সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০৩ পি.এম
ঝালকাঠি, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ ৬ লাখ ৪৩ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করেছে।
এই অভিযানের সময় ১২০ কেজি ইলিশ মাছও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ৩ হাজার ৫শ’ টাকা।
জেলার চার উপজেলায় ৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে ৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে গত ১৮ দিনে জেলার চার উপজেলায় ২শ’ ৮০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া দুটি অবতরণকেন্দ্র, ৪৯ বার মাছঘাট, ৪শ’ ১৩ বার আড়ত ও ২শ’ ৪ বার বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, কাঁঠালিয়ায় ৬৬টি, ঝালকাঠি সদরে ৬৯টি, নলছিটিতে ৭৫টি এবং রাজাপুরে ৭০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে কাঁঠালিয়ায় ৮২ কেজি, ঝালকাঠি সদরে ১৮ কেজি, নলছিটিতে ১২ কেজি এবং রাজাপুরে ৮ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত জালের মধ্যে কাঁঠালিয়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ২শ’ মিটার, ঝালকাঠি সদরে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫শ’ মিটার, নলছিটিতে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮শ’ মিটার এবং রাজাপুরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫শ’ মিটার রয়েছে। এসব জালের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ৩৪ লাখ ১৬ হাজার, ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৫শ’, ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ও ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি সদরে তিনটি, নলছিটিতে দুটি এবং রাজাপুরে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে নলছিটি ও রাজাপুরে দু’জন করে মোট চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বাসসকে জানান, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন সুরক্ষায় তিনি জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীসহ দেশের নির্ধারিত নদ-নদী ও জলসীমায় কার্যকর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিল্লির সংসদ ভবনের নর্থ ব্লক সংলগ্ন চত্বরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রশাসনিক ভবনটি, যা ব্রিটিশ আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় ধারণ করে। ভবনটি থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
কালো ধোঁয়ার খবর পাওয়ার পর, ঘটনাস্থলে দমকলের অন্তত ছয়টি ইউনিট পৌঁছায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ভবনের ছাদে সংস্কারকাজ চলছিল।
ছাদে অবস্থিত একটি পুরোনো প্লাস্টিকের পানির ট্যাঙ্কে আগুন লেগে গিয়েছিল, তবে শ্রমিকরা তা নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হিমাগারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর দাম ১১ টাকা। কিন্তু ঘাটতি ও সংরক্ষণ খরচ ৯ টাকারও বেশি পড়ছে। কিছু কৃষক আলু বিক্রি করে কিছু টাকা ফেরত পেতে আগ্রহী হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রামে আলুর এই নিম্নমুখী দামও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লোকসানের ভয়ে জেলার পাইকাররা হিমাগারের চৌহদ্দি এড়িয়ে চলছেন।
এদিকে, যেসব কৃষক হিমাগার থেকে ঋণ ও খালি বস্তা নিয়েছেন, তাদের ভাড়াসহ দায় মেটাতে গেলে উল্টো ঘর থেকে টাকা এনে দিতে হয় হিমাগারে। ফলে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা হিমাগারমুখী হচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে জেলার ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলু চাষি ও হিমাগার সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় হিমাগারে সংরক্ষণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। খালি বস্তার সংকট ও উচ্চ মূল্য ছাড়াও হিমাগার ভাড়া বাড়ানোর ফলে সংরক্ষণ খরচ বেড়ে গেছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় গুঁড়েবালি দেখা দেয় শুরু থেকেই। প্রতি কেজি আলু হিমাগারে ১৪ টাকা থেকে ১৭ টাকায় বেচাকেনা হয়ে থাকে। যদিও উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ ২০ টাকারও বেশি।
বেশির ভাগ কৃষক ও ব্যবসায়ী দাম বাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু দাম কমতে কমতে কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১২ টাকায় নেমে এসেছে, ফলে বিক্রি কমছে। তাদের স্থানীয় ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবুও হিমাগারে আলু আটকে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, তার নিজের মাত্র ২০ শতক জমি রয়েছে। একরপ্রতি ৩২ হাজার টাকায় পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে আলুর চাষ করেছিলেন। খরচ পড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা। উৎপাদিত এক হাজার ৫০ বস্তার (৬৫ কেজি) পুরোটাই হিমাগারে সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮০ বস্তা আলু বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা পান। তখন কেজিপ্রতি আলুর দর ছিল ১৬ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ১১ টাকায়ও ক্রেতা মিলছে না।
আসাদুজ্জামান জানান, গত বছর আলুতে লোকসানের পর গরু ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি ছাড়াও ঋণ করে আলুর চাষ করেছিলেন, কিন্তু দাম বিপর্যয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার জোগাড় হয়েছে। এ অবস্থায় দিনমজুরি করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না তিনি।
একই অবস্থা ভানুরভিটা গ্রামের কৃষক মাসুদ রানার। তিন একর জমিতে ছয় লাখ টাকা খরচ করে পেয়েছেন মাত্র দুই লাখ টাকা। এবার আর আলু চাষ করার মতো পুঁজি নেই তার।
আলু ব্যবসায়ী মজনু মিয়া জানান, আলুর দাম দিন দিন কমছে। ফলে আলু কিনলেই অনিবার্য লোকসান। তাই তিনি হাত গুঁটিয়ে বসে রয়েছেন। ঢাকা ও অন্যান্য স্থান থেকেও আলু কেনার চাহিদা আসছে না।
বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, এবছর হিমাগারটিতে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় হাজার মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। বাকি রয়েছে আরো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি আলু আগামী দুই মাসে কোনোভাবেই বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি।
ব্যবস্থাপক শরিফের ভাষ্য, ক্রেতা সংকট তো আছেই, তার ওপর আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ী ও কৃষকরা দেনা পরিশোধের ভয়ে আলু বিক্রি করতে আসছেন না। তারা হিমাগার থেকে প্রতিবস্তা আলুর বিপরীতে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা ঋণ নিয়েছেন। অগ্রিম খালিবস্তা ও বহন খরচও নিয়েছেন। ফলে আলু বিক্রি করতে এলে উল্টো দেনা পরিশোধ করার ভয় রয়েছে।
শুধু বাবর কোল্ড স্টোরেজ নয়, জেলার আরো পাঁচটি হিমাগারে কমবেশি একই অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও ৪০ ভাগ শতাংশ, কোথাও ৫০ শতাংশ আলু এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। মৌসুমের শেষে এসব হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রিমা মনি শীল জানান, আলুর দাম দিন দিন কমছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে ছয় সপ্তাহব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণে মনাকষা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৩৫ জন তরুণ অংশ নিচ্ছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণটি চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা অর্জন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী তরুণেরা মোবাইল ফোন মেরামতের কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করছে বিজিবি। এতে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে সুন্দর ও নিরাপদ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাংগা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ৩৫ জন যুবককে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ প্রদান করে ৫৩ বিজিবি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ৫৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনিসুর রহমান, মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মনাকষা বিওপি কমান্ডারসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য। বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অপরাধ প্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার মতিঝিল বিভাগের বিভিন্ন থানার অপরাধ প্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মতিঝিল থানায় ৪ জন, পল্টন থানায় ২৮ জন, সবুজবাগ থানায় ৪ জন, খিলগাঁও থানায় ১৩ জন, রামপুরা থানায় ৪ জন, শাহজাহানপুর থানায় ১৯ জন এবং মুগদা থানায় ১২ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ