ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সিলেটে অক্টোবরের ডেঙ্গুতে শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন


সিলেটে অক্টোবরের ডেঙ্গুতে শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন

সিলেটে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। বছরের প্রথম ৯ মাসে বিভাগে যত রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন, অক্টোবরের এক মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন তার চেয়েও বেশি। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৪১০ জন। অথচ অক্টোবরের ৩১ দিনেই নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন। অর্থাৎ চলতি বছরের মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও  বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন শুধু অক্টোবর মাসে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অক্টোবরে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ মাসে বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৭ জনে, মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৭ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছিলেন ১০৫ জন। আগস্টে নতুন করে আক্রান্ত হন ৮৫ জন। সেপ্টেম্বরে শনাক্ত হন ২২০ জন। এতে সেপ্টেম্বর শেষে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১০ জনে। কিন্তু অক্টোবরেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন। অর্থাৎ আগের নয় মাসের সম্মিলিত আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে অক্টোবরের সংক্রমণ।
সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনেই বিভাগে ১৪৪ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। তখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩৪। ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩০ জন। এক মাসের ব্যবধানে সংক্রমণের চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। অক্টোবরের ৩১ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও নতুন করে ২১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৫৭ জন।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে সিলেট বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে হবিগঞ্জ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬২ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেটে আক্রান্ত ২০৫ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় ২০১ জন এবং মৌলভীবাজারে ৭৮ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরও ৩১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, মোট আক্রান্তের প্রায় ৪১ শতাংশই হবিগঞ্জের বাসিন্দা। সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলাতেও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায়  ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু নগরকেন্দ্রিক নেই; ছড়িয়ে পড়েছে বিভাগের বিভিন্ন এলাকায়।
ওসমানীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭ রোগী : স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২১ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন রয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৭ জনের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ এবং মৌলভীবাজার  জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আরও পড়ুন

পরবর্তী খবর

মঙ্গলবার সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


মঙ্গলবার সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন।

এর আগে, রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ এই প্রতিপাদ্যে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দর্শনার্থীদের জন্য এক্সপোটি উন্মুক্ত থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক্সপোর উদ্বোধন করবেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করবেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ সোলার এক্সপোর আয়োজন করেছে।

মন্ত্রী জানান, এক্সপো চলাকালে সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন দিক, দেশব্যাপী এর সম্প্রসারণ, জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়ানো এবং ছাদসহ অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপনে জনগণকে উৎসাহিত করার বিষয়ে চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো এবং গ্রীষ্মকালে জনদুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিত করা এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে অর্থায়নের সুযোগ তুলে ধরা হবে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ভোক্তারা অংশ নেবেন।

প্রদর্শনীতে সরকারি প্রণোদনা, আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের সাবেক সেনা কমান্ডারের সতর্কবার্তা: অনিবার্য পতনের মুখে দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


ইসরাইলের সাবেক সেনা কমান্ডারের সতর্কবার্তা: অনিবার্য পতনের মুখে দেশ

ইসরাইলের সাবেক মেজর জেনারেল ইতজাক ব্রিক একটি সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘অনিবার্য পতনের’ শিকার হতে যাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বৈধতা ও মিত্রদের সমর্থন হারানোর কারণে দেশটি ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ব্রিক সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘকাল ধরে এই ধরনের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখা ইসরাইলের পক্ষে সম্ভব হবে না।

রোববার ইসরাইলের দৈনিক মারিভে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে ব্রিক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সংকট নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক পতনের একটি চিত্র তুলে ধরে। তিনি গত মঙ্গলবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ‘আমরা যে ইসরাইলকে চিনতাম, তার আনুষ্ঠানিক মৃত্যু সনদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিকের মতে, টেলিভিশন ভাষ্যকাররা আসনসংখ্যা ও সরকার গঠনের সমীকরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দেশের গভীর সংকটগুলো উপেক্ষা করছেন।

তিনি এই ধরনের সংবাদ বিশ্লেষণকে টাইটানিক জাহাজের ডুবে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে অর্কেস্ট্রা বাজিয়ে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইসরাইলি সামরিক কলেজগুলোর সাবেক কমান্ডার এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেনাসদস্যদের অভিযোগবিষয়ক ন্যায়পাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্রিক বলেছেন, ইসরাইল এখন আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে। তিনি লেখেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক বৈধতা ও মিত্রদের সমর্থন হারিয়েছি।’ সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে টিকে থাকা দেশটির পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

ইসরাইলের স্থলবাহিনীর কাঠামোগত বিপর্যয় এবং মনোবলের ভাঙন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিক। তার দাবি, দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে আসা একযোগে হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা ইসরাইলি বাহিনীর আর নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিনের যুদ্ধে ক্লান্ত একটি সেনাবাহিনীর পক্ষে বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো কিংবা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিক বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ইসরাইলের জাতীয় ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি শেকেলে (৪৪৫ বিলিয়ন ডলার)। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক বিচ্ছিন্নতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রসঙ্গে ব্রিক বলেন, ইসরাইলি সমাজে এখন শুধু মেরুকরণ নয়, বরং একধরনের ‘নীরব গৃহযুদ্ধ’ চলছে। তার দাবি, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়ছেন। এর ফলে কয়েক দশকের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা দক্ষ জনশক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান হারাচ্ছে ইসরাইল।

ব্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। তার মতে, যোগ্যতা ও সততার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং প্রশ্নহীন সমর্থনকে নিয়োগ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টিসহ বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।

ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি।

সূত্র: আনাদোলু

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সমার্থক। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি মানে আমাদের সকলের জীবনমানের উন্নতি। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই কেবল শ্রমিকদের একার লড়াই নয়, বরং এটি একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার সংগ্রাম।

সোমবার সকালে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসব কথা তুলে ধরেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন যে, দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা শেষ করার পরও অনেক তরুণকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতে হচ্ছে। ফলে, ৩০ হাজার টাকা শ্রমিকের বেতনের দাবি অনেকের কাছে একটি অবাস্তব কল্পনা মনে হতে পারে।

তিনি বলেন, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে দেশের শিক্ষিত, সচেতন এবং পেশাজীবী মানুষের দৃঢ় সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি কেবল একজন শ্রমিকের আয় বৃদ্ধি নয়; এর ইতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে বাজারে চাহিদা বাড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয় এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হয়।

‘মনে রাখতে হবে, শ্রমিকের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি। আর দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি মানেই আপনার-আমার জীবনমানের উন্নতি।

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির লড়াই কেবল শ্রমিকের একার লড়াই নয়, এটি একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার সংগ্রাম।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা এগিয়ে আছেন। প্রাথমিক ফলাফলে তিনি ৫৮ শতাংশ ভোট অর্জন করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গিউরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট। গিউরভ পরাজয় মেনে নিয়ে বলেছেন, ভোটের ফল গ্রহণ করতে হবে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল যদি এই ব্যবধান বজায় রাখে, তবে ইয়োতোভা বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী রাষ্ট্রপ্রধান হবেন।

রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাথমিক হিসাব দেশটির বিভিন্ন জরিপ সংস্থা দিয়েছে। ইয়োতোভা রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, গিউরভ পশ্চিমাপন্থি বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পেয়েছেন।

গিউরভ বলেছেন, "ভোটের ফল মেনে নেওয়া উচিত।" তিনি আরও বলেন, "বুলগেরিয়ার নাগরিকেরা এভাবেই ভোট দিয়েছেন।"

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইয়োতোভাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং জ্বালানির স্বাধীনতা—সব ক্ষেত্রেই যৌথ কাজ অব্যাহত রাখার অপেক্ষায় আছি।"

ভোট-পরবর্তী জরিপে ভোটার উপস্থিতি ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন ২৩ শতাংশ। সেই তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে এবং সোমবার আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক।

৬১ বছর বয়সি ইয়োতোভা গত জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং জয়ী হন। এরপর ইয়োতোভা ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান।

রাজধানী সোফিয়ায় ভোট দিতে গিয়ে ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষক ক্রাসিমিরা কোস্তোভা দুই প্রার্থীর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এএফপিকে তিনি বলেছেন, "দুই প্রার্থীর কাউকেই আমার পছন্দ নয়।" তবুও তিনি ভোট দিয়েছেন।

৬৭ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী পেতার দইচিনভ গত সপ্তাহে প্রথম দফার ভোটে অংশ নেননি। তার ধারণা ছিল, নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াবে। এবার ভোট দিয়ে তিনি বলেছেন, দুই প্রার্থীর কেউই তার "গণতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গির" সঙ্গে মেলে না। তাই তিনি "তুলনামূলক কম খারাপ" প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।

বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে গত মাসে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব হামলার ঘটনায় এখনো ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার অংশ হিসেবে এসব হামলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, হামলাগুলো মস্কোর স্বার্থে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিলেন। তবে তার সরকার বলেছে, হামলার সঙ্গে মস্কোর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ নেই।

দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে টেলিভিশন বিতর্কে গিউরভ ইয়োতোভার সমালোচনা করে বলেন, তিনি হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেননি। গিউরভ বলেছেন, "পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাশিয়াকে অবশ্যই আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।"

ইয়োতোভা জবাবে বলেন, "শুধু আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।"

ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেছেন, তিনি চান "বুলগেরিয়া শক্তিশালী ইউরোপের মধ্যে শক্তিশালী হোক" এবং "নিজের সিদ্ধান্তে সার্বভৌম থাকুক।"

গত সপ্তাহে প্রথম দফার ভোটে ইয়োতোভা ৩৫ শতাংশ এবং গিউরভ ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। জনমত জরিপে ইয়োতোভা ২০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও প্রথম দফার ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল অনেক কম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেওদর স্লাভেভ এএফপিকে বলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার হুমকির বিষয়ে ইয়োতোভার অসন্তোষজনক প্রতিক্রিয়ার মূল্যায়ন করেছেন ভোটাররা।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%