ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে জ্বলবে পুরো বিশ্ব! মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়তে পারে যুদ্ধের ভয়াবহতা


ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে জ্বলবে পুরো বিশ্ব! মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়তে পারে যুদ্ধের ভয়াবহতা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা; পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকিতে কোটি মানুষের জীবন, বিপর্যস্ত হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবসভ্যতা**


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সামরিক সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয় এবং পরিস্থিতি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে এর পরিণতি শুধু ইরান কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোটা বিশ্বকে এক ভয়াবহ মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যকার বিরোধও নতুন মাত্রা পেতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—ইরানকে কেন্দ্র করে কোনো পারমাণবিক সংঘাত শুরু হলে বিশ্বশক্তিগুলো কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, নাকি একের পর এক পাল্টা পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মানবসভ্যতা এক অনিবার্য বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে? ইরানে পারমাণবিক হামলা: সামরিক সংঘাতের সীমা ছাড়িয়ে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে যেকোনো আলোচনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পারমাণবিক অস্ত্র কোনো সাধারণ সামরিক অস্ত্র নয়। এর ব্যবহার একটি দেশের নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনার ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; ব্যাপক প্রাণহানি, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশদূষণ এবং অবকাঠামোগত বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

ইরানে পারমাণবিক হামলা চালানো হলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। একটি দেশের সামরিক শক্তি শুধু দৃশ্যমান স্থাপনা বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। সামরিক সক্ষমতা, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য উপাদানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। ফলে ভয়াবহ হামলার পরও সংঘাত থেমে যাবে, এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বরং সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে সাধারণ মানুষ। শহরাঞ্চল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার ওপর ভয়াবহ চাপ তৈরি হতে পারে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

পারমাণবিক হামলার পরিণতি কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয় না। এর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা হলে তেহরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইসরায়েল—এই দেশগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো সংঘাত যদি এসব দেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো, পরিবহনব্যবস্থা কিংবা বেসামরিক সেবার ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে এর অভিঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং পানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে।

এ ধরনের সংঘাতে বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, পানীয় জল, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একটি দেশের সামরিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় অন্য দেশগুলো জড়িয়ে পড়লে সংঘাতের পরিসর দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে। তখন কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও বাড়তে পারে পারমাণবিক ঝুঁকি

ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউক্রেন যুদ্ধ ইতোমধ্যে ইউরোপের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং রাশিয়া-পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ককে গভীর সংকটের মধ্যে ফেলেছে।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বড় যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মনোযোগ, সামরিক কৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ আরও তীব্র হলে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

তবে ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনে পারমাণবিক হামলা চালাবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘটনাকে পূর্বনির্ধারিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে একটি আশঙ্কা মাত্র। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বহু সামরিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিবেচনা জড়িত।

তবুও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেলে ভুল হিসাব, ভুল সংকেত কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ দিকে নিয়ে যেতে পারে। উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া: এশিয়াতেও তৈরি হতে পারে নতুন সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব শুধু ইউরোপ ও এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নয়। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের জায়গা।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ওপরও নির্ভরশীল।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক হামলা চালাবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়ার ভিত্তি নেই।

আশঙ্কার বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যখন একাধিক সংকটে জর্জরিত থাকে, তখন একটি অঞ্চলের সংঘাত অন্য অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়ানোর অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও ইরান সংকটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় হলে কংগ্রেসে রাজনৈতিক বিরোধিতা বাড়তে পারে এবং প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক অবস্থানের ক্ষেত্রে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান অযৌক্তিক বা বিপজ্জনক সামরিক সিদ্ধান্ত নেবেন—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করা যায় না।

তবে রাজনৈতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ বিরোধ, আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা একসঙ্গে কাজ করলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য হতে পারে ভয়াবহ। বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত: জ্বালানি সংকট থেকে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এর প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পণ্য সরবরাহব্যবস্থায়। জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজারেও।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এমন পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের ওপর চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়, শ্রমবাজার এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পারমাণবিক যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই
আধুনিক বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রকে সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর ব্যবহার কোনো রাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত বিজয় নিশ্চিত করতে পারে না। বরং এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

পারমাণবিক সংঘাতের ফলে শুধু সরাসরি আক্রান্ত দেশ নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সামরিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা থাকে না। অথচ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় তাদের, বিশ্বনেতাদের এখনই দায়িত্বশীল হওয়ার সময়

ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত সংঘাতের বিস্তার রোধ করা। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর উচিত কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা।

পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি কিংবা সামরিক শক্তির প্রদর্শন কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বরং আলোচনার পথ বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

বিশ্বনেতাদের মনে রাখতে হবে, একটি পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত কোনো একক দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—বিশ্ব কি আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে, নাকি ক্ষমতার প্রতিযোগিতা থামিয়ে মানবসভ্যতাকে রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেবে?

মানবসভ্যতার স্বার্থে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতি, প্রতিশোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সামরিক আধিপত্যের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

কারণ পারমাণবিক যুদ্ধে কোনো পক্ষের বিজয় হয় না; ধ্বংসের মুখে পড়ে সমগ্র মানবসভ্যতা।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মানিকগঞ্জ থেকে সুজন সাহা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ পি.এম


টাঙ্গাইলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মানিকগঞ্জ থেকে সুজন সাহা গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল কালিহাতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহান আল্লাহ তা’আলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সুজন সাহা (৩০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তাকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুজন সাহা কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের কর্মকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

 

জানা যায়, গত ২ নভেম্বর টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভবানী বাড়ি দক্ষিণপাড়ায় আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে রফিকুল ইসলাম মাদানীর আগমন উপলক্ষে ‘বাসাইল সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সুজন সাহার ফেসবুক আইডি থেকে মহান আল্লাহ তা’আলা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

অভিযোগে বলা হয়, ওই মন্তব্যে মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বল্লা এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বল্লা বাজার এলাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

 

বিক্ষোভের খবর পেয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অভিযুক্ত সুজন সাহা পলাতক ছিলেন।

 

পরে এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সুজন সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, গ্রেপ্তারকৃত সুজন সাহা বর্তমানে কালিহাতী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাউস্টের ইইই ফেস্টে গবেষণাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


বাউস্টের ইইই ফেস্টে গবেষণাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউস্ট), সৈয়দপুরে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের গবেষণার দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘Research Methodology for Engineering Students: From Proposal to Publication’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাউস্টের ইইই বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই ফেস্ট-২০২৬ উপলক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারও উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরি, গবেষণার পদ্ধতি নির্ধারণ, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং গবেষণাপত্র প্রকাশের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি মানসম্মত গবেষণা পরিচালনা, গবেষণার বিষয় নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান গবেষণার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, পদ্ধতিগত দক্ষতা ও একাডেমিক সততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি গবেষণামুখী হওয়ার এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনারে বাউস্টের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ‘Learn, Research, Innovate’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাউস্ট ইইই বিভাগের উদ্যোগে BAUST EEE FEST-2026 আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, ফ্যাসিবাদবিরোধীদের ঐক্য অটুট বলছেন নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, ফ্যাসিবাদবিরোধীদের ঐক্য অটুট বলছেন নেতারা

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত রাজপথে একত্রিত হয়েছে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ছাত্রসমাজের সঙ্গে মিলিত হয়ে মাঠে লড়াই করেছেন উভয় দলের নেতা-কর্মীরা। পরবর্তীতে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা জাতীয় নাগরিক পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। একটি সময় পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। তবে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্রদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।

ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ফলে কোনো ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা মন্তব্য করেছেন যে ঐক্য এখনও অটুট রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, "বিরোধী দলের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানাই, আপনাদের অন্য যেকোনো কর্মসূচি আছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ব্যাপারে, সেটাকে একপাশে রাখেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্বজনিত পরিস্থিতির কারণে যে সমস্যাগুলো আমাদের ওপর চেপেছে, সে ব্যাপারে আসেন আমরা মিলেমিশে সিদ্ধান্ত নিই।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধীরা যদি একত্রে বসি, তাহলেই সাধারণ মানুষের কাছে একটা ভালো সংবাদ যাবে। এর ফলে কুচক্রী মহল, যারা গার্মেন্টসসহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নানান ছলছুতায় অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা দমে যাবে।"

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন মন্তব্য করেন, "বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপিসহ যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে, তাদের মধ্যে ঐক্য এখনো আছে।"

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "সরকার আমাদের বিরুদ্ধে বলছে, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে বলছি—এটাই তো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে হতে পারে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে প্রত্যেককে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট আছে।"

শুধু গার্মেন্টস শ্রমিকদের সাম্প্রতিক ইস্যু নয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আরও জোরালো করার প্রয়োজনীয়তা সকলেই অনুভব করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরের সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে আগুন, তিন শ্রমিক আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


গাজীপুরের সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে আগুন, তিন শ্রমিক আহত

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় তিন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. হিরণ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। তাদের প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, গ্যাসভর্তি একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আটজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%