বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৪০ এম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মো. রাশেদ (৩০) নামে এক যুবককে ১৬টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদসংলগ্ন এলাকা থেকে অস্ত্রসহ ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ১৬টি অস্ত্রের মধ্যে ১০টি বড় আকৃতির রাম দা এবং ৬টি অত্যাধুনিক চাইনিজ চাপাতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গ্রেফতার রাশেদ দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদ পেয়ে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার রাশেদ একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে যাচাই করে একাধিক ছিনতাই মামলা প্রাপ্ত হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত আছে এবং রাসেলের সহযোগীদের চিহ্নিত করতে জেলা পুলিশ একাধিক দল তদন্ত করতেছে।
গ্রেফতার ছিনতাইকারী রাশেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল মানেই বাড়তি উত্তেজনা ও স্নায়ুর লড়াই। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেই রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালটি রূপ নিয়েছিল রীতিমত এক রণক্ষেত্রে।
বিশেষত, প্রথমার্ধে মাঠের ফুটবল তার চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ। পুরোটা সময় মাঠের রেফারি ইসমাইল আলফাতের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলেছে। এর ফলে ইংলিশ শিবিরকে বারবার ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা গেছে।
ম্যাচের শুরুতেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। এর ফলে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ১০ মিনিটে তাদের ফাউল করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি নিজেদের করে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রথমার্ধের জুড়ে ইংলিশ ফুটবলারদের ওপর একের পর এক কড়া ট্যাকল চালাতে থাকেন লিসান্দ্রো ও এনজোরা। আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে মোট ১২টি ফাউল করলেও রেফারির পকেট থেকে কার্ড বের হয়েছে মাত্র একবার! আফসোস, আর্জেন্টিনার এ ধরনের পার পেয়ে যাওয়াটা থ্রি লায়নসদের কিছুতেই মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের বয়স ছিল মাত্র তিন মিনিট। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন আলবিসেলেস্তের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানালে তেড়ে আসেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। অ্যান্ডারসনকে কড়া ট্যাকল করার পর দেখা যায়, এনজো অ্যান্ডারসনের মাথার পেছনে ধাক্কা দেন। এটি পরিষ্কার কার্ড দেখার মতো অপরাধ হলেও রেফারি ইসমাইল আলফাত সেখানে কার্ড দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। রেফারির এমন নির্লিপ্ততায় তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হ্যারি কেইন ও তার দল।
উত্তেজনা এখানেই শেষ হয়নি। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে ইংলিশ লেফট-ব্যাক জেদ স্পেন্সকে ফাউল করেন হুলিয়ান আলভারেসের বদলি হিসেবে মাঠে আসা জিউলিয়ানো সিমিওনে।
এছাড়াও, অন্যান্য একটি ঘটনায় সিমিওনের কনুই স্পেন্সের মুখে আঘাত করলেও তা রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। রেফারি যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন ইংলিশদের অন্যতম সেরা তারকা জুড বেলিংহামের ওপর ফাউলগুলোর ক্ষেত্রেও। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে, বেলিংহামকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা। যদিও ইংল্যান্ড ফ্রি-কিক পেলেও মোলিনাকে কোনো শাস্তি দেননি রেফারি। এমনকি বল পজিশনে না থাকা অবস্থায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস যখন বেলিংহামকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন, সেটিও রেফারির নজর এড়িয়ে যায় অলক্ষ্যেই।
প্রথমার্ধে ১২টি ফাউল করার পর, অবশেষে প্রথমার্ধের শেষের দিকে কার্ডের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের একটি কাউন্টার অ্যাটাক শার্ট টেনে ধরে রুখে দেওয়ায় হলুদ কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। অথচ ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনজো ফার্নান্দেজ, যিনি তিনটি ফাউল করলেও এবং হাতাহাতিতে জড়িয়েও কোনো কার্ড ছাড়াই পার পেয়ে যান।
তবে মাঠের সব বিতর্ক ও নাটকীয়তাকে একপাশে সরিয়ে রেখে, দিনশেষে নায়ক হলেন এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ শেষের মাত্র ৪ মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে, ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো একটি দূরপাল্লার শটে গোল করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য কামব্যাকের রূপকার হয়ে ওঠেন এই মিডফিল্ডার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা দেখার সময় জনসমাগমের মধ্যেই একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে দুর্বৃত্তরা এক তরুণকে ছুরিকাঘাত করে।
বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাঁচলাইশ থানার দুই নম্বর গেট এলাকায় এ অবিস্মরণীয় ঘটনাটি সংগঠিত হয়।
আহত মো. আসাদুল হক (২১) উপজেলার বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার শিকদার বাড়ির ইয়াছিন আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরীর হামজারবাগ এলাকার সরওয়ারের বাড়িতে বসবাস করছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা চলাকালীন জনসমাগমের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন দুর্বৃত্ত আসাদুল হককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এর পর সীমিত সময়ের মধ্যে তার বন্ধু যিনি ছিলেন তার সঙ্গে, সেই বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে রাত ২টা ২৯ মিনিটে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
তিনি এটি জানাতে আরও বলেছেন, আহত আসাদুল হক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় আছে। কিন্তু দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতের কারণ সম্পর্কে তিনি এবং তার বন্ধুরা এখনো কিছুই জানেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনির একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও তারকা ফুটবলার হ্যারি কেনকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া তার একটি পোস্ট ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।
সম্প্রতি, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ইংল্যান্ড বিদায় নিয়েছে। ম্যাচ শেষে পরীমনি তাড়াতাড়ি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, "Harry Kane পারলে না তুমি আমার বিয়েটা ঠেকাতে!"

এই পোস্টের পেছনে আগের একটি ঘোষণার সূত্র রয়েছে। কারণ, এর আগে পরীমনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন যে, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে তিনি আবার বিয়ে করবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায়, ইংল্যান্ডের পরাজয়ের পর হ্যারি কেনকে উদ্দেশ্য করে রসিকতার ছলে তিনি এই পোস্টটি দেন।
পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, পোস্টটিতে ১ লক্ষের বেশি রিয়্যাকশন এবং প্রায় দেড় হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে। অনেকেই পোস্টটিকে নিছক হাস্যরস হিসেবে দেখেছেন, আবার অনেকে পরীমনির ব্যক্তিগত জীবন ও সম্ভাব্য নতুন বিয়ে নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু করেছেন।
কমেন্ট সেকশনে নেটিজেনদের মধ্যে কেউ মজার মন্তব্য করেছেন, কেউ আবার হ্যারি কেনের সাথে পরীমনির এমন পোস্টের কারণ জানতে চেয়েছেন। এদিকে, অনেকের ধারণা, পরীমনি হয়তো আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
পরীমনির এই ব্যতিক্রমী পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি যুবক মেশিনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. নাদিম হোসেন (২৭), তিনি কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন নাদিম। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় তিনি কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।
স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করার জন্য নাদিম মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন বাইরে থাকা কয়েকজন সহকর্মী মেশিনটি চালু করলে তিনি মেশিনের ভেতরে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের পরিবার অনুযায়ী, এই ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এদিকে, নাদিমের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর যদুপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের বাবা সামাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, 'আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার সন্দেহ। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই। আমি একইসাথে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য।'
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, 'ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। প্রবাসে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হলে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ