ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৌদি আরবে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, তালিকায় আরও ১৩ হাজার


সৌদি আরবে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, তালিকায় আরও ১৩ হাজার

সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে আবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। রিয়াদ এ সময় প্রায় ১৩ হাজার জনকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে রোববার (১৬ আগস্ট) বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭,২১৬ জন আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩,৮৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন এবং ৩,৪৮৩ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ছাড়া, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১,৪৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩২ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, অবৈধভাবে সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়েছে আরও ১৯ জনকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া, নিয়োগ করা কিংবা তাদের অপরাধে সহায়তা করার অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে মোট ৩২,৪৭৯ জন প্রবাসীকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০,৫৪০ জন পুরুষ এবং ১,৯৩৯ জন নারী।

আরও পড়ুন: ইরানে হামলার প্রস্তুতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮,৮১৮ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৬,৩৫৫ জনকে দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে সৌদি থেকে ১২,৯৪৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করার জন্য, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়ার জন্য কিংবা এ ধরনের ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সহায়তা বা সেবার জন্য ১৫ বছরের পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রক্তের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না বললেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই দেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো জায়গা হবে না এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল আইনজীবী সমিতির ১০ তলা নতুন ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শত শত নবীন ও প্রবীণ আইনজীবী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিচার গোপনে নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের মতো উপযুক্ত আদালতে এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হবে, যা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’

তিনি এর আগে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের চিত্র তুলে ধরে জানান, ‘গত ১৭ বছরে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে এবং ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী এ সময় আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাসদের প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।’

এখন তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সব বাধার প্রাচীর ভেঙে নতুন প্রজন্ম আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। যে রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি, সেখানে ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকতে পারে না। প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে।’

সরকারের গত ৬ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। দেশে সংকট রয়েছে, তবে তা নিরসনে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

এ সময় তিনি সরকারপ্রধান তারেক রহমানের ওপর দেশবাসীকে আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণার সময় অনেকে গোপনে এর বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন করেছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। বিগত স্বৈরাচার সরকার দেশে চরম আইনের সংকট সৃষ্টি করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই আইনি সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান তারেক রহমান একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞকে বেছে নিয়েছেন।’

তথ্যমন্ত্রী ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধ বজায় রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের সর্বাত্মক সহায়তা কামনা করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন এমপি, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিআর প্রকল্পে অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সরকার: এরশাদ উল্লাহ এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


টিআর প্রকল্পে অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সরকার: এরশাদ উল্লাহ এমপি

চট্টগ্রাম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, সরকারি টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্প গ্রামীণ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আজ (রোববার) বিকেলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের মোহরা ও চান্দগাঁও ওয়ার্ডে টিআর প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন অবকাঠামো পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ উল্লাহ বলেন, টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা, কালভার্ট, সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন ছোট ও মাঝারী আকারের জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হচ্ছে এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমদ, মো. আজম, মো. আশ্রাফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. ইয়াছিন প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ জেলা পুলিশ মিসিং ৮০ (আশি) টি, আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


নওগাঁ জেলা পুলিশ মিসিং ৮০ (আশি) টি, আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর

নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানে গত জুলাই মাসে ২৬ তারিখে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশেষ করে আইসিটি শাখা, ক্রাইম শাখা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে ৮০ টি মিসিং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এটি প্রকৃত মালিকদের নিকট আজ ১৬/০৮/২৬, সকালে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।

এ উপলক্ষে আজ সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়, নওগাঁয় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে অর্ধশত মহিলা, পুরুষ, বৃদ্ধ এবং ছাত্র উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার হারানো ৮০ টি মোবাইল ফোন যাচাই করে তাদের প্রকৃত মালিকের নিকট ফেরত দেন। অনুষ্ঠানে হারানো মোবাইলের মালিকদের মধ্যে অনেকেই পুনরায় তাদের ফোনটি হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। হারানো মোবাইলের মালিকগণ জেলা পুলিশের এই জনহিতকর কাজের জন্য পুলিশ সুপারসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

পরিশেষে পুলিশ সুপার বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস, বলা যায় মোবাইল মানুষের জীবনসঙ্গী। জেলা পুলিশের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিভিন্নভাবে মিসিং হয়ে যাওয়া মোবাইলগুলোকে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে পেরে জেলা পুলিশ অত্যন্ত আনন্দিত এবং সম্মানিত বোধ করছে। ভবিষ্যতে নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো মোবাইল উদ্ধারে তাদের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩১ দফা বাস্তবায়নেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


৩১ দফা বাস্তবায়নেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, "আমরা যেই ইশতেহার দিয়েছি সেটি যেন পরিপূর্ণভাবে পালন করতে পারি। ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা পাওয়া যাবে।"

আজ (রোববার) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, "কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে কারাগারে আটক ব্যক্তিদের কাছে তেমন কোনো তথ্য ছিল না। কিন্তু শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত সময়ের মধ্যে কারাগারে পৌঁছে যায়। তখন ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেল সুপার আমাকে অনুরোধ জানান। তখন বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। কারণ দীর্ঘ সময়ে জনগণ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার অভাব অনুভব করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।"

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "জনগণের সেসব প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা গেলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে।"

তিনি বলেন, "বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিতে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং অন্যটি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মূল লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।"

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই এর মূল উদ্দেশ্য। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।"

মন্ত্রী বলেন, "আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এর মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাতের মানুষের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইনিং সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।"

আমীর খসরু বলেন, "স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে পারলে দেশের মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়বে। শীতলপাটি, মৃৎশিল্পসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।"

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিল। ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট ছিল।"

‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, বরং মাইনাস থেকে শুরু করেছি’- বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, "আর্থিক সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।"

আমীর খসরু বলেন, "জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে।"

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%