায় রাখার প্রস্তাবকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

সংগঠনটি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার 'স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬', এসএমই উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।

এফবিসিসিআই করভিত্তি সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, কর প্রশাসনে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয়তা, অনলাইন ভ্যাট ও আয়কর রিটার্ন দাখিল, ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং ঝুঁকিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অডিট ব্যবস্থার মত উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।

তবে সংগঠনটি করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তকে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, কিন্তু ৫ শতাংশ স্ল্যাব বহাল রাখা এবং সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার ৩৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এছাড়াও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর হার এবং ন্যূনতম টার্নওভার কর আরও কমানোর সুপারিশ করেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও উৎপাদন খরচ কমাতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর হ্রাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য ও ভোগ্যপণ্যে উৎসে কর কমানো, খেজুর ও রান্নার মসলায় নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার এবং দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদনে কর-প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

তারা স্টার্টআপ, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিকারকদের জন্য প্রদত্ত কর সুবিধারও প্রশংসা করেছে।

এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন, বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাক ও চার্জিং স্টেশনের জন্য কর প্রণোদনাকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

তবে এমএস রডের কিছু পণ্যে উৎপাদন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে এফবিসিসিআই বলেছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব নির্মাণ খাতে পড়তে পারে।

সংগঠনটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজীকৃত টার্নওভার কর ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র আমানতে আবগারি শুল্ক অব্যাহতি, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সুবিধা, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি এবং কর-শুল্ক-ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া সহজীকরণের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউসের আওতায় স্বর্ণ আমদানি ও গহনা রপ্তানির নতুন বিধিমালা এবং স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার লেনদেনে উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

সংগঠনটি মনে করে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক মেরুকরণের মধ্যেও প্রস্তাবিত বাজেট একটি বাস্তবসম্মত, বাস্তবায়নযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব আর্থিক কাঠামো উপস্থাপন করেছে, যা প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

এফবিসিসিআই জানিয়েছে, তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সেইসঙ্গে অর্থবিল এবং কর, ভ্যাট ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ পর্যালোচনা করে সদস্য সংগঠনগুলোকে সাক্ষাৎকারে আলোচনা করে আরও সুপারিশ অল্প সময়ের মধ্যে সরকারকে প্রদান করার আগে বলা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%