ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘মামদানী মার্টস’ ঘিরে আমেরিকায় সমাজতন্ত্রের নতুন আলোচনা?


‘মামদানী মার্টস’ ঘিরে আমেরিকায় সমাজতন্ত্রের নতুন আলোচনা?

সুপারমার্কেটের ধারণা এখন বিশ্বজুড়েই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তবাজার অর্থনীতির সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিল বেসরকারি খাতের এই সুপারমার্কেট।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারি সুপারমার্কেটের শূন্য তাকের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় পণ্যে ঠাসা যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটগুলো ছিল তাদের শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন। এই সুপারমার্কেটগুলো বিদেশে আমেরিকার গণতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তার করতে এবং স্নায়ুযুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করেছিল। দশকের পর দশক ধরে, আমেরিকান জীবনধারার সুফল ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রচারের জন্য ইউএস ইনফরমেশন এজেন্সি বিশ্বব্যাপী আমেরিকান সুপারমার্কেটের ছবি বিতরণ করত। আমেরিকান সুপারমার্কেটগুলো মূলত ভোক্তা বা ক্রেতাদের পছন্দের এক বিশাল ভাণ্ডার। ১৯৬০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে একটি গড় আমেরিকান সুপারমার্কেটে পণ্যের সংখ্যা ৬ হাজার থেকে বেড়ে ৪৭ হাজারে পৌঁছায়।

আমেরিকান সুপারমার্কেটের এই রমরমা বাজারে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী সরকারি উদ্যোগে নিউইয়র্কে ৫টি বরোতে ৫টি সুপারমার্কেট স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। মামদানী নিউইয়র্কের দরিদ্র জনগণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করতেই ৫টি সুপারমার্কেট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। জোহরান মামদানীর এই ৭০ মিলিয়ন ডলারের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনায় ২০২৭ সালের শেষের দিকে ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এলাকায় প্রথম সরকারি মার্টটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আ.লীগ একটি অপপ্রচারকারী দল, তাদের সঙ্গে আরেকটি গুপ্ত দল যুক্ত হয়েছে’: রিজভী

২০২৯ সালে ম্যানহাটনের ইস্ট হারলেমে অবস্থিত ঐতিহাসিক লা মার্কেটায় দ্বিতীয় মার্টটি চালু করা হবে। ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড বরোতে সুপারমার্কেট স্থাপনের জন্য উপযোগী জায়গা খোঁজা হচ্ছে। মেয়র মামদানীর প্রথম মেয়াদের শেষ তথা ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫টি মার্ট সম্পূর্ণভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সরকারি সুপারমার্কেটে ৩০ ভাগ ডিসকাউন্টে পণ্য বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কাগজে কলমে একে 'পাবলিক গ্রোসারি স্টোর' বলা হলেও সমালোচকরা এর নাম দিয়ে রেখেছেন 'মামদানী মার্টস'।

মামদানী মার্টসের ধারণা নিয়ে আলোচনা চলাকালে সমালোচকরা রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলতসিনের একটি ছবি সামনে নিয়ে আসেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কিছু দিন আগে ১৯৮৯ সালে আমেরিকা সফরের সময় ইয়েলতসিন হঠাৎ হিউস্টনের র‌্যান্ডালস সুপারমার্কেটে পরিদর্শনে যান। দোকানে হাজারো রকমের খাবার ও পণ্যের প্রাচুর্য দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে, আমেরিকার সাধারণ নাগরিকেরা এত সহজে এত খাবার কিনতে পারে। কারণ সেই সময় সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে এক টুকরো রুটি বা মাংসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, যার বেশিরভাগ সময়ই তাক থাকত শূন্য। একটি ছবিতে দেখা যায়, ফ্রোজেন বা হিমায়িত খাবারের বৈচিত্র্য দেখে ইয়েলতসিন বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছেন। এই আকস্মিক যাত্রাবিরতির পর বিমানে ফেরার পথে, সোভিয়েত ফুড মার্কেটগুলোর শূন্য তাকের কথা চিন্তা করে ইয়েলতসিন দুই হাতে মাথা রেখে নিথর হয়ে বসে ছিলেন। তার জীবনী অনুযায়ী, তিনি তখন বলেছিলেন, 'ওরা আমাদের দরিদ্র মানুষগুলোর কী হাল করে রেখেছে?' পরবর্তীতে তিনি তার আত্মজীবনীতে স্বীকার করেন, আমেরিকার সুপারমার্কেটের সেই দৃশ্য তার সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল এবং তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সোভিয়েত অর্থনৈতিক মডেলটি পুরোপুরি ব্যর্থ।

তখনকার মতো এখনও আমেরিকার সুপারমার্কেটগুলো মুক্তবাজার অর্থনীতির এক পরম বিস্ময়। বিগত কয়েক দশক ধরে যে সরকারকে অযোগ্য এবং অদক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, সেই সরকারই ওয়ালমার্ট এবং কস্টকোর চেয়েও ভালোভাবে মুদিপণ্যের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পারবে; এই ধারণাটি সমালোচকদের মধ্যে একটি তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা 'মামদানি মার্টস'-এর পরিণতিও শেষ পর্যন্ত একঘেয়ে ও নিস্প্রাণ রাষ্ট্রচালিত সোভিয়েত দোকানগুলোর মতো হবে, যেখানে কেবল এক রকমের স্যুপ পাওয়া যেত।

মামদানী মার্টসের পক্ষে-বিপক্ষে তাই তুমুল তর্ক চলছে। সমর্থকরা যেখানে দেখছেন যে, সাধারণ মানুষ যখন নিত্যদিনের মুদিপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন তাদের সমস্যা সমাধানে সরকার এগিয়ে আসছে; অন্যরা সেখানে দেখছেন একজন সমাজতান্ত্রিক মেয়র আমেরিকার সমৃদ্ধির এক শক্তিশালী প্রতীকের ওপর আঘাত হানার জন্য নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। মামদানীর এই উদ্যোগের ব্যবসায়িক সাফল্য ব্যর্থতা নয়, বিতর্কটি হলো মতাদর্শিক। অনেকে একে মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণার ওপর সমাজতান্ত্রিক আগ্রাসন হিসেবেই বিবেচনা করছেন। অনেকের মতে মামদানী মার্টসের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটতে যাচ্ছে। তাদের মতে যে ধারণা ৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন: অপহরণের পর অজয়কে দিয়ে ঋণ আবেদন, এরপর ছিনতাই

এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৭০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাপিটাল ফান্ড অনুমোদন করা হয়েছে। তা ছাড়া, মূল বাজারদরের চেয়ে ৩০ ভাগ কম দামে পণ্য বিক্রি করার জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ ক্রমাগত নগদ ভর্তুকি দিতে হবে। সমালোচকদের দাবি; খাদ্য সংকট দূর করতে নতুন দোকান না খুলে এই একই টাকা সরাসরি কম আয়ের মানুষের ফুড অ্যাসিস্ট্যান্স বা ক্যাশ ট্র্যান্সফার হিসেবে দিলে অনেক বেশি মানুষ উপকৃত হতো। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় ছোট মুদিদোকান মালিকরাও এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার তাদেরই দেওয়া ট্যাক্সের টাকা ব্যবহার করে তাদের ব্যবসার সাথে অসম প্রতিযোগিতায় নামছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সুপারমার্কেট ব্যবসায় লাভের মার্জিন এমনিতে খুব কম, তাই ৩০ ভাগ ডিসকাউন্ট ধরে রাখা সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীর এই পরিকল্পনার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফেডারেল সরকারও তীব্র নেতিবাচক ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ধারণা, এই সরকারি দোকানগুলো এক বছরও টিকবে না এবং করদাতাদের ৭০ মিলিয়ন ডলার জলে যাবে।

সিইউএনওয়াই স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর সহযোগী অধ্যাপক নেভিন কোহেন বলেন, 'বিতর্কটি আসলে এই মডেলের সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি নিয়ে নয়। এটি মূলত সরকার আমাদের কী সেবা দেবে, তা নিয়ে দুটি ভিন্ন মতাদর্শের একটি পরীক্ষা।'

কিন্তু এতসব সমালোচনা এবং ফেডারেল সরকারের বিরোধিতা থাকার পরেও মামদানী তার নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষায় দরিদ্র মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য দিতে সরকারি সুপারমার্কেট স্থাপনের ধারণা নিয়ে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মামদানীর মূল রাজনৈতিক দর্শন হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সরকারকে ব্যবহার করা। তিনি তার রাজনৈতিক গুরু মেয়র ফিওরেলো লাগুয়ার্দিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন; যিনি তৈরি করেছিলেন পাবলিক পার্ক, আবাসন। বেসরকারি খাতের তীব্র বিরোধিতা কাটিয়ে লাগুয়ার্দিয়া ১৯৩০-এর দশকে সরকারি উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ বাজারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল রাস্তা থেকে ঠেলাগাড়ির হকারদের সরিয়ে আনা এবং মুদিপণ্যের খরচ কমানো। সেই বাজারগুলোর বেশ কয়েকটি আজও চালু রয়েছে।

আরও পড়ুন: সিরিয়ার বিজয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় হবে

মামদানী শহরের মালিকানাধীন খালি জায়গাগুলোকে সরকারি মুদিদোকানে রূপান্তর করতে চান। গত মাসে মামদানী বলেছিলেন, 'লাগুয়ার্দিয়া মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করার জন্য সরকারের দায়িত্বের একটি সহজ সংজ্ঞায় বিশ্বাস করতেন। আমরা সেই মৌলিক দায়িত্বটি পূরণের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছেছি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেমরায় আসামি ধরতে গিয়ে উদ্ধার হলো বোমা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৯ পি.এম


ডেমরায় আসামি ধরতে গিয়ে উদ্ধার হলো বোমা!

রাজধানীর ডেমরায় একটি বাড়ি থেকে দুটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ইতোমধ্যে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার তদন্ত করছিল পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে আসামি ধরতে ডেমরা থানাধীন পশ্চিম বক্সনগর নিঝুমবাগ এলাকার গরিবের নেওয়াজ মসজিদ রোড মোড়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানেই এই দুটি বোমাসদৃশ বস্তুর সন্ধান পাওয়া যায় এবং এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি বিশেষ দল। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অপর বোমাটি নিষ্ক্রিয়ের কাজ চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফল আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৯ পি.এম


ফল আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন বাধ্যতামূলক না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বরং, দেশের জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি চাহিদা এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকে নগদ মার্জিন ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে কিছু বিলাস পণ্য ও দেশীয় বিকল্প পণ্যের আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ফলও ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানিয়েছে, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও লেনদেনে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতার উন্নতি হওয়ায় ফল আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে।

শিশু, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীর খাদ্যতালিকায় ফল একটি অপরিহার্য পুষ্টিকর উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তাই আমদানি সহজীকরণ এবং সহনীয় মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, ২০২৪ সালের ৪১ নম্বর সার্কুলার এবং পরবর্তী নির্দেশনাগুলোর অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। নতুন নির্দেশনার আওতায় যে আইনটি কার্যকর হয়েছে, তা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, তালিকায় আরও ১৩ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


সৌদি আরবে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, তালিকায় আরও ১৩ হাজার

সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে আবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। রিয়াদ এ সময় প্রায় ১৩ হাজার জনকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে রোববার (১৬ আগস্ট) বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭,২১৬ জন আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩,৮৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন এবং ৩,৪৮৩ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ছাড়া, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১,৪৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩২ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, অবৈধভাবে সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়েছে আরও ১৯ জনকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া, নিয়োগ করা কিংবা তাদের অপরাধে সহায়তা করার অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে মোট ৩২,৪৭৯ জন প্রবাসীকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০,৫৪০ জন পুরুষ এবং ১,৯৩৯ জন নারী।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮,৮১৮ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৬,৩৫৫ জনকে দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে সৌদি থেকে ১২,৯৪৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করার জন্য, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়ার জন্য কিংবা এ ধরনের ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সহায়তা বা সেবার জন্য ১৫ বছরের পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না বললেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই দেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো জায়গা হবে না এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল আইনজীবী সমিতির ১০ তলা নতুন ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শত শত নবীন ও প্রবীণ আইনজীবী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিচার গোপনে নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের মতো উপযুক্ত আদালতে এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হবে, যা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’

তিনি এর আগে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের চিত্র তুলে ধরে জানান, ‘গত ১৭ বছরে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে এবং ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী এ সময় আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাসদের প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।’

এখন তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সব বাধার প্রাচীর ভেঙে নতুন প্রজন্ম আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। যে রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি, সেখানে ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকতে পারে না। প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে।’

সরকারের গত ৬ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। দেশে সংকট রয়েছে, তবে তা নিরসনে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

এ সময় তিনি সরকারপ্রধান তারেক রহমানের ওপর দেশবাসীকে আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণার সময় অনেকে গোপনে এর বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন করেছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। বিগত স্বৈরাচার সরকার দেশে চরম আইনের সংকট সৃষ্টি করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই আইনি সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান তারেক রহমান একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞকে বেছে নিয়েছেন।’

তথ্যমন্ত্রী ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধ বজায় রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের সর্বাত্মক সহায়তা কামনা করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন এমপি, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%