ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় : এফবিসিসিআই


বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় : এফবিসিসিআই

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই মন্তব্য করেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। তবে বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দূরদর্শিতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

শনিবার, তারা প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর নিজেদের পর্যবেক্ষণে এসব কথা জানায়। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের মতে, অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সরকারের ঘোষিত ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন (থ্রিআর)’ কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সংগঠনটি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তবে যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সম্ভব হবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

এফবিসিসিআইয়ের মতে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজস্ব আদায়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হবে।

বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ। এ ক্ষেত্রে স্বল্পসুদে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি সতর্ক ঋণ ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিয়েছে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

এফবিসিসিআই আরও উল্লেখ করেছে, আগামী অর্থবছরে সরকারকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ এবং ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণের সুদ। এ বিষয়টিকে তারা একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বাজেট বাস্তবায়নের পথে উঁচু মূল্যস্ফীতি, নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এফবিসিসিআই।

অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যকর করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করা, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা, লজিস্টিক ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামো তৈরি করতে প্রায়োগিক উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

এফবিসিসিআই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় 'ফ্যামিলি কার্ড' ও 'কৃষক কার্ড' চালুর উদ্যোগ, ৬৫ বছর ও তার উপরে নাগরিকদের জন্য ট্রেনে বিনামূল্যে ভ্রমণ, মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ভাতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

এছাড়া এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

এফবিসিসিআই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারের উদ্যোগ, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ করহার বজায় রাখার প্রস্তাবকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

সংগঠনটি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার 'স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬', এসএমই উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।

এফবিসিসিআই করভিত্তি সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, কর প্রশাসনে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয়তা, অনলাইন ভ্যাট ও আয়কর রিটার্ন দাখিল, ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং ঝুঁকিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অডিট ব্যবস্থার মত উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।

আরও পড়ুন: ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে

তবে সংগঠনটি করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তকে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, কিন্তু ৫ শতাংশ স্ল্যাব বহাল রাখা এবং সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার ৩৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এছাড়াও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর হার এবং ন্যূনতম টার্নওভার কর আরও কমানোর সুপারিশ করেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও উৎপাদন খরচ কমাতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর হ্রাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য ও ভোগ্যপণ্যে উৎসে কর কমানো, খেজুর ও রান্নার মসলায় নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার এবং দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদনে কর-প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

তারা স্টার্টআপ, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিকারকদের জন্য প্রদত্ত কর সুবিধারও প্রশংসা করেছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার

এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন, বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাক ও চার্জিং স্টেশনের জন্য কর প্রণোদনাকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

তবে এমএস রডের কিছু পণ্যে উৎপাদন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে এফবিসিসিআই বলেছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব নির্মাণ খাতে পড়তে পারে।

সংগঠনটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজীকৃত টার্নওভার কর ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র আমানতে আবগারি শুল্ক অব্যাহতি, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সুবিধা, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি এবং কর-শুল্ক-ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়া সহজীকরণের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউসের আওতায় স্বর্ণ আমদানি ও গহনা রপ্তানির নতুন বিধিমালা এবং স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার লেনদেনে উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী

সংগঠনটি মনে করে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক মেরুকরণের মধ্যেও প্রস্তাবিত বাজেট একটি বাস্তবসম্মত, বাস্তবায়নযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব আর্থিক কাঠামো উপস্থাপন করেছে, যা প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

এফবিসিসিআই জানিয়েছে, তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সেইসঙ্গে অর্থবিল এবং কর, ভ্যাট ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ পর্যালোচনা করে সদস্য সংগঠনগুলোকে সাক্ষাৎকারে আলোচনা করে আরও সুপারিশ অল্প সময়ের মধ্যে সরকারকে প্রদান করার আগে বলা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাটোইর গ্রামে তৈয়বুর রহমান (৫৫) হত্যা কান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার আসামিদের বসতবাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে একদল বিক্ষুব্ধ মুসল্লি। এতে প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এই ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দিনটির জুমার নামাজের পরপরই এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ থেকে ৬০ জন মুসল্লি একত্রিত হয়ে তৈয়বুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৈয়ব আলী এবং তার ছয় ছেলে সাজেদুর রহমান, কামরান হোসেন, স্বাধীন, সুমন, সুজাত, সজিব এবং সহযোগী হামিদুল ইসলাম আকুর বসতবাড়িতে একযোগে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই আগুনে বাড়িগুলো সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অন্যদিকে, ইমরান হোসেন ও আমিনুর রহমানের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে, মান্দা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হত্যা মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাকে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামে বাচ্চাদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মোমিন ও প্রতিবেশী ইমরান হোসেনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পরিণতি হিসেবে ওইদিন সকালে ইমরান ও তার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আব্দুল মোমিনের বাড়িতে হামলা চালায়। ফলে ৪ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে, প্রতিপক্ষের লোকজন দ্বিতীয় দফায় আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়। এই সময় তাদের বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান এগিয়ে এলে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে প্রধান আসামি সৈয়ব আলী, কামরান, স্বাধীন এবং সুরভী বেগমকে গ্রেপ্তার করে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা ইতোমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে, জুমার নামাজের পর হঠাৎ করে এভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে আসামিদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া কোনোরকমেই সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্ঘটনায় ভারতীয় বিমান বিধ্বস্ত: সীমান্ত এলাকায় ৫ সেনা সদস্যের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


দুর্ঘটনায় ভারতীয় বিমান বিধ্বস্ত: সীমান্ত এলাকায় ৫ সেনা সদস্যের মৃত্যু

আসামের জোরহাটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৩ জুন) সকালে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় এই বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

ভারতীয় বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টার দিকে জোরহাট বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে নিয়মিত উড্ডয়নের সময় এএন-৩২ বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।

ভারতীয় বিমান বাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো এই সদস্যদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বাহিনী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবতরণের সময় বিমানটি বাহিনীর স্টেশনের ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি মূল্যায়নে দ্রুত জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।

ঘটনার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘জোরহাটে বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।’

উল্লেখ্য, এএন-৩২ একটি দ্বি-ইঞ্জিনবিশিষ্ট সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচিত। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মিত এই বিমানগুলো দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পরিবহন ও সরবরাহ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে প্রায় ১০০টি এএন-৩২ বিমান রয়েছে।

কয়েক মাস আগে আসামের কার্বি আংলং জেলায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট নিহত হন। ওই বিমানটিও জোরহাট বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে নিয়মিত উড্ডয়নে অংশ নিয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৯৮২ বিশ্বকাপে মাঠে নেমে গোল বাতিল করান কুয়েতের যুবরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


১৯৮২ বিশ্বকাপে মাঠে নেমে গোল বাতিল করান কুয়েতের যুবরাজ

 

১৯৮২ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল স্পেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছিল চুয়াল্লিশ বছর আগে।

কুয়েত বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছিল। তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চেকস্লোভাকিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এর পর তারা ম্যাচ খেলে ফ্রান্সের বিপক্ষে।

ফ্রান্সের সাথে ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের যুবরাজ এবং দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ ফাহাদ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ।

খেলা দেখতে এসে এই যুবরাজ একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটান। ম্যাচে কুয়েতের বিপক্ষে ফ্রান্স গোল করলে তিনি সরাসরি মাঠে ঢুকে এসে গোলটি বাতিল করিয়ে দেন।

ম্যাচের শুরুতে কুয়েত এবং ফ্রান্স লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণে জমে উঠেছিল খেলা। তবে এই ধারাবাহিকতা বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি কুয়েত।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ফ্রান্স ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবদুল্লাহ আল বুলৌশির গোলে কুয়েত ব্যবধান কমায়। মনে হচ্ছিল, কুয়েতের দল ফিরে আসছে।

এরপর খেলার ৭৯ মিনিটে ঘটে একটি অদ্ভুত ঘটনা। আক্রমণে থাকা ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা আচমকা দাঁড়িয়ে যায়। একটি ‘ভৌতিক’ বাঁশির শব্দ বেজে উঠেছিল। কুয়েতের ফুটবলাররা ভেবেছিলেন, এটি খেলা থামানোর সংকেত।

এ কারণে তারা দাঁড়িয়ে পড়েন এবং সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার আলাইন গিরেস। রেফারিও ঘোষণা করেন গোল।

এর ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কুয়েতের ফুটবলাররা রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন। তাদের যুক্তি ছিল, বাঁশির শব্দ শুনে তারা খেলা থামানোর নির্দেশ ভেবেছিলেন।

তবে রেফারি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এই পরিস্থিতি দেখে গ্যালারি থেকে যুবরাজ ফাহাদ মাঠে চলে আসেন। মাঠে নেমেই রেফারির কাছে কৈফিয়ত চান।

এই সময় শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। যুবরাজ রেফারিকে বলেছিলেন, গোল বাতিল না করলে ম্যাচ বাতিলের হুমকি দেন। এতে চাপের মুখে গোলটি বাতিল করেন সোভিয়েত ইউনিয়নের রেফারি মিরোস্লাভ স্টুপার।

যদিও সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে জিতে যায় ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের মানুয়েল আমোরোস বলেছিলেন, ‘আমরা দেখলাম কুয়েতের যুবরাজ মাঠে নামছেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন তিনিই ফিফার প্রেসিডেন্ট!’

এই ঘটনার জন্য সোভিয়েত রেফারিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে ফিফা। তাঁকে জরিমানা দেওয়া হয়। শেষে কুয়েত ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে। কুয়েত এরপর থেকে আজও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্ভাব্য মার্কিন হামলা রুখতে পারমাণবিক স্থাপনায় মাইন বসিয়েছে ইরান: আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


সম্ভাব্য মার্কিন হামলা রুখতে পারমাণবিক স্থাপনায় মাইন বসিয়েছে ইরান: আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

মার্কিন সামরিক অভিযান বা ইউরেনিয়াম জব্দের আশঙ্কায় নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরান। গত কয়েক সপ্তাহে, পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রায়-উপযোগী উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন ভান্ডারগুলো আরও সুরক্ষিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি বলে জানা গেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরেনিয়াম সংরক্ষণাগারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সুড়ঙ্গ পরিকল্পিতভাবে ধসিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবেশপথগুলোতে বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যাতে বাইরের কোনো বাহিনীর জন্য সেখানে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

এই সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের ফলে প্রায় আধা টন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা জব্দ করা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে গেছে। যদিও মাত্র এক মাস আগেই পরিস্থিতি এমন ছিল না। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত জব্দের নির্দেশ দিতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত শান্তি ও পারমাণবিক চুক্তিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ আলোচনায় থাকা চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংস করা। কিন্তু সুড়ঙ্গ ধস এবং মাইন পুঁতে রাখার কারণে এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই বিপজ্জনক পরিবেশে ইউরেনিয়াম উদ্ধার অভিযানের দায়িত্ব কে নেবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের কূটনৈতিক মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে সিএনএনের প্রশ্নের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউসও।

চলমান সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে যে আলোচনা চলছে, সেখানে ইউরেনিয়াম উদ্ধারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্তমানে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষই একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পরে ওই ইউরেনিয়াম নিরাপদভাবে ধ্বংস করে ইরানের বাইরে সরিয়ে নেয়া হবে।

পারমাণবিক খাতের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নতুন ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে তেহরান দাবি করতে পারে যে, ধসে পড়া সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা কিছু পারমাণবিক উপাদান তাদের পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%