মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৮:৩০ পি.এম
মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, শাসনের অধিকার এবং শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি।
তাঁর বক্তব্যের মূল কথা—শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীকে শাসন করার অধিকার রাখেন, তাহলে কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করলে তার বিরুদ্ধেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীকে শাসন করার অধিকার যদি শিক্ষক রাখেন, শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রপোজ করলে সেই শিক্ষকের গালে থাপ্পড় দেওয়ার অধিকারও শিক্ষার্থীর বাবা রাখেন।”
তাহেরির এই বক্তব্যে শিক্ষকের দায়িত্বশীল আচরণ এবং শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থা, সম্মান ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে, ইসরায়েলি রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের ইতিহাসের দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রেক্ষিতে, তার দীর্ঘ শাসনকাল এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। সমর্থকরা তাকে ভালোবেসে ‘কিং বিবি’ বললেও, বিরোধীদের কাছে তিনি দুর্নীতি ও নিরাপত্তার ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্ষমতার পালাবদলে ইসরায়েলের রাজনীতি, বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা কাঠামো এবং সামাজিক মতাদর্শে যে পরিবর্তন এসেছে, তা দেশটিকে স্থায়ীভাবে ডানপন্থি ও উগ্র জাতীয়তাবাদী ধারার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার সাথে শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে তার উত্থান ঘটে। পরবর্তীতে, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন হত্যাকাণ্ডের পেছনে নেতানিয়াহুর উসকানিমূলক রাজনৈতিক প্রচারণার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন তার বিরোধীরা।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে, নেতানিয়াহু উগ্র ডানপন্থি এবং ধর্মীয় দলগুলোকে সাথে নিয়ে সরকার গঠন করেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে, দেশটিতে ধর্মীয় আদালতগুলোর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অতি-রক্ষণশীল স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় অংকের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বিশেষ করে, ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক আদর্শ ও কট্টর জাতীয়তাবাদী এজেন্ডার ভিত্তিতে পাস হওয়া বহুল আলোচিত ‘নেশন-স্টেট বেসিক ল’ (Nation-State Basic Law) ইসরায়েলি রাজনীতিতে একটি বড় মোড় পরিবর্তন করে। এই আইনে ইসরায়েলকে কেবল ইহুদি জনগণের এক্সক্লুসিভ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আচরণের অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে গণ্য করে।
রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে, বিচারব্যবস্থায়ও বড় ধরনের রদবদল এনেছেন নেতানিয়াহু। নিজ দেশের দুর্নীতির তিনটি আলাদা মামলায় কারাদণ্ড এড়াতে তিনি বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্যোগ নেন। তার এই তথাকথিত ‘জুডিশিয়াল রিফর্ম’ বা বিচার বিভাগীয় সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা কমিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা, যার বিরুদ্ধে ইসরায়েলজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা কাঠামোতেও নিজের অনুগত ও রাজনৈতিক মিত্রদের শীর্ষ পদে বসিয়েছেন তিনি। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে থাকা সত্ত্বেও, নেতানিয়াহু দাবি করে চলেছেন যে, তার কাজের এখনো সমাপ্তি ঘটেনি।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, ইসরায়েলি সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদল মানুষ তাকে ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষাকারী অবিসংবাদিত নেতা মনে করেন, অপর পক্ষ মনে করে তার দীর্ঘ শাসন ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি একঘরে এবং অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েতে অনুষ্ঠিত হলো ৭৮তম ইঞ্জিনিয়ার্স ডে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে কুয়েত সিটি টাওয়ার হোটেলে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ’র (আইইবি) কুয়েত ওভারসিজ চ্যাপ্টারের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের পেশাগত উৎকর্ষ, দক্ষতা ও অবদান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
বাংলাদেশের প্রকৌশল পেশাজীবীদের জাতীয় সংগঠন হলো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের পর এবং পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরপরই কিছু উর্ধ্বতন প্রকৌশলী একটি পেশাদার ফোরাম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এর ফলে ১৯৪৮ সালের ৭ মে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সদর দফতর ছিল ঢাকায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, পাকিস্তান-এর নাম পরিবর্তন করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) করা হয়।
প্রতিবছর ৭ মে বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি থাকে। এবছর ৭৮তম ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উদযাপনের ধারাবাহিকতায় কুয়েতেও দিবসটি উদযাপিত হলো।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইইবি কুয়েত চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. শাহেদ ফারুক সিংহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রকিবুল করিম চৌধুরী, বিএমসি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল আজিম, প্রকৌশলী এমআই আলম, প্রকৌশলী আতিকুর রহমান, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি মুখাই আলী লুৎফর রহমান, আইপিসির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন খান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কুয়েত কান্ট্রি ম্যানেজার একেএম ফারহাদ, স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার সুমন, বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আইইবি কুয়েত চ্যাপ্টারের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী আবদুল কুদ্দুস মল্লিক। এরপর বিমান উড্ডয়ন, এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ব্যবহারিক দিক নিয়ে চিত্রের মাধ্যমে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আইইবি কুয়েত চ্যাপ্টারের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. শাহেদ ফারুক সিংহ এবং সম্মানীয় সচিব প্রকৌশলী হুমায়ুন সুলাইমান কবির। কাউন্সিল সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী, প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, প্রকৌশলী মো. আবদুল হালিম ও প্রকৌশলী ইউসুফ।
অনুষ্ঠানে কুয়েতের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের অবদান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা এ সময় কুয়েতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রকৌশলী ও কারিগরিভাবে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে এক আনন্দঘন ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী আশরাফ, প্রকৌশলী আবদুস সালাম, দসিনা লাবণি ও ডা. নাজমা তালুকদার। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রবাসে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সকালে ঘুম ভাঙার সাথে সাথে ব্যস্ত সড়কের দুই পাশে বাজার বসে। দুই শতাধিক ব্যবসায়ী মাছ, সবজি, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হন। ক্রেতাদের ভিড় এবং যানবাহনের চাপের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে, যা যানজট সৃষ্টি করে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ায়। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাড়ে প্রতিদিনের এই দৃশ্য যেন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দখলমুক্ত করার মাধ্যমে জনভোগান্তি কমানোর জন্য স্থানীয়রা স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়কের পৌরসভার পশ্চিমপাড় এলাকায় জমজমাট বাজার বসেছে। মাছ, সবজি, হাঁস-মুরগি এবং মুদি পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জটলা। পথচারীদেরও বাজারের ভেতর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পর শুরু হওয়া এই বাজার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন মাছ, সবজি এবং অন্যান্য পণ্য নিয়ে এখানে আসেন। সকালে ক্রেতারা টাটকা পণ্য কিনতে ভিড় করেন। বিক্রেতাদের দাবি, প্রতিদিন এই বাজারে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়। তবে বেচাকেনার এই কর্মচাঞ্চল্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট এবং মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
কর্মজীবী তামান্না খানম বলেন, “সকালে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। বাজারের কারণে যানবাহন ও মানুষের ভিড় একসঙ্গে হয়ে যায়। বাজারের জন্য সড়ক ছেড়ে কাছাকাছি কোথাও আলাদা জায়গা করা জরুরি।”
ক্রেতা সজীব জয়ধর বলেন, “এখানে সকালে প্রয়োজনীয় সব ধরনের টাটকা পণ্য পাওয়া যায়। তবে রাস্তার ওপর বাজার বসায় চলাচলে সমস্যা হয়। নির্দিষ্ট জায়গায় বাজার বসালে ক্রেতাদের সুবিধা হবে, মানুষের ভোগান্তিও কমবে।”
মাছ বিক্রেতা সমরেশ মণ্ডল বলেন, “এখানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। কাছাকাছি সুবিধাজনক ও নিরাপদ জায়গা করে দিলে সেখানে বাজার স্থানান্তরে আমাদের আপত্তি নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনের এই ভোগান্তি সত্ত্বেও সড়কের ওপর বাজার বসা বন্ধে এখনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সকালে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের যানজট ঠেলে চলাচল করতে হচ্ছে। একদিকে ব্যবসায়ীদের জীবিকা, অন্যদিকে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল—এই দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিকল্প স্থানে বাজার স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, “সড়কের ওপর বাজার বসায় সড়কটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাজারটি বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : শনিবার সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রাণঘাতী বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। এ তথ্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির সঙ্গে সম্পর্কিত গণমাধ্যম দ্বারা জানানো হয়েছে। একই সময়ে, মোচা শহরে প্রায় ২০টি হামলার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
সানা থেকে এএফপি জানায়, হুতিদের আল-মাসিরা টেলিভিশন সানায় একাধিক ‘সৌদি শত্রুপক্ষের বিমান হামলার’ ঘটনা তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি বাড়িতে হামলার ফলে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া, সানা প্রদেশের একটি সিমেন্ট কারখানায় পৃথক হামলায় ‘বেশ কয়েকজন শহীদ ও আহত’ হওয়ার খবরও প্রচারিত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে, জোটটি জানায় যে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের তাইফ ও ইয়ানবুর দিকে হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
রিয়াদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা পূর্বে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের চারটি এলাকায় ‘সম্ভাব্য বিপদের’ সতর্কতা জারি করেছে। এসব এলাকার মধ্যে ছিল তাইফ, ইয়ানবু, ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কা এবং জেদ্দা।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের সংঘাতে প্রথম সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে দেশটি ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসলেও, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের প্রভাবে গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত আবারও শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ