প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল মানেই বাড়তি উত্তেজনা ও স্নায়ুর লড়াই। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেই রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালটি রূপ নিয়েছিল রীতিমত এক রণক্ষেত্রে।
বিশেষত, প্রথমার্ধে মাঠের ফুটবল তার চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ। পুরোটা সময় মাঠের রেফারি ইসমাইল আলফাতের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলেছে। এর ফলে ইংলিশ শিবিরকে বারবার ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা গেছে।
ম্যাচের শুরুতেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। এর ফলে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ১০ মিনিটে তাদের ফাউল করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি নিজেদের করে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রথমার্ধের জুড়ে ইংলিশ ফুটবলারদের ওপর একের পর এক কড়া ট্যাকল চালাতে থাকেন লিসান্দ্রো ও এনজোরা। আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে মোট ১২টি ফাউল করলেও রেফারির পকেট থেকে কার্ড বের হয়েছে মাত্র একবার! আফসোস, আর্জেন্টিনার এ ধরনের পার পেয়ে যাওয়াটা থ্রি লায়নসদের কিছুতেই মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের বয়স ছিল মাত্র তিন মিনিট। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন আলবিসেলেস্তের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানালে তেড়ে আসেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। অ্যান্ডারসনকে কড়া ট্যাকল করার পর দেখা যায়, এনজো অ্যান্ডারসনের মাথার পেছনে ধাক্কা দেন। এটি পরিষ্কার কার্ড দেখার মতো অপরাধ হলেও রেফারি ইসমাইল আলফাত সেখানে কার্ড দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। রেফারির এমন নির্লিপ্ততায় তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হ্যারি কেইন ও তার দল।
উত্তেজনা এখানেই শেষ হয়নি। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে ইংলিশ লেফট-ব্যাক জেদ স্পেন্সকে ফাউল করেন হুলিয়ান আলভারেসের বদলি হিসেবে মাঠে আসা জিউলিয়ানো সিমিওনে।
এছাড়াও, অন্যান্য একটি ঘটনায় সিমিওনের কনুই স্পেন্সের মুখে আঘাত করলেও তা রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। রেফারি যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন ইংলিশদের অন্যতম সেরা তারকা জুড বেলিংহামের ওপর ফাউলগুলোর ক্ষেত্রেও। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে, বেলিংহামকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা। যদিও ইংল্যান্ড ফ্রি-কিক পেলেও মোলিনাকে কোনো শাস্তি দেননি রেফারি। এমনকি বল পজিশনে না থাকা অবস্থায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস যখন বেলিংহামকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন, সেটিও রেফারির নজর এড়িয়ে যায় অলক্ষ্যেই।
প্রথমার্ধে ১২টি ফাউল করার পর, অবশেষে প্রথমার্ধের শেষের দিকে কার্ডের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের একটি কাউন্টার অ্যাটাক শার্ট টেনে ধরে রুখে দেওয়ায় হলুদ কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। অথচ ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনজো ফার্নান্দেজ, যিনি তিনটি ফাউল করলেও এবং হাতাহাতিতে জড়িয়েও কোনো কার্ড ছাড়াই পার পেয়ে যান।
তবে মাঠের সব বিতর্ক ও নাটকীয়তাকে একপাশে সরিয়ে রেখে, দিনশেষে নায়ক হলেন এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ শেষের মাত্র ৪ মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে, ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো একটি দূরপাল্লার শটে গোল করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য কামব্যাকের রূপকার হয়ে ওঠেন এই মিডফিল্ডার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন