ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নওগাঁ জেলা পুলিশ মিসিং ৮০ (আশি) টি, আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর


নওগাঁ জেলা পুলিশ মিসিং ৮০ (আশি) টি, আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর

নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানে গত জুলাই মাসে ২৬ তারিখে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশেষ করে আইসিটি শাখা, ক্রাইম শাখা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে ৮০ টি মিসিং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এটি প্রকৃত মালিকদের নিকট আজ ১৬/০৮/২৬, সকালে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।

এ উপলক্ষে আজ সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়, নওগাঁয় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে অর্ধশত মহিলা, পুরুষ, বৃদ্ধ এবং ছাত্র উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার হারানো ৮০ টি মোবাইল ফোন যাচাই করে তাদের প্রকৃত মালিকের নিকট ফেরত দেন। অনুষ্ঠানে হারানো মোবাইলের মালিকদের মধ্যে অনেকেই পুনরায় তাদের ফোনটি হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। হারানো মোবাইলের মালিকগণ জেলা পুলিশের এই জনহিতকর কাজের জন্য পুলিশ সুপারসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

পরিশেষে পুলিশ সুপার বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস, বলা যায় মোবাইল মানুষের জীবনসঙ্গী। জেলা পুলিশের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিভিন্নভাবে মিসিং হয়ে যাওয়া মোবাইলগুলোকে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে পেরে জেলা পুলিশ অত্যন্ত আনন্দিত এবং সম্মানিত বোধ করছে। ভবিষ্যতে নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো মোবাইল উদ্ধারে তাদের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করবে।

আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩১ দফা বাস্তবায়নেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


৩১ দফা বাস্তবায়নেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, "আমরা যেই ইশতেহার দিয়েছি সেটি যেন পরিপূর্ণভাবে পালন করতে পারি। ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা পাওয়া যাবে।"

আজ (রোববার) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, "কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে কারাগারে আটক ব্যক্তিদের কাছে তেমন কোনো তথ্য ছিল না। কিন্তু শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত সময়ের মধ্যে কারাগারে পৌঁছে যায়। তখন ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেল সুপার আমাকে অনুরোধ জানান। তখন বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। কারণ দীর্ঘ সময়ে জনগণ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার অভাব অনুভব করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।"

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "জনগণের সেসব প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা গেলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে।"

তিনি বলেন, "বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিতে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং অন্যটি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মূল লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।"

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই এর মূল উদ্দেশ্য। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।"

মন্ত্রী বলেন, "আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এর মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাতের মানুষের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইনিং সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।"

আমীর খসরু বলেন, "স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে পারলে দেশের মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়বে। শীতলপাটি, মৃৎশিল্পসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।"

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিল। ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট ছিল।"

‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, বরং মাইনাস থেকে শুরু করেছি’- বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, "আর্থিক সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।"

আমীর খসরু বলেন, "জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে।"

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মপাশায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) সজিব মিয়া

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


ধর্মপাশায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি

“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সড়ক র‌্যালি, উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে অংশ নেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব কারুজ্জামান কামরুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব জনি রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল মৎস্যজীবী দল এবং অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষ, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরে স্থানীয় জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এই সময় অংশগ্রহণকারীরা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সকলকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তায় মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মৎস্যচাষি এবং মৎস্যজীবীরা সকলে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সারাদেশে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় র‌্যালি, আলোচনা সভা, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্য মেলা, পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না: জামায়াতের সেক্রেটারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না: জামায়াতের সেক্রেটারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না।" তিনি আরও বলেন, "কারণ, জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত কার্যকর সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার যোগ করেন, "কার্যকর ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নিলে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সহযোগিতা করবে।" ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর কাছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন বলে তিনি জানান।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছিলেন এবং ৭ জুন সেই প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালু, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ এবং রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি প্রশ্ন করেন, "যখন পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে, তাহলে গত প্রায় তিন মাসে সেই পরিকল্পনার কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে?"

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের বিরোধিতা করছে না। তবে শুধুমাত্র নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করলেই জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না বলেও তিনি জানান। এলএনজি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা, গ্যাস পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত পাইপলাইন এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারি ভর্তুকির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ছয়টি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ব্যবহার, সিস্টেম লস ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ দ্রুত কার্যকর করা।

তিনি বলেন, "তিন মাসে সমুদ্রের নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের ফল বা বড় পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে দ্রুত ফলদায়ক কূপে কাজ শুরুসহ কিছু পদক্ষেপ ৯০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান করা সম্ভব।"

অ্যাওনে জাতীয় জরুরি জ্বালানি সেল গঠন, জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একক তদারকির প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা উচিত।" ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ারও প্রস্তাব বিদ্যমান। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড় বড় কথা বলছেন যারা, গত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখিনি: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


বড় বড় কথা বলছেন যারা, গত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখিনি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, 'গত ১৭ বছর ধরে যারা রাজপথে ছিলেন না, তারাই এখন বড় বড় কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।' প্রধানমন্ত্রী দেশের অব্যবহৃত জলাশয়গুলো সংস্কার করে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ দেয়ার কথাও জানিয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব বলেন।

তিনি বলেন, 'গত ১৭ বছর আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল মাঠে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু আজকে যারা বড় বড় কথা বলছেন, যারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের আমরা বিগত ১৭ বছরে রাজপথে দেখিনি।'

বিরোধীদের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি জানান, 'ভবিষ্যতে তারা কী করবে, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। আমরা দেখেছি একাত্তরে তাদের ভূমিকা। আমরা দেখেছি ১৯৮৬, ১৯৯৬ সালে তাদের ভূমিকা। বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। দেখেছেন আপনারা?'

সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এখন তারা সংস্কার, সংস্কার বলে কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালেই সংস্কারের কথা বলেছে। তখন সংস্কার নিয়ে আপনারা কোথায় ছিলেন? এ দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাবনা বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।'

দেশকে স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'এখন সময় এসেছে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি অতীতের মতো বিভ্রান্ত করতে আসে, তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, আমরা জানি তোমরা অতীতে কী করেছ। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেব না।'

এর আগে দুপুর ২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে 'জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬'-এর উদ্বোধন ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, 'চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য বিদেশে রফতানি করে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মাছ ও মৎস্য জাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।'

এশিয়ার দেশগুলো ক্রমান্বয়ে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, 'এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও অত্যন্ত উজ্জ্বল। মৎস্য খাতে যারা উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি এবং বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত, তারা সবাই এই অর্জনের দাবিদার। যারা আজ পুরস্কৃত হয়েছেন, তাদেরসহ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।'

মাছ চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, 'নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, বিল, হাওর-বাঁওড়সহ বিভিন্ন জলাশয় কাজে লাগিয়ে এবং অল্প জমি ব্যবহার করে মাছ চাষের মাধ্যমে মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। যে এলাকার জলাশয়গুলো সংস্কার করা হবে, ওই এলাকার তরুণদের মধ্যে সেগুলো সুন্দরভাবে বণ্টন করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।'

অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) তুলে দেন তিনি। এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তিনি শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে রাত ৮টায় তিনি কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

এসব অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%