প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাটোইর গ্রামে তৈয়বুর রহমান (৫৫) হত্যা কান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার আসামিদের বসতবাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে একদল বিক্ষুব্ধ মুসল্লি। এতে প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এই ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দিনটির জুমার নামাজের পরপরই এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ থেকে ৬০ জন মুসল্লি একত্রিত হয়ে তৈয়বুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৈয়ব আলী এবং তার ছয় ছেলে সাজেদুর রহমান, কামরান হোসেন, স্বাধীন, সুমন, সুজাত, সজিব এবং সহযোগী হামিদুল ইসলাম আকুর বসতবাড়িতে একযোগে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই আগুনে বাড়িগুলো সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অন্যদিকে, ইমরান হোসেন ও আমিনুর রহমানের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে, মান্দা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হত্যা মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামে বাচ্চাদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মোমিন ও প্রতিবেশী ইমরান হোসেনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পরিণতি হিসেবে ওইদিন সকালে ইমরান ও তার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আব্দুল মোমিনের বাড়িতে হামলা চালায়। ফলে ৪ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে, প্রতিপক্ষের লোকজন দ্বিতীয় দফায় আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়। এই সময় তাদের বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান এগিয়ে এলে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে প্রধান আসামি সৈয়ব আলী, কামরান, স্বাধীন এবং সুরভী বেগমকে গ্রেপ্তার করে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা ইতোমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে, জুমার নামাজের পর হঠাৎ করে এভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে আসামিদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া কোনোরকমেই সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন