০৩:০১ পি.এম
পিকআপের স্বাভাবিক কাঠামোর আড়ালে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ গোপন চেম্বার। রাতের আঁধারে সেই পিকআপের কাছেই অবস্থান করছিলেন তিন ব্যক্তি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে তিনজনই পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় অভিযানকারী দল। পরে পিকআপের গোপন চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে ৩০টি পলিথিনের পোটলা—যাতে ছিল মোট ৯০ কেজি গাঁজা।
বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বিসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর বরফকলের সামনে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ অভিযান চালানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএনসির দাবি, অভিযানের সময় নীল-হলুদ রঙের একটি পিকআপ ভ্যানের কাছে থাকা তিন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। অভিযানকারী দল পিছু ধাওয়া করে মোঃ রাহুল হাওলাদার (২২) নামের একজনকে আটক করে। অপর দুজন পালিয়ে যান।
পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আইনানুগভাবে রাহুলের দেহ ও পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করা হয়। এ সময় পিকআপের পেছনের ঢালাই অংশে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান মেলে। সেখান থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ৩০টি পলিথিনের পোটলা উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি পোটলায় ৩ কেজি করে মোট ৯০ কেজি গাঁজা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটির পাশাপাশি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনপত্রের একটি কপিও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার রাহুল হাওলাদার (২২) বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন বিসিসির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপট্টি এলাকার হুমায়ুন হাওলাদার ও শিমু বেগমের ছেলে।
ডিএনসির বিজ্ঞপ্তিতে পলাতক হিসেবে মোঃ সিরাজ মিয়া (৩৭) ও মোঃ পলাশ হাওলাদারের (৪২) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সিরাজ মিয়ার বর্তমান ঠিকানা কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন দুর্গাপুর এবং স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে পলাশ হাওলাদারের ঠিকানা বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন বিসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর লিপির গলি এলাকায়।
ডিএনসির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, কুমিল্লা থেকে বিশেষ কৌশলে গাঁজার চালানটি বরিশালে আনা হয়েছিল। গ্রেপ্তার ও পলাতক ব্যক্তিরা মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে তারা কোনো মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য কি না, চালানটির প্রকৃত উৎস কোথায়, বরিশালে এর গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ডিএনসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে জব্দ করা হয়েছে—
১. ৩০টি পোটলায় থাকা মোট ৯০ কেজি গাঁজা।
২. নীল-হলুদ রঙের TATA 2011 সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ ভ্যান।
৩. পিকআপটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর—ঢাকা মেট্রো-ন-১৬-১০১৮।
৪. চ্যাসিস নম্বর—MAT44501BZR41834।
৫. ইঞ্জিন নম্বর—275IDI05EYYS87302।
৬. ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনপত্রের একটি কপি।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশাল।
তথ্যসূত্র: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধি
আরও পড়ুন: টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন